বিশ্বজুড়ে তৈরি পোশাকের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ এখনো কিছুটা কম দামে পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির সামগ্রিক চিত্রে বড় ধরনের পতন দেখা গেলেও বাংলাদেশ তার সক্ষমতার প্রমাণ রেখে বাজারের বড় একটি অংশ দখল করে রেখেছে। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের অধীন অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করলে এই চিত্র স্পষ্ট হয় যে, দেশটিতে পোশাকের চাহিদা কমার নেতিবাচক প্রভাব অন্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের ওপর তুলনামূলক কম পড়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক আমদানি সব মিলিয়ে ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা এবং ভোক্তা পর্যায়ে চাহিদার সংকোচনের কারণে মূলত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির পরিমাণ ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমেছে। যদিও আমদানির এই হার হ্রাস পাওয়া উদ্বেগজনক, তবে সামগ্রিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি কমার গতি ধীর হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব বা মার্কেট শেয়ার বরং বেড়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, সংকটকালীন সময়েও মার্কিন ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশ এখনো আস্থার জায়গা দখল করে আছে।
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে পোশাকের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে পণ্য সরবরাহ করতে পারায় প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে সুবিধা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় বাজারে পণ্য রপ্তানি ধরে রাখা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং কর্মসংস্থানের বড় একটি অংশ এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। তবে কেবল কম দামে পণ্য বিক্রি করাই দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের পথ হতে পারে না। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করতে না পারলে ভবিষ্যতে লাভের অংক কমে যেতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারের সাম্প্রতিক এই নেতিবাচক প্রবণতা কেবল বাংলাদেশের জন্যই নয়, বরং বড় বড় পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্যই চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে মার্কেট শেয়ার বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রেতারা এবং ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশ থেকে পণ্য নিতে এখনো আগ্রহী। পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, বৈশ্বিক চাহিদার এই ধীরগতি কাটিয়ে ওঠার জন্য পণ্যের বৈচিত্র্য আনা এবং উৎপাদন সক্ষমতা আধুনিকায়নের কোনো বিকল্প নেই। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কিছুটা সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহ করে বাজার ধরে রেখেছে, তবে টেকসই উন্নয়নের জন্য উচ্চমূল্যের পোশাক রপ্তানির দিকে নজর দেওয়া এখন সময়ের দাবি। সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক মন্দার মধ্যেও মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখা একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ । ৮:১৫ অপরাহ্ণ