খুঁজুন
, ,

ইতালি দূতাবাসের প্রশিক্ষণ সেমিনার: কোটার বাইরেও বাংলাদেশিদের নতুন সুযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
ইতালি দূতাবাসের প্রশিক্ষণ সেমিনার: কোটার বাইরেও বাংলাদেশিদের নতুন সুযোগ

৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সেমিনারে ইতালি দূতাবাসের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশিদের জন্য বৈধভাবে ইতালিতে কাজের নতুন পথ উন্মোচনের ঘোষণা দেন। সেমিনারের শিরোনাম ছিল ‘ইতালিতে দক্ষ অভিবাসনের জন্য ভাষা, নাগরিক এবং পেশাদার প্রশিক্ষণ’। এতে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সংস্থার প্রতিনিধি।

সেমিনারে জানানো হয়, ইতালি বর্তমানে প্রায় ২,১৭,০০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বৈধভাবে স্বাগত জানিয়ে চলেছে, যার মধ্যে প্রায় ৮০,০০০ কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা ধারী। তবে অধিকাংশই অপ্রশিক্ষিত শ্রমিক, যা ইতালির উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীর চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়। তাই ইতালি দূতাবাসের লক্ষ্য হল, ভাষা, নাগরিক অধিকার ও পেশাগত দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীকে সরাসরি নিয়োগের জন্য প্রস্তুত করা, যাতে দালাল বা ‘কোটা’ (অবৈধ রুট) এর ওপর নির্ভর না করে সরাসরি বৈধ পথে অভিবাসন সম্ভব হয়।

প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামটি তিনটি স্তরে ভাগ করা হবে: প্রথমে ইতালীয় ভাষার মৌলিক থেকে উন্নত স্তর পর্যন্ত কোর্স, এরপর ইতালির নাগরিক আইন, সংস্কৃতি ও কাজের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা সেশন, এবং শেষমেশ নির্দিষ্ট পেশাগত দক্ষতা যেমন হসপিটালিটি, নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ। এই কোর্সগুলো সম্পন্ন করার পর অংশগ্রহণকারীরা ইতালির সংশ্লিষ্ট শ্রম সংস্থার সঙ্গে সরাসরি সংযোগের মাধ্যমে চাকরির সুযোগ পেতে পারে।

ইতালি দূতাবাসের মুখপাত্র উল্লেখ করেন, “বৈধ পথে দক্ষ কর্মী পাঠানো আমাদের দু’দেশের জন্যই লাভজনক। ইতালিতে কর্মসংস্থান ঘাটতি রয়েছে, বিশেষ করে উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীর চাহিদা। বাংলাদেশি শ্রমিকদের যদি যথাযথ প্রশিক্ষণ ও ভাষা দক্ষতা থাকে, তবে তারা ইতালির বাজারে সহজে প্রবেশ করতে পারবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা কোটার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে, নিরাপদ ও স্বচ্ছ অভিবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে চাই।”

এই সেমিনারের পাশাপাশি, সরকারও তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালীয় শেখার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি ইতালীয়কে তৃতীয় ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তটি শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর অফিসের একটি বিবৃতি অনুযায়ী, শীঘ্রই দেশের বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজে ইতালীয় ভাষা শিক্ষার জন্য পাঠ্যক্রম ও প্রশিক্ষক নিয়োগের কাজ শুরু হবে। এই পদক্ষেপটি কেবল বিদেশে কাজের সুযোগই বাড়াবে না, বরং আন্তর্জাতিক পর্যটন ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

প্রশিক্ষণ সেমিনারে অংশগ্রহণকারী এক তরুণ প্রার্থী, রাহুল চৌধুরী (বয়স ২৪), বলেন, “আগে কোটার মাধ্যমে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, এখন সরকার ও দূতাবাসের এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরাসরি এবং নিরাপদে ইতালিতে কাজের সুযোগ পেতে পারব। আমি ইতালীয় ভাষা শিখে, পেশাগত দক্ষতা বাড়িয়ে ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চাই।”

দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামটি আগামী মাস থেকে শুরু হবে এবং আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে চালু হয়েছে। আবেদনকারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স ও স্বাস্থ্যগত মানদণ্ড পূরণ করতে হবে, এবং নির্বাচিত হলে তারা পূর্ণ বৃত্তি সহ প্রশিক্ষণ পাবে। এছাড়া, প্রশিক্ষণ শেষে ইতালির সংশ্লিষ্ট শিল্প সংস্থার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করা হবে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য কোটার ঝুঁকি কমে, বৈধ ও দক্ষ কর্মী হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে, ইতালির শ্রম ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশি কর্মীর ভূমিকা আরও সুদৃঢ় হবে।

গ্রাহকদের জন্য নতুন অ্যাপ মুক্ত আনল বাংলালিংক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
   
গ্রাহকদের জন্য নতুন অ্যাপ মুক্ত আনল বাংলালিংক

দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের অন্যতম জনপ্রিয় সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক নিজেদের ডিজিটাল সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে নতুন একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বাজারে নিয়ে এসেছে। মুক্ত নামের এই অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে গ্রাহকদের জন্য নতুন এক ডিজিটাল অভিজ্ঞতার সূচনা হলো। আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে গ্রাহকদের হাতের মুঠোয় সহজ ও সাবলীল সেবা পৌঁছে দেওয়াই এই নতুন উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

ডিজিটাল দুনিয়ায় এখন প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আসছে এবং গ্রাহকদের চাহিদাও বাড়ছে। বাংলালিংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মুক্ত অ্যাপটি মূলত ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে আরও সহজ ও গতিশীল করার লক্ষ্যে ডিজাইন করা হয়েছে। এর ইন্টারফেস বা ব্যবহারকারী অভিজ্ঞতা এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে যে কেউ খুব সহজেই অ্যাপটির বিভিন্ন ফিচার ও সুবিধাগুলো ব্যবহার করতে পারেন। প্রযুক্তিপ্রেমী গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখেই এতে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক সব ফিচার, যা আগের অভিজ্ঞতা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং উন্নত।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, মোবাইল অপারেটরদের এখন কেবল কথা বলার বা ইন্টারনেট ডাটা বিক্রি করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বরং গ্রাহকদের একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের আওতায় নিয়ে আসাই এখনকার প্রধান চ্যালেঞ্জ। বাংলালিংক সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। মুক্ত অ্যাপটি ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকরা তাদের প্রয়োজনীয় সব সেবা এক জায়গা থেকেই পেয়ে যাবেন। এটি শুধুমাত্র একটি অ্যাপ নয়, বরং ডিজিটাল লাইফস্টাইল ম্যানেজমেন্টের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।

অ্যাপটি চালুর সময় কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রাহকদের ফিডব্যাক এবং বর্তমান সময়ের ডিজিটাল ট্রেন্ড বিশ্লেষণ করেই এই নতুন রূপটি তৈরি করা হয়েছে। এতে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা এবং তথ্যের গোপনীয়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। খুব কম ডাটা খরচ করে এবং ধীরগতির ইন্টারনেটেও অ্যাপটি যেন মসৃণভাবে চলে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাংলালিংকের এই নতুন পদক্ষেপে গ্রাহকরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের ব্যক্তিগত এবং দাপ্তরিক কাজগুলো স্মার্টফোনের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে পারবেন। অ্যাপটি খুব দ্রুতই সব গ্রাহকের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং তারা এখন সহজেই বিভিন্ন অ্যাপ স্টোর থেকে এটি নামিয়ে নিতে পারবেন। এই ডিজিটাল উদ্ভাবন বাংলালিংকের বাজার অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভবিষ্যতে এই অ্যাপের মাধ্যমে আরও নতুন ও চমকপ্রদ ফিচার যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

পরিশেষে বলা যায়, বাংলালিংকের মুক্ত অ্যাপটি বর্তমান সময়ের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল চাহিদার একটি সময়োপযোগী সমাধান। এটি গ্রাহকদের জীবনযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে দৈনন্দিন কাজগুলোকে করে তুলবে আরো সহজ ও আনন্দদায়ক। অপারেটরটি তাদের গ্রাহকদের ক্রমাগত উন্নত সেবা প্রদানের যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে, এই নতুন অ্যাপ উন্মোচন সেই প্রতিশ্রুতিরই একটি অংশ।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর নকশা হবে ওয়াই-টাইপ, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারি সভায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
   
দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর নকশা হবে ওয়াই-টাইপ, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারি সভায়

পদ্মা নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পরিকল্পনাটি এবার দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে। সরকারি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই সেতুর নকশা ও নির্মাণের ধরণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত হতে যাওয়া এই দ্বিতীয় সেতুটি ওয়াই-টাইপ বা ওয়াই-আকৃতির হবে। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে সরকার এই মেগাপ্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়।

সভায় উপস্থিত নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর পাশাপাশি পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের কাজটিও সমান গুরুত্বের সাথে এগিয়ে নেওয়া হবে। পদ্মা ব্যারাজ এবং দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজের মধ্যে সমন্বয় রেখে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর ফলে নদীর পানি ব্যবস্থাপনা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উভয় ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পদ্মা সেতুর পাশাপাশি যমুনা নদীর ওপরও আরেকটি দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াই-টাইপ সেতুর নকশা মূলত একাধিক গন্তব্যকে একটি কেন্দ্রবিন্দু থেকে সংযুক্ত করার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। পদ্মা নদীতে এই ধরনের নকশা ব্যবহারের ফলে নদীর দুই পারের যোগাযোগ সহজতর হবে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় থাকবে। সরকার এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা পদ্মা ও যমুনা নদীর দ্বিতীয় সেতু প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও এর নানাবিধ কারিগরি দিক নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটি মূলত কৃষি ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা সেতুর কাজের সাথে তাল মিলিয়ে সম্পন্ন করা হবে।

সরকারের এই বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। যোগাযোগ অবকাঠামোর এই উন্নয়নের ফলে দীর্ঘমেয়াদী সুফল ভোগ করবেন সাধারণ মানুষ। একই সাথে প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সকল প্রকার প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতির দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এসব প্রকল্পের বিস্তারিত ডিজাইন এবং নির্মাণ ব্যয় সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে আপাতত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই মেগাপ্রকল্পগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ায় মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করার পথ প্রশস্ত হলো।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তি দুই হাজারের বেশি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
   
ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তি দুই হাজারের বেশি

সারা দেশে ডেঙ্গু জ্বরের পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপের দিকে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও দুই হাজার ১০ জন রোগী। মূলত সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ের হিসাব অনুযায়ী এই তথ্য পাওয়া গেছে। ডেঙ্গুর এমন ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ৪৩৯ জনে পৌঁছেছে। বছরের এই সময়ে এসেও ডেঙ্গু পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ার বিষয়টি নীতিনির্ধারক ও চিকিৎসকদের ভাবিয়ে তুলেছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু এখন আর মৌসুমী রোগ নেই, এটি সারা বছরই জনজীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা পরবর্তী সময়ে মশার প্রজনন হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। রোগীদের মধ্যে জ্বর, হাড়ের ব্যথা এবং চরম অবসাদের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, রোগীরা প্রাথমিক পর্যায়ে অবহেলা করায় অবস্থা জটিল হয়ে পড়ছে, যা মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড় বাড়ায় শয্যা সংকটও তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একই সাথে বহু রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্যখাত।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে বাড়ির আঙ্গিনা, ছাদ, কিংবা ফুলের টবে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। মশার উপদ্রব কমাতে সিটি কর্পোরেশনের মশা নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। দিনের বেলায়ও মশারি ব্যবহার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে, কারণ ডেঙ্গু বহনকারী এডিস মশা সাধারণত দিনের আলোতে কামড়ায়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে লার্ভা ধ্বংস করার জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, নতুন আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঢাকা ও আশেপাশের এলাকার। তবে ঢাকার বাইরেও ডেঙ্গুর প্রকোপ জেলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ সররাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ডেঙ্গু পরীক্ষায় কোনো ধরনের অবহেলা না করার জন্য সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। যে কোনো জ্বরে আক্রান্ত হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত জরুরি। আগামী দিনগুলোতে ডেঙ্গুর এই প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে সরকারি পদক্ষেপের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতন ও সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে।

সর্বশেষ
গ্রাহকদের জন্য নতুন অ্যাপ মুক্ত আনল বাংলালিংক দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর নকশা হবে ওয়াই-টাইপ, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারি সভায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তি দুই হাজারের বেশি চীনে ফুলেফেঁপে উঠছে নতুন ধারার রোমান্স অর্থনীতি ইতালি দূতাবাসের প্রশিক্ষণ সেমিনার: কোটার বাইরেও বাংলাদেশিদের নতুন সুযোগ গাজীপুরে মহাসড়কে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ: আহত ৩০, যান চলাচল ব্যাহত প্রশাসনিক দুর্নীতি দমনে খলিফা ওমর (রা.)-এর নীতি ও পদক্ষেপ আশুলিয়ার শিল্পকর্মে শ্রমিকের কর্মস্থল দাবি, পুলিশে ৫০ জন আহত সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় বাস উল্টে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত, সড়ক-রেলপথ অবরোধ লরির ধাক্কায় মিনিবাস উল্টে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী নিহত, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ, ১০ কিমি যানজট
Advertisement