খুঁজুন
, ,

গাজীপুরের কারখানাগুলোতে কর্মচঞ্চল পরিবেশ, কাজে ফিরলেন শ্রমিকরা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
গাজীপুরের কারখানাগুলোতে কর্মচঞ্চল পরিবেশ, কাজে ফিরলেন শ্রমিকরা

কয়েক দিনের টানা আন্দোলন ও উত্তেজনার পর গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলগুলোতে অবশেষে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলার গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকাগুলোতে পোশাক কারখানাগুলোর শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিতে দেখা গেছে। ন্যূনতম মজুরি কাঠামো সংশোধন এবং শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করার মতো বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। কারখানাগুলোর সামনে শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের সেই ভিড় ও বিক্ষোভের পরিবর্তে আজ দেখা গেছে কাজে ফেরার ব্যস্ততা। গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল বিশেষ করে কালিয়াকৈর উপজেলার শফিপুর, চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার পাশাপাশি মহানগরীর ভোগড়া বাইপাস, কোনাবাড়ি, কাশিমপুর এবং সালনা এলাকার কারখানাগুলোতে শ্রমিকরা যথাসময়ে উপস্থিত হয়ে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছেন। কারখানাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাড়তি সতর্কতার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টাও চোখে পড়ার মতো ছিল।

স্থানীয় শ্রমিক ও কারখানার একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শ্রমিকদের মধ্যে যেসব যৌক্তিক দাবি ছিল তা নিয়ে মালিকপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, তারা কাজ বন্ধ রেখে অচলাবস্থা তৈরি করতে চান না, তবে তাদের দাবিগুলোও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। কারখানার ভেতরে কাজের পরিবেশ স্বাভাবিক থাকায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উৎপাদন কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। শ্রমিকদের কাজে ফেরার এই প্রবণতাকে এলাকার সামগ্রিক অস্থিরতা নিরসনের একটি ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন শিল্প মালিকরা। কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দেওয়ার ফলে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কেটে গিয়ে আবারও সচল হচ্ছে গাজীপুরের পোশাক শিল্প।

এর আগে, গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিলেন, যার ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। তবে বুধবার রাত থেকেই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে শুরু করে। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হওয়ায় যান চলাচলও এখন নির্বিঘ্নে চলছে। স্থানীয় প্রশাসন ও শিল্প পুলিশ নিয়মিত টহল জোরদার রেখেছে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা নতুন করে তৈরি না হয়। শ্রমিকদের দাবি, আন্দোলন কোনো সমাধান নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমেই তাদের সমস্যার প্রকৃত সমাধান সম্ভব। আপাতত সব কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক থাকায় মালিকপক্ষের স্বস্তি ফিরেছে এবং রপ্তানি বাণিজ্যে যে ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কেটে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে গাজীপুরের পোশাক শিল্পে এখন স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে।

রাউজানে আট পিস্তল প্রদর্শন করে ফের আলোচনায় ‘বুলেট হৃদয়’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
রাউজানে আট পিস্তল প্রদর্শন করে ফের আলোচনায় ‘বুলেট হৃদয়’

চট্টগ্রামের রাউজানে পুনরায় অপরাধ জগতের এক পরিচিত মুখকে কেন্দ্র করে জনমনে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। হৃদয় ওরফে বুলেট নামে পরিচিত এক চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের শক্তির মহড়া দেখাতে একসঙ্গে আটটি অত্যাধুনিক বিদেশি পিস্তল প্রদর্শন করেছে। তার এই কর্মকাণ্ডের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ এখন প্রশ্ন তুলছেন, প্রকাশ্যে এমন অস্ত্রের ঝনঝনানি কীভাবে সম্ভব হচ্ছে।

তদন্তে জানা যায়, হৃদয় ওরফে বুলেট এর আগেও একাধিকবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ছবি প্রকাশ করে আলোচনায় এসেছিলেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তাকে পিস্তল হাতে বিভিন্ন ভঙ্গিতে ছবি পোস্ট করতে দেখা গেছে। সেই সময় থেকেই স্থানীয় সচেতন মহলে তাকে নিয়ে সমালোচনা ও ভয়ের সৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, বারবার এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা সত্ত্বেও তাকে আইনের আওতায় আনার বা তার কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তেমন কোনো জোরালো বা দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

সদ্য ভাইরাল হওয়া নতুন ভিডিওটিতে দেখা যায়, হৃদয় টেবিলের ওপর আটটি অত্যাধুনিক বিদেশি পিস্তল সাজিয়ে রেখেছে। ভিডিওতে তাকে সরাসরি হুমকি দিতেও শোনা গেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এমন ঘটনা কেবল রাউজানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং অপরাধীদের বেপরোয়া মনোভাবকেও স্পষ্ট করে তুলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে যারা অবৈধ অস্ত্রের কারবার করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নিলে জননিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে।

এর আগেও তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করা ছবিগুলো নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল, কিন্তু তাতে পরিস্থিতির কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোনো অপরাধী যখন বারবার আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে, তখন তার পেছনে কোনো অদৃশ্য শক্তির মদত থাকতে পারে। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না আনা হয়, তবে রাউজানের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন।

এখন পুরো বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে কিনা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ বিশেষ কোনো অভিযান পরিচালনা করবে কিনা—তা নিয়ে রাউজানের সাধারণ মানুষ এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ‘বুলেট হৃদয়’ নামক এই ব্যক্তির দৌরাত্ম্য আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভরাডুবি: প্রকাশ্যে ট্রাম্প-ভ্যান্সের পারস্পরিক দোষারোপ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভরাডুবি: প্রকাশ্যে ট্রাম্প-ভ্যান্সের পারস্পরিক দোষারোপ

যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য সমাপ্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির আশানুরূপ ফলাফল না আসায় দলের ভেতরে তীব্র অস্থিরতা এবং কোন্দল প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এখন স্পষ্ট বিভাজন দেখা যাচ্ছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স একে অপরকে পরোক্ষভাবে এই শোচনীয় হারের জন্য দায়ী করছেন। প্রতিনিধি পরিষদ থেকে শুরু করে সিনেট, গভর্নর নির্বাচন এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনসভায় রিপাবলিকান প্রার্থীরা যে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন, তা দলের দীর্ঘমেয়াদী কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পরপরই দলের ভেতরে শীর্ষ পর্যায়ের এই দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্য বাড়তে শুরু করে। ট্রাম্প ও ভ্যান্সের মধ্যকার যে ঐক্যবদ্ধ চিত্র নির্বাচনের আগে জনসম্মুখে ছিল, তা এখন আর দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচনী প্রচারণার কৌশল এবং প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যেসব ভুল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েই এখন চলছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। ভ্যান্সের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের অনেকে মনে করছেন, ট্রাম্পের কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং প্রচারণার ধরন ভোটারদের একটি বড় অংশকে দূরে ঠেলে দিয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প শিবির ভ্যান্সের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ঘাটতি এবং দলীয় কর্মীদের ওপর তার নিয়ন্ত্রণের অভাবকে হারের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল কেবল দুই নেতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো রিপাবলিকান শিবিরে। দলের মাঝারি সারির নেতারা এবং তৃণমূলের কর্মীরাও এখন বিভ্রান্ত। নির্বাচনের পর থেকেই দলের ভেতরে এক ধরনের নেতৃত্ব সংকটের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। হারের দায়ভার গ্রহণ করার পরিবর্তে একে অপরের ওপর দোষ চাপানোর এই প্রবণতা সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও দলের ভাবমূর্তিকে সংকটাপন্ন করে তুলছে। দলের অভ্যন্তরে থাকা একাধিক সূত্র জানাচ্ছে, হারের পর থেকেই ট্রাম্প ও ভ্যান্সের মধ্যকার ব্যক্তিগত যোগাযোগ হ্রাস পেয়েছে এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে তাদের সমন্বয়ের অভাব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে।

এমনকি দলের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী ব্যক্তিদের মধ্যেও এই বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কেউ ট্রাম্পের রক্ষণশীল নীতির পক্ষে কথা বলছেন, আবার কেউ ভ্যান্সের কিছুটা আধুনিক ও তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার পক্ষে মত দিচ্ছেন। নির্বাচনের পর দলের ভবিষ্যৎ কৌশল ঠিক করার পরিবর্তে এই কোন্দল রিপাবলিকান পার্টিকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে, আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হলে দলের অভ্যন্তরীণ এই ফাটল দ্রুত নিরাময় করা প্রয়োজন।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দলের প্রভাবশালী নেতারাও এখন প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে দ্বিধাবোধ করছেন না। ট্রাম্পের পাশে থাকা কিছু নেতা এখন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নতুন নেতৃত্বের কথা বলছেন, আবার অনেকেই মনে করছেন ভ্যান্সের বর্তমান অবস্থানের নড়বড় হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পুরো বিষয়টি এখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিপাবলিকান পার্টি এই অভ্যন্তরীণ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সব মিলিয়ে, হারের পর রিপাবলিকানদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজেদের ঘর সামলানো। একে অপরকে দোষারোপ করার এই সংস্কৃতি দলের তৃণমূল পর্যায়েও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা আগামী নির্বাচনে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: একদিনে গ্রেফতার ৫৭৭

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: একদিনে গ্রেফতার ৫৭৭

রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় বড় ধরনের সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বুধবার রাজধানীজুড়ে চালানো পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে মোট ৫৭৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একই সময়ে ৫৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এই বিশেষ তৎপরতা চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

ডিএমপির বিভিন্ন জোনের তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অপরাধ প্রবণতা এবং পুলিশের তৎপরতার ভিত্তিতে গ্রেফতারের হারে ভিন্নতা রয়েছে। এই ২৪ ঘণ্টায় প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, রাজধানীর ওয়ারী বিভাগে ৯৪ জন এবং মতিঝিল বিভাগে ৮৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া লালবাগ বিভাগে ৪২ জন এবং রমনা বিভাগে ৩৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে সকল এলাকার মধ্যে মিরপুর বিভাগে গ্রেফতারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যা পুলিশের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমকে নির্দেশ করে। নগরীর প্রতিটি এলাকায় অপরাধীদের অবস্থান নিশ্চিত করতে এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই আগে থেকে বিচারাধীন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, আবার অনেকেই নতুন করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার অভিযোগে আটক হয়েছেন। অভিযান চলাকালীন প্রতিটি এলাকায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে জনবহুল এলাকা এবং অপরাধপ্রবণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগরীতে অপরাধের ধরণ এবং কৌশল পরিবর্তনের সাথে সাথে পুলিশি অভিযানের কৌশলেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমান সময়ে সাইবার অপরাধসহ অন্যান্য অপরাধ দমনে প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং গোয়েন্দা নজরদারি আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় অপরাধচক্র শনাক্ত করতে সহায়তা করবে বলে আশা করছে পুলিশ প্রশাসন।

নগরবাসীও মনে করছেন, পুলিশের এ ধরনের নিয়মিত অভিযান নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ছিনতাই, মাদক ব্যবসা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রোধে পুলিশের কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফেরাতে সাহায্য করে। ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাগরিক সেবার মান উন্নয়ন এবং শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এ ধরনের বিশেষ অভিযানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের সচেতনতা এবং তথ্য দিয়ে সহায়তার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও যেকোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তাদের টহল এবং নজরদারি কার্যক্রমের পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

সর্বশেষ
রাউজানে আট পিস্তল প্রদর্শন করে ফের আলোচনায় ‘বুলেট হৃদয়’ যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভরাডুবি: প্রকাশ্যে ট্রাম্প-ভ্যান্সের পারস্পরিক দোষারোপ রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: একদিনে গ্রেফতার ৫৭৭ রাজধানীর কদমতলীতে ট্রাকচাপায় দুই অটোরিকশাচালক নিহত গাজীপুরের কারখানাগুলোতে কর্মচঞ্চল পরিবেশ, কাজে ফিরলেন শ্রমিকরা শরতের ছুটি কাটাতে নর্থ নরফোকের নিরিবিলি নিসর্গ কেনাকাটায় ক্যাশব্যাক: উৎসবের আমেজে সাশ্রয়ের সুযোগ ইরানের সঙ্গে সংঘাত ও ইসরায়েলে সহায়তা বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে তোলপাড় মার্কিন রাজনীতি চুলের যত্নে হলুদের ব্যবহার: কতটা কার্যকর আর কী নিয়ম? ইতালিতে কঠোর হচ্ছে অভিবাসন নীতি, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা