খুঁজুন
, ,

জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ, তুলে ধরলেন চার কারণ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ, তুলে ধরলেন চার কারণ

জাতীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের চমক দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির বিশিষ্ট নেত্রী সামান্তা শারমিন। গত ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বার্তার মাধ্যমে তিনি দল ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তার এই পদত্যাগপত্র প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সামান্তা শারমিন কেবল পদত্যাগ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং দল থেকে বেরিয়ে আসার পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু মৌলিক কারণ জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন।

সামান্তা শারমিনের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে জানা যায়, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে দলের ভেতরের পরিবেশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ লালন করছিলেন। তিনি তার পদত্যাগের পেছনে চারটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির জোট গঠন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, দলের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান এবং জামায়াতের সঙ্গে কৌশলগত জোট করার বিষয়টি তার আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মূলত, এই জোটবদ্ধ রাজনীতিকে তিনি দলের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের পরিপন্থী হিসেবে মনে করছেন।

দ্বিতীয়ত, তিনি বড় কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করে নির্বাচন করার যে প্রবণতা এনসিপির মধ্যে দেখা যাচ্ছে, তার তীব্র সমালোচনা করেছেন। সামান্তা শারমিন মনে করেন, একটি রাজনৈতিক দলের স্বতন্ত্র সত্তা ও বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা জরুরি। অন্য কোনো বড় দলের অনুগামী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে দলের নিজস্ব এজেন্ডা ও জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। এটি রাজনৈতিক দলের স্বাধীন অস্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।

তৃতীয়ত, সামান্তা শারমিন নারী নেতৃত্বের মর্যাদা ও ক্ষমতায়ন নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তার অভিযোগ, দলের ভেতরে নারী নেতৃত্বকে সম্মানজনক অবস্থানে রাখার ক্ষেত্রে এনসিপি ব্যর্থ হয়েছে। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের কার্যকর অংশগ্রহণ এবং তাদের যথাযথ মূল্যায়ন না করার বিষয়টি তাকে পীড়া দিয়েছে। তিনি মনে করেন, প্রকৃত গণতন্ত্র চর্চার জন্য দলের ভেতরে নারী-পুরুষের সমতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি ছিল।

চতুর্থ ও সর্বশেষ কারণ হিসেবে তিনি দলের সাংগঠনিক অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, নিয়ম অনুযায়ী কাউন্সিল আয়োজন না করেই এনসিপির নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণরূপে অগণতান্ত্রিক এবং দলের গঠনতন্ত্রবিরোধী বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। কাউন্সিল ছাড়া এভাবে কমিটি চাপিয়ে দেওয়া দলের তৃণমূল কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে এবং এর ফলে দলের ভেতরে এক ধরনের একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামান্তা শারমিনের মতো একজন নেত্রীর এভাবে সরে দাঁড়ানো জাতীয় নাগরিক পার্টির জন্য বড় ধরনের ধাক্কা। তার এই পদত্যাগ দলের অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও উসকে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, যখন দলটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্ত দলের ভাবমূর্তিতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সামান্তা শারমিনের পরবর্তী রাজনৈতিক গন্তব্য কী হবে বা তিনি কোনো নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি। তার এই আহ্বানের পর দলের উচ্চপদস্থ কোনো নেতৃত্বের তরফ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ভুটানের বিপক্ষে গোলখরায় বাংলাদেশ: স্ট্রাইকার হিসেবে বিশ্বনাথের চমক কাজে এলো না

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
   
ভুটানের বিপক্ষে গোলখরায় বাংলাদেশ: স্ট্রাইকার হিসেবে বিশ্বনাথের চমক কাজে এলো না

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মহারণে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে ভুটানের বিপক্ষে গোল করার নেশায় মরিয়া হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ। তবে জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমার্ধ জুড়ে বাংলাদেশের আক্রমণভাগ যেন নিজেদের ছায়া হয়ে ছিল। গোল করার মতো অসংখ্য সুযোগ তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত ভুটানের রক্ষণদুর্গ ভাঙতে ব্যর্থ হয়েছে স্বাগতিক দল। দিনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল বাংলাদেশ দলের কোচ টমাস ডুলির ট্যাকটিক্যাল চমক। নিয়মিত ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষকে তিনি এবার স্ট্রাইকার পজিশনে বা নম্বর নাইন হিসেবে মাঠে নামিয়েছিলেন। দলের এই সাহসী ও ভিন্নধর্মী সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পর থেকেই বাংলাদেশ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা চালায়। তবে ভুটানের সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগকে পরাস্ত করতে বেগ পেতে হয় স্বাগতিকদের। মাঝমাঠে হামজা চৌধুরীর অনুপস্থিতি যেন অনেকটাই অনুভূত হয়েছে এই ম্যাচে। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগে বল সরবরাহে কিছুটা ছন্দপতনের কারণে ফিনিশিংয়ে দুর্বলতা ছিল স্পষ্ট। একের পর এক আক্রমণ সাজালেও গোলপোস্টের লক্ষ্যভেদ করতে না পারার আক্ষেপ নিয়েই বিরতিতে যেতে হয়েছে খেলোয়াড়দের। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সকে মূলত গোল মিসের মহড়া হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রথমার্ধে বাংলাদেশ দলের খেলার ধরন ছিল বেশ আক্রমণাত্মক, কিন্তু গোল আদায়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কৌশলের অভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশ্বনাথ ঘোষকে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলানোর সিদ্ধান্তটি কতটা কার্যকর হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। যদিও কোচ ডুলি চেয়েছিলেন তার উচ্চতা এবং শারীরিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ভুটানের রক্ষণব্যূহ ভেদ করতে, কিন্তু বাস্তবে তা প্রত্যাশিত ফলাফল বয়ে আনতে পারেনি। বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা বারবার ভুটানের ডি-বক্সের আশেপাশে বল নিয়ে গেলেও সঠিক সময়ে সঠিক শট নেওয়ার অভাব ছিল প্রকট। ভুটান খুব একটা আক্রমণাত্মক ফুটবল না খেললেও, বাংলাদেশের অগোছালো আক্রমণের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেশ কয়েকটি পাল্টা আক্রমণের চেষ্টাও চালিয়েছে তারা। তবে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ তুলনামূলকভাবে সতর্ক থাকায় প্রথমার্ধে ভুটান খুব একটা বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি।

জাতীয় স্টেডিয়ামের দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল প্রথম ম্যাচেই জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করবে বাংলাদেশ। কিন্তু প্রথমার্ধের খেলা শেষে মাঠের চিত্র ভিন্ন। দুই দলই গোলহীন অবস্থায় ড্রেসিংরুমে ফিরেছে। দ্বিতীয়ার্ধে কৌশল পরিবর্তন করে বাংলাদেশ কোচ দলকে গোল পেতে মরিয়া করে তুলবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দলের প্রধান স্ট্রাইকারদের গোল করতে না পারার ব্যর্থতা সামলাতে কি ধরনের পরিবর্তন আনা হয় বা বিশ্বনাথের পজিশন পরিবর্তন করা হয় কি না, তা নিয়ে এখন সবার নজর। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রমাণ করার জন্য বাংলাদেশের সামনে এখন গোল আদায় করাই একমাত্র লক্ষ্য। দ্বিতীয়ার্ধে স্বাগতিক দল কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে এবং রক্ষণভাগ ভেঙে ভুটানের জালে বল জড়াতে সক্ষম হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নতুন মেরুকরণের আভাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
   
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নতুন মেরুকরণের আভাস

বর্তমান বিশ্বে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রতিদিনই যেন নতুন কোনো সংঘাত বা কূটনীতির মারপ্যাঁচ তৈরি হচ্ছে। বিশ্বনেতাদের নীরব সিদ্ধান্ত এবং কৌশলগত অবস্থানের কারণে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী—সবাই এখন চোখ রাখছেন বৈশ্বিক ঘটনাবলির দিকে, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপ ভবিষ্যতের এক নতুন দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। ৫ নভেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবারের আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে স্পষ্ট হয় যে, বিশ্বের রাজনৈতিক আকাশ আবারও মেঘাচ্ছন্ন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থাহীনতা এবং আধিপত্য বিস্তারের লড়াই আন্তর্জাতিক অঙ্গনকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান সময়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ নেই। সংঘাতের আগুন নতুন নতুন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে এবং প্রতিরক্ষা খাতের নীরব প্রস্তুতি বিশ্বজুড়ে এক ধরনের উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো অস্ত্রগুলোও বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল পর্যন্ত—সবখানেই এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রতিটি রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণী মহলে এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে জাতীয় নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত জোট গঠন।

তবে কেবল সংঘাত নয়, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় অর্থনৈতিক সম্পর্কের ধরণও দ্রুত বদলাচ্ছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন জোট গঠন এবং সরবরাহ শৃঙ্খল রক্ষায় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব দৃশ্যমান। প্রযুক্তির লড়াই এবং সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টিও এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির মূল আলোচনার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান না খুঁজে রাষ্ট্রগুলো একে অন্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা বিশ্বশান্তির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিচ্ছে।

এই জটিল সময়ে সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের অস্বস্তি কাজ করছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জনজীবনে নেমে আসছে দুর্ভোগ। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো শান্তি ও স্থিতিশীলতার আহ্বান জানালেও, বাস্তব পরিস্থিতি বলছে অন্য কথা। ক্ষমতার এই প্রতিযোগিতায় ছোট দেশগুলো প্রায়শই বড় দেশগুলোর খেলার মাঠ হয়ে উঠছে। কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলের সমস্যা এখন আর স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং তা বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলছে। আগামী দিনগুলোতে বিশ্ব রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে নানা মুনির নানা মত থাকলেও একটি বিষয় নিশ্চিত—বর্তমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সমাধান খুব একটা সহজসাধ্য নয়। প্রয়োজন পারস্পরিক সংলাপ এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার মানসিকতা, যা বর্তমান সময়ের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বড়ই অভাব।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানি কমলেও বাংলাদেশের অংশীদারত্ব বাড়ল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
   
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানি কমলেও বাংলাদেশের অংশীদারত্ব বাড়ল

বিশ্বজুড়ে তৈরি পোশাকের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ এখনো কিছুটা কম দামে পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির সামগ্রিক চিত্রে বড় ধরনের পতন দেখা গেলেও বাংলাদেশ তার সক্ষমতার প্রমাণ রেখে বাজারের বড় একটি অংশ দখল করে রেখেছে। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের অধীন অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করলে এই চিত্র স্পষ্ট হয় যে, দেশটিতে পোশাকের চাহিদা কমার নেতিবাচক প্রভাব অন্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের ওপর তুলনামূলক কম পড়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক আমদানি সব মিলিয়ে ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা এবং ভোক্তা পর্যায়ে চাহিদার সংকোচনের কারণে মূলত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির পরিমাণ ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমেছে। যদিও আমদানির এই হার হ্রাস পাওয়া উদ্বেগজনক, তবে সামগ্রিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি কমার গতি ধীর হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব বা মার্কেট শেয়ার বরং বেড়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, সংকটকালীন সময়েও মার্কিন ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশ এখনো আস্থার জায়গা দখল করে আছে।

বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে পোশাকের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে পণ্য সরবরাহ করতে পারায় প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে সুবিধা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় বাজারে পণ্য রপ্তানি ধরে রাখা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং কর্মসংস্থানের বড় একটি অংশ এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। তবে কেবল কম দামে পণ্য বিক্রি করাই দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের পথ হতে পারে না। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করতে না পারলে ভবিষ্যতে লাভের অংক কমে যেতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারের সাম্প্রতিক এই নেতিবাচক প্রবণতা কেবল বাংলাদেশের জন্যই নয়, বরং বড় বড় পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্যই চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে মার্কেট শেয়ার বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রেতারা এবং ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশ থেকে পণ্য নিতে এখনো আগ্রহী। পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, বৈশ্বিক চাহিদার এই ধীরগতি কাটিয়ে ওঠার জন্য পণ্যের বৈচিত্র্য আনা এবং উৎপাদন সক্ষমতা আধুনিকায়নের কোনো বিকল্প নেই। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কিছুটা সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহ করে বাজার ধরে রেখেছে, তবে টেকসই উন্নয়নের জন্য উচ্চমূল্যের পোশাক রপ্তানির দিকে নজর দেওয়া এখন সময়ের দাবি। সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক মন্দার মধ্যেও মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখা একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সর্বশেষ
ভুটানের বিপক্ষে গোলখরায় বাংলাদেশ: স্ট্রাইকার হিসেবে বিশ্বনাথের চমক কাজে এলো না জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ, তুলে ধরলেন চার কারণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নতুন মেরুকরণের আভাস যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানি কমলেও বাংলাদেশের অংশীদারত্ব বাড়ল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভুটানের বিপক্ষে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মিশনে বাংলাদেশ নিরাপত্তা নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই, জানালেন ভারত কোচ নওশাদ মুসা জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন সাভারের আশুলিয়ায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, দুপুরের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক দামি মোমবাতির বিকল্প: ঘর সাজান পানি ও তেলের জাদুকরী আলোয় বারাণসীর যানজট নিরসনে নতুন আশার আলো, রোপওয়ে সেবায় মাত্র ১৫ মিনিটে গন্তব্যে