নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সার সংকট ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম আদায়ের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বুধবার সন্ধ্যায় বক্তাবলী ইউনিয়নের কানাইনগর বেকারি মোড় এলাকায় এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা সরকারি নিয়ম অমান্য করে সারের বাড়তি দাম আদায় করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় চাষিরা। তাদের ভাষ্যমতে, বর্তমান মৌসুমে সারের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে, যা প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত কৃষকরা জানান, ফসল ফলানোর জন্য এই মুহূর্তে পর্যাপ্ত সারের প্রয়োজন। অথচ বাজারে গেলে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কৃষকরা সেই বাড়তি দাম দিয়েও সময়মতো সার সংগ্রহ করতে পারছেন না। সার সরবরাহ ও বিতরণের এই বিশৃঙ্খলার কারণে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। কানাইনগর এলাকার একাধিক কৃষক অভিযোগ করেছেন যে, ডিলাররা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন এবং সাধারণ কৃষকদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাদের পকেট কাটা হচ্ছে।
বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালীন এলাকার কৃষকরা সমবেত হয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাদের দাবি, অবিলম্বে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার মাধ্যমে ডিলারদের কারসাজি বন্ধ করতে হবে। কৃষকরা এ সময় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সার সরবরাহ স্বাভাবিক না হয় এবং নির্ধারিত মূল্যে সার নিশ্চিত করা না যায়, তবে তারা আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সার সংকটের এই প্রভাব কেবল কানাইনগর নয়, বরং পুরো বক্তাবলী এলাকার কৃষিতে পড়ছে। অধিকাংশ কৃষক এখন ঋণ করে চাষাবাদ করছেন। এমতাবস্থায় সার কিনতে গিয়ে বাড়তি টাকা গুনতে হলে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত তাদের লোকসান গুনতে হবে। তারা স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের দায়সারা আচরণেরও সমালোচনা করেন এবং দ্রুত মাঠ পর্যায়ে তদারকি টিম পাঠানোর দাবি জানান।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কৃষকদের শান্ত করার পাশাপাশি সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তবে বিক্ষোভকারী কৃষকরা জানিয়েছেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত ডিলারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সারের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনা হচ্ছে, ততক্ষণ তাদের এই প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য যে, সারা দেশেই প্রায়শই সারের বাড়তি দাম ও সরবরাহ ঘাটতি নিয়ে কৃষকরা অভিযোগ তুলে থাকেন। কৃষি প্রধান অঞ্চল হিসেবে পরিচিত বক্তাবলীর এই চাষিরা এখন শুধু সারের ন্যায্যমূল্য ও সহজলভ্যতাই কামনা করছেন। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণই এখন আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ । ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ