খুঁজুন
, ,

ক্রসফায়ারের ইঙ্গিত ও পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য: আইনের শাসনের প্রশ্নে উদ্বেগ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
ক্রসফায়ারের ইঙ্গিত ও পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য: আইনের শাসনের প্রশ্নে উদ্বেগ

রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হলো আইনের শাসন। যে কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পুলিশ বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব অপরাধ দমন ও শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা। তবে এই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইনি কাঠামোর ভেতরে থাকাটাই বাধ্যতামূলক। সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরের একটি মন্তব্যকে ঘিরে জনপরিসরে প্রবল বিতর্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সরকার অনুমোদন দিলে পুলিশ প্রয়োজনে ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত পদক্ষেপ নিতে পিছিয়ে থাকবে না। এই ধরনের বক্তব্য কেবল উদ্বেগের কারণই নয়, বরং এটি মানবাধিকার ও বিচার ব্যবস্থার মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও প্রতীয়মান হচ্ছে।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অপরাধী শনাক্তকরণ, তদন্ত এবং বিচারে সোপর্দ করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে পারেন, তদন্ত করতে পারেন এবং সাক্ষ্য-প্রমাণসহ আদালতে উপস্থাপন করতে পারেন। কিন্তু অপরাধীর বিচার করার একক ও চূড়ান্ত এখতিয়ার আদালতের। সেখানে পুলিশের পক্ষ থেকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত দেওয়াটা আইনের শাসনের ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ কোনো বাহিনীরই নেই, তা সে যে পর্যায়ের কর্মকর্তাই হোক না কেন। যখন কোনো দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এমন বার্তা দেওয়া হয়, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে যে বিবৃতি ও অবস্থান দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে সমালোচকরা বলছেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বৈধতা এক নয়। পুলিশের কাজ হলো অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা, তাকে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা। এই প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে যদি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে সেটি আইনগত সুরক্ষা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অতীতেও বিভিন্ন সময় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলো সোচ্চার হয়েছে। এখন নতুন করে আইজিপির এই বক্তব্য সেই বিতর্ককেই আবার উসকে দিয়েছে।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই ভূমিকা হতে হবে গঠনমূলক এবং আইনি সীমার ভেতরে। ক্রসফায়ারের মতো শব্দ যখন কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মুখ থেকে শোনা যায়, তখন তা আইনের শাসন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি এক ধরনের অবজ্ঞা প্রদর্শন করে। এটি পুলিশের পেশাদারিত্বকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। নাগরিক অধিকার রক্ষায় যে পুলিশ বাহিনী নিয়োজিত, তারা যখন নিজেরা বিচারকের আসনে বসে পড়ার ইঙ্গিত দেয়, তখন নাগরিক নিরাপত্তার জায়গাটি হুমকির মুখে পড়ে।

সচেতন মহল মনে করছেন, রাষ্ট্র যদি আইনের শাসনের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে, তবে এই ধরনের বিতর্কিত মন্তব্যের দায়ভার সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনো সভ্য সমাজের কাম্য হতে পারে না। আইনি জটিলতা বা দীর্ঘসূত্রতা নিরসনের উপায় বিচার ব্যবস্থার সংস্কার ও পুলিশের তদন্ত পদ্ধতির মানোন্নয়ন, কোনোভাবেই সংক্ষিপ্ত পথে বিচার করা নয়। পুলিশের এই ধরনের বক্তব্য রাষ্ট্র ও নাগরিকের পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ককেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে কীভাবে দেখছে এবং আইনের শাসন নিশ্চিতে তারা কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

সপ্তাহের মধ্যেই নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের আশ্বাস শ্রমমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
সপ্তাহের মধ্যেই নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের আশ্বাস শ্রমমন্ত্রীর

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শ্রমিকদের কল্যাণে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী।

দেশের শ্রমজীবী মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবং বর্তমান কর্মপরিবেশের বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে সরকার বড় ধরণের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে। সাম্প্রতিক এক সরকারি নির্দেশনায় বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে, যেখানে মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে এই ঘোষণা আসে। সরকারের এই উদ্যোগকে শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

বর্তমান বাজারে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকের মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক সংগঠনগুলো এবং বিভিন্ন খাতের শ্রমিকরা মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এরই প্রেক্ষিতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান। দায়িত্বশীল জায়গা থেকে দেওয়া এই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যেই মজুরি বোর্ড গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, মজুরি বোর্ড গঠনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। মালিকপক্ষ এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই বোর্ড গঠিত হবে। বোর্ডে উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে বাস্তবসম্মত মজুরি কাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হবে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে মজুরি বোর্ডের কার্যকারিতা ও মজুরি বৃদ্ধির হার নিয়ে যে সমালোচনা ছিল, তা দূর করতেই এবার দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করছে, সঠিক সময়ে মজুরি বোর্ড গঠন করতে পারলে শিল্প খাতে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হবে।

শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, মুদ্রাস্ফীতির কারণে সাধারণ শ্রমিকের জীবন যাপন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি ঘোষণাটি কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে। তবে মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম কত দ্রুত শুরু হবে এবং নতুন কাঠামো কবে থেকে কার্যকর হবে, তা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে যেন দ্রুত বাস্তবায়নের মুখ দেখে, সে দাবিও জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, কেবল নতুন বোর্ড গঠনই নয়, বরং বোর্ডের প্রতিটি সুপারিশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল কারিগর শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই সরকারের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য। নতুন গঠিত মজুরি বোর্ড সব খাতের শ্রমিকদের বর্তমান চাহিদা বিশ্লেষণ করবে এবং সেই অনুযায়ী যৌক্তিক মজুরি নির্ধারণের সুপারিশ প্রদান করবে। আশা করা হচ্ছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঘোষিত এই সময়সীমার মধ্যেই মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এবং সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে মজুরি বোর্ডের সদস্য তালিকা প্রকাশ করবে।

শিল্প মালিকরাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন করা হলে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা এবং উৎপাদন খরচ নির্ধারণে তাদের সুবিধা হবে। দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা এড়াতে মজুরি কাঠামো নিয়মিত বিরতিতে সংস্কার করার যে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা পালনেও এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করছেন। সব মিলিয়ে শ্রমিক, মালিক এবং সরকার—তিন পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশের শিল্প ও শ্রমখাত নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

জাপান সফরে টোকিওতে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রবীণ পরিচর্যা কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন জুবাইদা রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
জাপান সফরে টোকিওতে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রবীণ পরিচর্যা কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন জুবাইদা রহমান

জাপান সফরের তৃতীয় দিনে টোকিওতে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রবীণ পরিচর্যা বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন জুবাইদা রহমান। এসময় তিনি সেখানকার উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত হন।

জাপান সফরের অংশ হিসেবে বর্তমানে টোকিও অবস্থান করছেন জুবাইদা রহমান। সফরের তৃতীয় দিনে তিনি জাপানের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং প্রবীণ পরিচর্যা কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখেছেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল জাপানের উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং প্রবীণদের যত্ন নেওয়ার পদ্ধতিগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা। টোকিওতে পৌঁছানোর পর থেকে তিনি দেশটির স্বাস্থ্য অবকাঠামো এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

পরিদর্শনকালে জুবাইদা রহমান বেশ কিছু নার্সিং হোম এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল ঘুরে দেখেন। এসব প্রতিষ্ঠানে বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকদের যেভাবে সেবা প্রদান করা হয় এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে, তা তিনি প্রত্যক্ষ করেন। জাপানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সারা বিশ্বে প্রবীণদের সুস্থতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অন্যতম রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে দক্ষ নার্সিং সেবার মাধ্যমে বয়স্কদের স্বনির্ভর রাখা এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার যে কর্মপরিকল্পনা জাপান বাস্তবায়ন করেছে, তা এই সফরের অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল।

সফরের এই পর্যায়ে জুবাইদা রহমান দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে আলাপকালে জাপানের স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে জনসংখ্যা হ্রাসের এই যুগে প্রবীণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জাপানিরা যেসব সৃজনশীল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, সেগুলোর বিষয়ে তিনি বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। হাসপাতালগুলোতে ব্যবহৃত আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং চিকিৎসা প্রযুক্তির উৎকর্ষতার বিষয়গুলোও তার পরিদর্শনে উঠে আসে। পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মপদ্ধতি কীভাবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিচ্ছে, সেটিও তিনি পর্যবেক্ষণ করেন।

জাপানের সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক মূল্যবোধ কীভাবে স্বাস্থ্যসেবার সাথে মিশে আছে, তা এই সফরে বেশ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। জুবাইদা রহমান কেবল চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাই নয়, বরং সেখানকার সংস্কৃতিবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও পরিদর্শন করেন। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার গুরুত্ব নিয়ে তিনি মতবিনিময় করেন। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য খাত ও সমাজসেবামূলক উদ্যোগে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সফরের এই পর্যায়ে তিনি জাপানের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য তৈরি বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া সম্পর্কেও সম্যক ধারণা লাভ করেছেন। বিশেষ করে নার্সিং সেবা খাতকে কীভাবে আরও বেশি মানবিক ও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে গঠনমূলক আলোচনা করেন। এই পরিদর্শনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন কোনো উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে জাপানের মডেলটি সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জুবাইদা রহমানের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। জাপানের স্বাস্থ্য অবকাঠামো এবং তাদের জনসেবামূলক দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে কীভাবে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে তার এই সফর নতুন কোনো দিক উন্মোচন করবে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সফরের পরবর্তী দিনগুলোতেও তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে তার এই জাপান সফর দুই দেশের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি অনন্য ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত: ১৮৫ কেন্দ্রে কাল ভোটগ্রহণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত: ১৮৫ কেন্দ্রে কাল ভোটগ্রহণ

জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে ঘিরে পুরো নির্বাচনী এলাকায় এখন উৎসবের আমেজ। সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে এখন শুধু ভোটারদের রায়ের অপেক্ষায় প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে নির্ধারিত ১৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। ভোটগ্রহণ চলবে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সকাল ৮টায় নির্বাচনী প্রচারণার সময়সীমা শেষ হয়েছে। প্রচারণার শেষ সময়ে প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের সরব উপস্থিতি থাকলেও এখন নির্বাচনী এলাকায় নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা। আচরণবিধি অনুযায়ী এখন সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য মাঠ পর্যায়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভোটগ্রহণের দিন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন স্তরের সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। বিশেষ করে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্যসহ অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয়ে শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারি এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

উপনির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম প্রতিটি কেন্দ্রে পৌঁছানোর কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সরঞ্জাম বিতরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসারদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভোটের দিন যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে স্ট্রাইকিং ফোর্স ও ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনোভাবেই যেন নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধি লঙ্ঘন না হয়। প্রতিটি কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে কঠোর নজরদারি রাখা হবে। ভোটারদের কোনো রকম ভীতি বা প্রলোভন প্রদর্শন করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।

ভোটারদের প্রত্যাশা, নতুন প্রতিনিধি নির্বাচন করার এই প্রক্রিয়ায় যেন কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে তারা তাদের পছন্দমতো প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন। এখন কেবল বৃহস্পতিবার সকালের সূর্য ওঠার অপেক্ষা, যখন ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এই উপনির্বাচন একটি দৃষ্টান্তমূলক নির্বাচন হিসেবে সম্পন্ন হবে।

সর্বশেষ
সপ্তাহের মধ্যেই নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের আশ্বাস শ্রমমন্ত্রীর জাপান সফরে টোকিওতে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রবীণ পরিচর্যা কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন জুবাইদা রহমান ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত: ১৮৫ কেন্দ্রে কাল ভোটগ্রহণ স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনা, কোপা দেল রে’র সব ম্যাচ স্থগিত গায়ক ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতার, টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ পপির মায়ের মৃত্যুতে শোক জানালেন ওমর সানী বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে হাসপাতাল থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধরের ঘটনায় ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার গুঞ্জন উড়িয়ে শিরোপা জয়ে স্পেনকে কৃতিত্ব দিলেন রোমেরো
Advertisement