খুঁজুন
, ,

অক্টোবর মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১২ জনের প্রাণহানি, আহত তিন শতাধিক

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
অক্টোবর মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১২ জনের প্রাণহানি, আহত তিন শতাধিক

অক্টোবর মাসজুড়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, তা জনমনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সংঘাত, দলীয় কোন্দল এবং নিজেদের মধ্যে বিরোধের জেরে যে সহিংসতা দেখা দিয়েছে, তার পরিসংখ্যান রীতিমতো উদ্বেগজনক। মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, গত অক্টোবর মাসে সারাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতাকে কেন্দ্র করে মোট ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া এ সময়কালে রাজনৈতিক দলের কর্মী ও সাধারণ মানুষ মিলিয়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৩৩৪ জন। রাজনৈতিক সহনশীলতার অভাব এবং মতাদর্শের লড়াই যখন সহিংসতায় রূপ নেয়, তখন তার বড় মাশুল গুনতে হয় সাধারণ মানুষকে, যা দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরণের হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সহিংসতা কেবল প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং অনেক ক্ষেত্রে নিজ নিজ দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং আধিপত্য বিস্তারের জেরেও এসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। জাতীয় পর্যায়ে প্রকাশিত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদ এবং নিজস্ব পর্যবেক্ষণ থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে আসা খবরগুলো যাচাই-বাছাই করেই এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে, যা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি করুণ প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। সাধারণত নির্বাচন বা বড় কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় সহিংসতা বাড়লেও, স্বাভাবিক সময়েও এমন ধরনের হতাহতের ঘটনা রাজনৈতিক মাঠের অস্থিরতাকে স্পষ্ট করে তোলে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনসেবা এবং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসন করা। কিন্তু যখন ক্ষমতার লড়াই বা দলীয় আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে অস্ত্রের ভাষায় কথা বলা হয়, তখন গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়ে। অক্টোবরের এই পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যার বিচারে নয়, বরং সামাজিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা প্রয়োজন। আহত ৩৩৪ জনের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ও মানসিক ট্রমার শিকার হতে পারেন, যা তাদের ব্যক্তিগত জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলবে। রাজনৈতিক সহিংসতা দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সদিচ্ছা প্রদর্শনের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের উচিত তাদের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের সংযত রাখা এবং সহিংস কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার কড়া বার্তা দেওয়া।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের অভাব এবং অসহিষ্ণু মনোভাবই সংঘাতের প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। প্রতিটি রাজনৈতিক দল যদি তাদের কর্মীদের সহিংস পথ থেকে ফেরাতে ব্যর্থ হয়, তবে এ ধরনের অস্থিতিশীলতা বাড়তেই থাকবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর এমন নজরদারি ও প্রতিবেদন প্রকাশের ফলে জনসচেতনতা তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকলেও, প্রকৃত সমাধান আসবে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব দায়িত্ববোধ থেকে। রাষ্ট্র যদি আইনের শাসন কঠোরভাবে প্রয়োগ না করে, তবে এসব অপরাধী পার পেয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। আগামীর দিনগুলোতে রাজনৈতিক পরিবেশ শান্ত রাখতে এবং অহেতুক রক্তপাত এড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বকে আলোচনার টেবিলে বসা এবং সহিংস পথ পরিহার করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। দেশের সাধারণ মানুষ চায় এমন একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ, যেখানে মতামতের ভিন্নতার কারণে কাউকে প্রাণ দিতে হবে না বা কোনো পরিবারকে স্বজন হারানোর বেদনা বইতে হবে না। সুষ্ঠু রাজনৈতিক চর্চাই পারে এমন সহিংসতা থেকে দেশকে মুক্তি দিতে।

বম্বে হাইকোর্টের আদেশে দিয়া মির্জার ভিডিও পুনরুদ্ধার, বিজেপি নেতাদের আপত্তি অস্বীকারে আদালতের অসন্তোষ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
   
বম্বে হাইকোর্টের আদেশে দিয়া মির্জার ভিডিও পুনরুদ্ধার, বিজেপি নেতাদের আপত্তি অস্বীকারে আদালতের অসন্তোষ

মুম্বাই হাইকোর্টের একটি ন্যায়িক আদেশের পর দিয়া মির্জার পরিবেশবান্ধব দীপাবলি প্রচারণা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। আদালত উল্লেখ করেছে যে, ভারতের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে এবং কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর ভিত্তি করে কোনো মিডিয়া সামগ্রী নিষিদ্ধ করা সংবিধানবিরোধী হতে পারে।

গতকাল সন্ধ্যায় বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি একটি সংক্ষিপ্ত রায়ে স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে, দিয়া মির্জার ভিডিওটি কোনো ধর্মীয় উস্কানিমূলক বিষয়বস্তু ধারণ করে না, বরং এটি পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সুষ্ঠু উদযাপনের প্রচারমূলক উদ্যোগ। আদালত এই রায়ে উল্লেখ করে, “ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ, যেখানে সকলের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষিত থাকে।”

ভিডিওটি সরানোর পেছনে মূল কারণ ছিল কিছু বিজেপি নেতার আপত্তি, যারা ভিডিওটির কিছু দৃশ্যকে “ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ক্ষুণ্ণকারী” বলে দাবি করে মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে তা মুছে ফেলতে বলেছিলেন। তবে আদালত এই আপত্তিগুলোকে “বিচলিত” বলে খারিজ করে, এবং সংশ্লিষ্ট সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে অবিলম্বে ভিডিওটি পুনরায় প্রকাশ করতে নির্দেশ দিয়েছে।

বম্বে হাইকোর্টের এই রায়ের পর, ভিডিওটি পুনরায় ইউটিউব, ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামসহ প্রধান সামাজিক নেটওয়ার্কে আপলোড করা হয়েছে। দিয়া মির্জা এবং তার টিমের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে তারা আদালতের ন্যায়িক সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে, এবং “পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে এই ধরনের প্রচারণা অপরিহার্য” বলে উল্লেখ করেছে।

বিজেপি নেতারা রায়ের পর পুনরায় মন্তব্য করে, তারা “ধর্মীয় সংবেদনশীলতা রক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত” বলে দাবি করে। তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ধর্মীয় সংবেদনশীলতা রক্ষা করা এবং ধর্মনিরপেক্ষ নীতি বজায় রাখা একসাথে সম্ভব, এবং কোনো মিডিয়া সামগ্রীকে ধর্মীয় ভিত্তিতে নিষিদ্ধ করা সংবিধানবিরোধী।

এই ঘটনাটি ভারতের মিডিয়া স্বাধীনতা এবং ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে চলমান বিতর্কের নতুন একটি দিক উন্মোচন করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে রাজনৈতিক চাপের মুখে স্বতন্ত্রভাবে কাজ করতে হবে, এবং আদালতের রায়ের ভিত্তিতে ন্যায়িক মানদণ্ড অনুসরণ করা উচিত।

অধিকন্তু, এই রায়ের ফলে অন্যান্য ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা নিয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলোতে আদালতের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়ছে। বিশেষ করে, যখন রাজনৈতিক গোষ্ঠী কোনো মিডিয়া সামগ্রীকে “বৈরী” বলে চিহ্নিত করে, তখন ন্যায়িক প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করবে তা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বম্বে হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের পর, দিয়া মির্জার ভিডিওটি পুনরায় প্রচারিত হওয়ায় পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত বার্তা আরও বিস্তৃত দর্শকের কাছে পৌঁছেছে। এই ঘটনা মিডিয়া, রাজনীতি এবং ধর্মনিরপেক্ষতা সংক্রান্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে ন্যায়িক সিস্টেমের ভূমিকা পুনরায় জোরদার করেছে।

জুলাই হত্যাচেষ্টার মামলার আসামির নেতৃত্বে আনন্দ র‍্যালি, এলাকায় চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
   
জুলাই হত্যাচেষ্টার মামলার আসামির নেতৃত্বে আনন্দ র‍্যালি, এলাকায় চাঞ্চল্য

পোশাকশ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করায় প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সাভারের আশুলিয়ায় একটি আনন্দ র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে আশুলিয়ার বগাবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালিতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ শ্রমিকরা অংশ নেন। তবে এই আনন্দ আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, কারণ এই র‍্যালিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন এমন একজন শ্রমিক নেতা, যিনি জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল তিনটার দিকে বগাবাড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. ফরিদুল ইসলাম। তার নেতৃত্বে মিছিলটি বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে রাজপথ মুখরিত করে তোলেন। শ্রমিকদের দাবি ছিল, নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে সরকার তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। তবে মিছিলের সামনের সারিতে ফরিদুল ইসলামের উপস্থিতি এবং তার নেতৃত্বদান স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে।

আশুলিয়ার স্থানীয় সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা এখনো স্মরণ করছেন। সেই সময়ে সংগঠিত সহিংসতা ও বিভিন্ন হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোতে অভিযুক্তদের অনেকেই এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্যে বড় কোনো আয়োজনে নেতৃত্ব দেওয়াতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক জানান, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পুলিশ ও প্রশাসনের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। মামলা থাকা সত্ত্বেও এভাবে প্রকাশ্যে দলীয় বা সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের সঞ্চার করছে।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শ্রমিকের অধিকার আদায়ের নামে এমন বিতর্কিত ব্যক্তিদের সামনের সারিতে নিয়ে আসা শ্রমিক আন্দোলনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিতে পারে। বিশেষ করে যেখানে বিচার প্রক্রিয়ার বিষয়টি চলমান, সেখানে অভিযুক্তদের এমন অবাধ বিচরণ ও নেতৃত্ব প্রদান অপরাধীদের উৎসাহিত করার শামিল হতে পারে বলে অনেকের ধারণা।

শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো শ্রমিকদের মজুরি ও অধিকার রক্ষা করা। তবে সেই অধিকার আদায়ের যাত্রায় অপরাধ বা মামলার সাথে জড়িতদের নেতৃত্ব কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এখন দেখার বিষয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের এই প্রকাশ্যে উপস্থিতির বিষয়ে পরবর্তীতে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে কিনা। পুরো আশুলিয়া এলাকা জুড়ে বিষয়টি নিয়ে এখন আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

গ্রাহকদের জন্য নতুন অ্যাপ মুক্ত আনল বাংলালিংক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
   
গ্রাহকদের জন্য নতুন অ্যাপ মুক্ত আনল বাংলালিংক

দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের অন্যতম জনপ্রিয় সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক নিজেদের ডিজিটাল সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে নতুন একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বাজারে নিয়ে এসেছে। মুক্ত নামের এই অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে গ্রাহকদের জন্য নতুন এক ডিজিটাল অভিজ্ঞতার সূচনা হলো। আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে গ্রাহকদের হাতের মুঠোয় সহজ ও সাবলীল সেবা পৌঁছে দেওয়াই এই নতুন উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

ডিজিটাল দুনিয়ায় এখন প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আসছে এবং গ্রাহকদের চাহিদাও বাড়ছে। বাংলালিংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মুক্ত অ্যাপটি মূলত ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে আরও সহজ ও গতিশীল করার লক্ষ্যে ডিজাইন করা হয়েছে। এর ইন্টারফেস বা ব্যবহারকারী অভিজ্ঞতা এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে যে কেউ খুব সহজেই অ্যাপটির বিভিন্ন ফিচার ও সুবিধাগুলো ব্যবহার করতে পারেন। প্রযুক্তিপ্রেমী গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখেই এতে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক সব ফিচার, যা আগের অভিজ্ঞতা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং উন্নত।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, মোবাইল অপারেটরদের এখন কেবল কথা বলার বা ইন্টারনেট ডাটা বিক্রি করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বরং গ্রাহকদের একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের আওতায় নিয়ে আসাই এখনকার প্রধান চ্যালেঞ্জ। বাংলালিংক সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। মুক্ত অ্যাপটি ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকরা তাদের প্রয়োজনীয় সব সেবা এক জায়গা থেকেই পেয়ে যাবেন। এটি শুধুমাত্র একটি অ্যাপ নয়, বরং ডিজিটাল লাইফস্টাইল ম্যানেজমেন্টের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।

অ্যাপটি চালুর সময় কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রাহকদের ফিডব্যাক এবং বর্তমান সময়ের ডিজিটাল ট্রেন্ড বিশ্লেষণ করেই এই নতুন রূপটি তৈরি করা হয়েছে। এতে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা এবং তথ্যের গোপনীয়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। খুব কম ডাটা খরচ করে এবং ধীরগতির ইন্টারনেটেও অ্যাপটি যেন মসৃণভাবে চলে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাংলালিংকের এই নতুন পদক্ষেপে গ্রাহকরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের ব্যক্তিগত এবং দাপ্তরিক কাজগুলো স্মার্টফোনের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে পারবেন। অ্যাপটি খুব দ্রুতই সব গ্রাহকের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং তারা এখন সহজেই বিভিন্ন অ্যাপ স্টোর থেকে এটি নামিয়ে নিতে পারবেন। এই ডিজিটাল উদ্ভাবন বাংলালিংকের বাজার অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভবিষ্যতে এই অ্যাপের মাধ্যমে আরও নতুন ও চমকপ্রদ ফিচার যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

পরিশেষে বলা যায়, বাংলালিংকের মুক্ত অ্যাপটি বর্তমান সময়ের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল চাহিদার একটি সময়োপযোগী সমাধান। এটি গ্রাহকদের জীবনযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে দৈনন্দিন কাজগুলোকে করে তুলবে আরো সহজ ও আনন্দদায়ক। অপারেটরটি তাদের গ্রাহকদের ক্রমাগত উন্নত সেবা প্রদানের যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে, এই নতুন অ্যাপ উন্মোচন সেই প্রতিশ্রুতিরই একটি অংশ।

সর্বশেষ
বম্বে হাইকোর্টের আদেশে দিয়া মির্জার ভিডিও পুনরুদ্ধার, বিজেপি নেতাদের আপত্তি অস্বীকারে আদালতের অসন্তোষ অক্টোবর মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১২ জনের প্রাণহানি, আহত তিন শতাধিক জুলাই হত্যাচেষ্টার মামলার আসামির নেতৃত্বে আনন্দ র‍্যালি, এলাকায় চাঞ্চল্য গ্রাহকদের জন্য নতুন অ্যাপ মুক্ত আনল বাংলালিংক দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর নকশা হবে ওয়াই-টাইপ, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারি সভায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তি দুই হাজারের বেশি চীনে ফুলেফেঁপে উঠছে নতুন ধারার রোমান্স অর্থনীতি ইতালি দূতাবাসের প্রশিক্ষণ সেমিনার: কোটার বাইরেও বাংলাদেশিদের নতুন সুযোগ গাজীপুরে মহাসড়কে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ: আহত ৩০, যান চলাচল ব্যাহত প্রশাসনিক দুর্নীতি দমনে খলিফা ওমর (রা.)-এর নীতি ও পদক্ষেপ
Advertisement