খুলনায় নদী পার করার প্রলোভনে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার ৩

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ । ৩:১৪ অপরাহ্ণ

খুলনার তেরখাদা উপজেলায় নদী পার করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে নৌকায় তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ভয়াবহ অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার দিনগত গভীর রাতে উপজেলার মধুপুর শ্যামনগর এলাকার একটি পরিত্যক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতনের শিকার ওই নারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারী সোমবার রাতে নদী পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় স্থানীয় তিন যুবক তাকে নদী পার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নৌকায় ওঠার জন্য অনুরোধ জানায়। তাদের বিশ্বাস করে ভুক্তভোগী নারী নৌকায় উঠলে তাকে কৌশলে মধুপুর শ্যামনগর এলাকার পুরাতন প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে গিয়ে তাকে জোরপূর্বক সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। নির্যাতনের পর তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের তৎপরতা ও পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপে আসামিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

গ্রেফতারকৃতদের বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃত তিন যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তেরখাদা উপজেলার মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মিকাঈল শেখের ছেলে সামিউল শেখ এবং একই গ্রামের মো. আলমগীর কাজীর ছেলেসহ মোট তিনজনকে এই মামলার আসামি হিসেবে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পরেই ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ওসিসি ইউনিটে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা আশঙ্কাজনক হলেও চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করছেন।

এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নারী ও শিশুর প্রতি এ ধরনের অপরাধ অত্যন্ত গর্হিত এবং জঘন্য। ঘটনাটির তদন্তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হচ্ছে এবং ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অপরাধীরা স্থানীয়ভাবে পরিচিত এবং তারা ঘটনার পরিকল্পনা আগে থেকেই করেছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার ফলে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, নির্যাতনের শিকার নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাকে দ্রুত সুস্থ করে তোলাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি আসামিদের রিমান্ডে এনে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হবে। এই ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এ ধরনের পৈশাচিক কাজে লিপ্ত হওয়ার সাহস না পায়।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন