খুঁজুন
, ,

ইশরাকের পদত্যাগে মেয়র নির্বাচনের পথ কি সুগম হলো?

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
ইশরাকের পদত্যাগে মেয়র নির্বাচনের পথ কি সুগম হলো?

মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে। তাঁর পদত্যাগকে ঘিরে ক্ষমতাসীন বিএনপির ভেতরেও এক ধরনের মতভিন্নতার কথা সামনে এসেছে। দলের একটি অংশ ঘটনাটিকে জবাবদিহি ও শৃঙ্খলার প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের নজির হিসেবে দেখছে। অন্য অংশের কেউ কেউ মনে করছেন, পদত্যাগের পেছনে রাজনৈতিক হিসাবও থাকতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা নগরীর আসন্ন মেয়র নির্বাচন ঘিরে ইশরাকের অবস্থান নিয়ে আলোচনা চলছে।

পদত্যাগের পর ইশরাক জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছে, নির্দেশ দেওয়ার আগে কী আলোচনা হয়েছিল, কিংবা এর সঙ্গে নির্বাচনী কোনো পরিকল্পনার যোগ আছে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর পদত্যাগের তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাটি আলোচনায় থাকলেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে যে ব্যাখ্যাগুলো সামনে এসেছে, সেগুলো এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নয়।

ঘটনাটির রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে বিএনপির ভেতরে একক ব্যাখ্যা নেই। এক পক্ষের দৃষ্টিতে, অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের মতো সংবেদনশীল ঘটনায় পদত্যাগ দায়িত্ব নেওয়ার দৃষ্টান্ত হতে পারে। তাঁদের মতে, ক্ষমতাসীন দলের নেতা বা মন্ত্রিসভার সদস্যদের আচরণের ক্ষেত্রেও জবাবদিহির বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। এই ব্যাখ্যায় পদত্যাগকে ব্যক্তির পদ হারানোর ঘটনা হিসেবে নয়, বরং শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে এ অবস্থান দলের সব অংশের মত কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।

অন্যদিকে, দলের আরেক অংশ পদত্যাগের পেছনে নির্বাচনী কৌশল থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না। তাঁদের ধারণা, ঢাকা নগরীর মেয়র নির্বাচন সামনে রেখে ইশরাকের রাজনৈতিক অবস্থান নতুনভাবে আলোচনায় আসতে পারে। মন্ত্রিসভার দায়িত্বে থাকা এবং নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু পদত্যাগের সঙ্গে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার যোগসূত্র নিশ্চিত করে এমন কোনো ঘোষণা বা সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। তাই এ মুহূর্তে বিষয়টি সম্ভাবনা ও রাজনৈতিক অনুমানের পর্যায়েই রয়েছে।

পদত্যাগের ফলে ইশরাক মেয়র নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, অথবা তাঁর জন্য নির্বাচনী পথ বাস্তবে সহজ হয়েছে কি না—এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়ার মতো তথ্য নেই। প্রার্থিতা, দলীয় মনোনয়ন, নির্বাচনের সময়সূচি কিংবা প্রযোজ্য বিধি নিয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। সেই কারণে পদত্যাগকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি বা মনোনয়ন পাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। ঘটনাটি রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিলেও নির্বাচনী সিদ্ধান্তের সঙ্গে এর সম্পর্ক এখনো স্পষ্ট নয়।

এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি: একদিকে রয়েছে মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা এবং তার পরিণতিতে মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের সরে দাঁড়ানো; অন্যদিকে রয়েছে আসন্ন মেয়র নির্বাচন নিয়ে দলীয় মহলের ব্যাখ্যা। প্রথম বিষয়টি পদত্যাগের তাৎক্ষণিক প্রেক্ষাপট হিসেবে উঠে এসেছে। দ্বিতীয়টি মূলত সম্ভাব্য রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা। এই দুইয়ের মধ্যে নিশ্চিত যোগসূত্র প্রতিষ্ঠিত না হলে পদত্যাগকে নির্বাচনী কৌশল বলা হবে অনুমাননির্ভর।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগের কথা ইশরাক নিজে বলেছেন—এ তথ্য সিদ্ধান্তটির ব্যাখ্যায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক যোগ করেছে। তবে নির্দেশের কারণ বা মন্ত্রিসভায় তাঁর দায়িত্ব ছাড়ার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। একইভাবে, অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাটি নিয়ে কোনো তদন্ত, আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা বা পরবর্তী সিদ্ধান্তের বিবরণও দেওয়া হয়নি। ফলে ঘটনাটির প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিণতি কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে নিশ্চিত বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ সীমিত।

দলের ভেতরের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, পদত্যাগটি শুধু একটি সরকারি পদ ছাড়ার বিষয় হিসেবে আলোচিত হচ্ছে না; এর রাজনৈতিক বার্তা কী, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে প্রতিক্রিয়ার এই ভিন্নতা থেকে দলীয় সিদ্ধান্ত বা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশল সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। মেয়র নির্বাচনে ইশরাকের সম্ভাব্য ভূমিকা নির্ভর করবে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর। সেগুলো স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত পদত্যাগে তাঁর নির্বাচনী পথ সুগম হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো আগেভাগে হবে।

এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনার পর ইশরাক মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পদত্যাগকে কেউ জবাবদিহি ও শৃঙ্খলার বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মেয়র নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য কৌশলের ইঙ্গিত খুঁজছেন। কিন্তু ইশরাক নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, দল তাঁকে মনোনয়ন দেবে কি না, কিংবা পদত্যাগ সেই পথ সহজ করেছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অনিশ্চিত।

সৌদি আরবে স্বাভাবিক বিমান চলাচল, ঢাকা-দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চালু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
   
সৌদি আরবে স্বাভাবিক বিমান চলাচল, ঢাকা-দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চালু

সৌদি আরবের বিমানবন্দর এলাকায় সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ঢাকা-দাম্মাম রুটে ফ্লাইট কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। রাষ্ট্রায়ত্ত এই পতাকাবাহী সংস্থাটি যাত্রীসেবার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের নিয়মিত শিডিউল অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বেশ কিছু এলাকায় বিমানবন্দরকেন্দ্রিক যে অস্থিরতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে বিশেষ করে সৌদি আরবের গন্তব্যগুলোতে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছিল, যার ফলে হাজার হাজার যাত্রী দীর্ঘ প্রতীক্ষার মুখে পড়েছিলেন। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হওয়ায় এই রুটে ফ্লাইট বন্ধ থাকা নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করছিল। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এখন আগের মতোই নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনার সবুজ সংকেত পেয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন আটকে থাকা যাত্রীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন এবং প্রবাসীদের যাতায়াতের সংকট অনেকটাই কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাদের সবকটি রুটেই ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা এখন সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চালুর পাশাপাশি অন্যান্য গন্তব্যেও বিমানের নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কোনো গন্তব্যে ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করতে হলে তা সংশ্লিষ্ট দেশের নিরাপত্তার ওপর ভিত্তি করেই করা হয়। যেহেতু সৌদি আরবের পরিস্থিতির এখন উন্নতি হয়েছে, তাই যাত্রীসেবা নিশ্চিতে বাড়তি তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করার পাশাপাশি সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ আকাশসীমা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটগুলো পুনরায় দাম্মাম রুটে অবতরণ ও উড্ডয়ন করতে সক্ষম হচ্ছে। এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী, যাত্রীদের তাদের ফ্লাইট সংক্রান্ত যেকোনো হালনাগাদ তথ্যের জন্য সরাসরি ওয়েবসাইট বা কল সেন্টারে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইটের সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন আছে কি না, তা যাচাই করে বিমানবন্দরে আসার জন্য যাত্রীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে।

দীর্ঘদিন ফ্লাইট বন্ধ থাকার কারণে যে জট তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থাও করতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে নিয়মিত সূচি অনুযায়ীই ফ্লাইটগুলো পরিচালিত হচ্ছে। সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এটি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি খবর, কারণ কর্মস্থলে ফেরা বা দেশে ফেরার ক্ষেত্রে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা এখন দূর হয়েছে। বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্লাইটগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করলে খুব দ্রুতই যাত্রীদের চাপ সামলে নেওয়া সম্ভব হবে।

এর আগে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার খাতিরে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আকাশপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় বৈশ্বিক এয়ারলাইন্সগুলোর মতোই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিক করেছে। এ বিষয়টি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে, যারা গত কয়েকদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সবসময়ই যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে এবং এই রুটে চলাচলকারী সকল যাত্রীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।

খেলাধুলা জাতীয় ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
   
খেলাধুলা জাতীয় ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, খেলাধুলা কেবল শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বা জয়ের মাধ্যম নয়, এটি একটি জাতির সামগ্রিক মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমাদের সমাজে সংহতি, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং দেশপ্রেমের মতো ইতিবাচক গুণাবলী ছড়িয়ে দিতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। তিনি এক অনুষ্ঠানে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের গুরুত্ব তুলে ধরে এমন মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিযোগিতার মাঠ ছাড়িয়ে খেলাধুলা যখন মানবিক মূল্যবোধের চর্চায় পরিণত হয়, তখনই একটি সুন্দর সমাজ গঠন সহজতর হয়।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নিয়মিত খেলাধুলার চর্চা তরুণ প্রজন্মকে বিপথগামিতা থেকে দূরে রাখে এবং তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি করে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সহমর্মিতার শিক্ষা খেলার মাঠ থেকেই সবচেয়ে কার্যকরভাবে শেখা সম্ভব। হারজিতের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতাকে এগিয়ে রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি খেলায় অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের মধ্যে যে সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি হয়, তা বৃহত্তর পরিসরে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন মেধাবী খেলোয়াড় খুঁজে বের করার ওপরও জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মনে করেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও সুযোগ পেলে আমাদের দেশের অ্যাথলেটরা বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা আরও উঁচুতে তুলে ধরতে সক্ষম হবে। সরকারের পক্ষ থেকে ক্রীড়াবিদদের সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, খেলাধুলা যেন কেবল বিনোদনে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি দেশাত্মবোধক চেতনায় রূপান্তরিত হয়, সেই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে তিনি বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে সুস্থধারার সংস্কৃতির বিকাশে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার এই সময়ে যখন মানুষে মানুষে দূরত্ব বাড়ছে, তখন খেলাধুলা হতে পারে সেতুবন্ধন। এটি কেবল শারীরিক কসরত নয়, বরং এটি একটি জাতির পরিচয় ও সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। সবশেষে তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন নিজেদের শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে নিয়মিত খেলাধুলায় মনোনিবেশ করে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতির সেবায় নিয়োজিত হয়।

চলতি অর্থবছর শেষে মাথাপিছু সরকারি ঋণ দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
   
চলতি অর্থবছর শেষে মাথাপিছু সরকারি ঋণ দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি

বর্তমান ধারায় সরকারি ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকলে ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের ওপর ঋণের বোঝা দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দেশের অর্থনীতির ওপর ঋণের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। সরকারের নেওয়া ঋণ বৃদ্ধির বর্তমান ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই মাথাপিছু ঋণের বোঝা দেড় লাখ টাকার মাইলফলকের কাছে পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি অর্থ বিভাগের সাম্প্রতিক প্রাক্কলন ও বিশ্লেষণ থেকে এমন উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে, যা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও ভবিষ্যতের আর্থিক পরিস্থিতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুন মাস নাগাদ সরকারের মোট ঋণের স্থিতি প্রায় ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ১০০ কোটি টাকায় উন্নীত হতে পারে। এই বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, ঘাটতি বাজেট পূরণ এবং নিয়মিত সরকারি ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারকে ধারাবাহিকভাবে দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে। ঋণের এই লাগামহীন বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে রাজস্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশের সামগ্রিক ঋণ পরিস্থিতির মধ্যে বিদেশি ঋণের পরিমাণও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত জুন মাস শেষে দেশের মোট বিদেশি ঋণের স্থিতি ১১৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ এবং ডলারের বিনিময় হারের অস্থিরতার মধ্যে ঋণের এই উচ্চ হার অর্থনীতিতে বড় ধরনের ঝুঁকির বার্তা দিচ্ছে। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময় ঘনিয়ে আসায় আগামী দিনগুলোতে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কেবল ঋণের সংখ্যা বা পরিমাণ বাড়লেই উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয় না, বরং সেই ঋণের ব্যবহার কতটা উৎপাদনশীল খাতে হচ্ছে, তা-ই মুখ্য। বর্তমানে দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ থাকলেও তার সুফল পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার কারণে ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা আরও বাড়ছে। ঋণের টাকা যদি সঠিকভাবে উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় না হয়, তবে ভবিষ্যতে তা সুদসহ পরিশোধ করা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

সরকার যদি বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় কেবল ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল থাকে, তবে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এর ফলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একইসঙ্গে বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রকল্পগুলোর অর্থনৈতিক উপযোগিতা যাচাই-বাছাই করা এবং রাজস্ব আয় বাড়ানোর কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

পরিশেষে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঋণের এই বোঝা সহনশীল পর্যায়ে রাখা। মাথাপিছু ঋণের দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছানোর এই প্রাক্কলন নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতের অর্থনীতির সুরক্ষায় ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

সর্বশেষ
সৌদি আরবে স্বাভাবিক বিমান চলাচল, ঢাকা-দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চালু খেলাধুলা জাতীয় ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করে: প্রধানমন্ত্রী চলতি অর্থবছর শেষে মাথাপিছু সরকারি ঋণ দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় গুণ যাকে বুক দেখায়, তাকে পিঠ দেখায় না — মির্জা ফয়সল প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয় ভাঙার চেষ্টা: গ্রেফতার ছাত্রলীগ নেতা ইশরাকের পদত্যাগে মেয়র নির্বাচনের পথ কি সুগম হলো? এমআরইউ ও ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতালের মধ্যে করপোরেট স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি ১৬০ রানে থেমে বিদায় বাংলাদেশের, ফাইনালে আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে মহাখালীতে ট্রেনের ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু ফেসবুক পেজ খুলে চাকরির নামে প্রতারণা, গ্রেফতার ২
Advertisement