খুঁজুন
, ,

আশুলিয়ার শিল্পকর্মে শ্রমিকের কর্মস্থল দাবি, পুলিশে ৫০ জন আহত

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
আশুলিয়ার শিল্পকর্মে শ্রমিকের কর্মস্থল দাবি, পুলিশে ৫০ জন আহত

ঢাকা বিভাগের সাভার জেলায় অবস্থিত আশুলিয়া শিল্পকেন্দ্রের পোশাক কারখানাগুলোতে কর্মস্থল ফিরে পেতে শ্রমিকদের প্রতিবাদে বিশাল ভিড় গড়ে ওঠে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর পর্যন্ত এই প্রতিবাদে পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে প্রায় পঞ্চাশজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ ও গুলিবিদ্ধ নয় এমন দুজনের অবস্থা গুরুতর, অন্যরা হালকা আঘাত পেয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছে।

পুলিশের জানামতে, কর্মরত কর্মীদের সঙ্গে মেলামেশা করার সময় কিছু কর্মী হিংসাত্মক আচরণ করে, যার ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা আত্মরক্ষা হিসেবে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে দুইজনকে জরুরি সেবার মাধ্যমে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, আর বাকি আহতরা স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে মৌলিক চিকিৎসা পায়। মোট ৫০জনের মধ্যে অধিকাংশই হালকা আঘাতের শিকার হলেও, এই ঘটনার ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রতিবাদে জড়িত শ্রমিকদের দাবি ছিল তাদের কাজের শর্তাবলী উন্নত করা এবং বেতন বৃদ্ধি। তবে, এই দাবিগুলোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশুলিয়ার বেশ কয়েকটি বড় পোশাক কারখানা তাদের কর্মীদের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। শতাধিক কর্মীকে আজকের দিনটি ছুটি দেওয়া হয়, যাতে তারা নিরাপদে বাড়ি ফিরে যেতে পারে এবং পরিস্থিতি শীতল হয়।

শিল্পপুলিশের মতে, ছুটির ঘোষণার পরও বেশিরভাগ কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে। কিছু কারখানা কর্মীদের অনুরোধে কাজ চালিয়ে যায়, অন্যদিকে কিছু কারখানা নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। তবে, মোটামুটি উৎপাদন স্তরে কোনো বড় ধাক্কা না পড়ে, এবং বাজারে সরবরাহের ওপর প্রভাব সীমিত থাকে।

আশুলিয়া শিল্পকেন্দ্রে শ্রমিক আন্দোলনের পটভূমি দীর্ঘদিনের অনির্ধারিত বেতন, অতিরিক্ত কাজের সময় এবং নিরাপত্তা মানের অভাবের ওপর ভিত্তি করে। পূর্বে কয়েকটি ছোটখাটো প্রতিবাদ ঘটলেও, এইবারের প্রতিবাদে শ্রমিক সংগঠনগুলো আরও সংগঠিত হয়ে বৃহৎ ভিড় গড়ে তুলেছে। স্থানীয় শ্রমিক ইউনিয়নগুলো দাবি করে যে, সরকার ও শিল্পমালিকদের উচিত শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং কাজের পরিবেশ উন্নত করা।

অধিকাংশ বিশ্লেষক এই ঘটনাকে দেশের শ্রম নীতির পুনর্বিবেচনার সংকেত হিসেবে দেখছেন। সরকারী কর্মকর্তারা পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য মধ্যস্থতা দল গঠন করার কথা জানিয়েছেন এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে। তবে, শ্রমিকদের দাবির বাস্তবায়ন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এমন সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হতে পারে। ভবিষ্যতে শ্রমিক ও শিল্পমালিকের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে কাজের পরিবেশ উন্নত করা এবং আইনগত কাঠামোকে শক্তিশালী করা জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা জোর দিচ্ছেন।

চীনে ফুলেফেঁপে উঠছে নতুন ধারার রোমান্স অর্থনীতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
   
চীনে ফুলেফেঁপে উঠছে নতুন ধারার রোমান্স অর্থনীতি

চীনের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে বর্তমানে এক নতুন ধারার সূচনা হয়েছে, যা মূলত রোমান্স অর্থনীতি নামে পরিচিতি পাচ্ছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে বিয়ের আয়োজন বা যুগলদের বিশেষ মুহূর্ত উদযাপনের জন্য অভিনব সব উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে, যা একদিকে যেমন ব্যক্তিগত জীবনের আনন্দকে বাড়িয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে বাণিজ্যিক খাতেও যুক্ত করছে নতুন মাত্রা। সম্প্রতি পূর্ব চীনের চিয়াংসু প্রদেশের উসি শহরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা এই নতুন ধারার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ফুটবল স্টেডিয়ামের বাইরে যখন হাজারো দর্শকের উল্লাসধ্বনি শোনা যাচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে মাঠের পাশেই অস্থায়ী মঞ্চে বিয়ের নিবন্ধন সম্পন্ন করলেন এক দম্পতি। লাল রঙের সাজসজ্জা আর ক্যামেরার ঝলকানির মাঝে তারা একে অপরের হাত ধরে শপথ নিলেন, যা তাদের কাছে ছিল অত্যন্ত স্মরণীয়। এই দৃশ্য কেবল একটি দম্পতির ব্যক্তিগত খুশির মুহূর্ত নয়, বরং এটি চীনের ক্রমবর্ধমান রোমান্স অর্থনীতির একটি জীবন্ত প্রতীক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিয়ের আয়োজনে প্রথাগত কাঠামোর চেয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা এখন আর কেবল নির্দিষ্ট গণ্ডিতে বিয়ের অনুষ্ঠান করতে আগ্রহী নন। এর বদলে তারা এমন কিছু চাইছেন যা অনন্য এবং তাদের ব্যক্তিত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। এখন বিয়ের নিবন্ধনের পাশাপাশি অদ্ভুত ও আকর্ষণীয় লোকেশন, কাস্টমাইজড উপহার এবং বিশেষ ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের চাহিদা আকাশচুম্বী। রোমান্স অর্থনীতি কেবল বিবাহের মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং ডেটিং, গিফট শপ, ট্রাভেল এজেন্সি এবং ফটোগ্রাফি ব্যবসার মতো বিশাল ক্ষেত্র জুড়ে এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

এই অর্থনৈতিক প্রবাহের মূলে রয়েছে তরুণদের ক্রমবর্ধমান ক্রয়ক্ষমতা এবং তাদের জীবনধারা নিয়ে ভিন্নধর্মী চিন্তা। বর্তমান সময়ের তরুণ-তরুণীরা এমন সব মুহূর্তের খোঁজ করেন যা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার মতো আকর্ষণীয় এবং তাদের স্মৃতির পাতায় আজীবন গেঁথে থাকার মতো। এই চাহিদা থেকেই জন্ম নিচ্ছে অভিনব সব ব্যবসার ধারণা। উসি শহরের ফুটবল স্টেডিয়ামের ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, সাধারণ খেলাধুলার মাঠের মতো জায়গাগুলোও এখন রোমান্টিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। একদিকে স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত আয়ের উৎস খুঁজে পাচ্ছে, অন্যদিকে দম্পতিরা পাচ্ছেন এক অনন্য অভিজ্ঞতার সুযোগ।

এই ধরনের পরিবর্তন কেবল বড় শহরগুলোতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং চীনের মফস্বল শহরগুলোতেও এর আঁচ লেগেছে। বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য এখন আর কেবল হোটেল বা কনভেনশন সেন্টারই ভরসা নয়। পার্ক, ঐতিহাসিক স্থান, এমনকি খেলার মাঠের মতো উন্মুক্ত জায়গাগুলোও এখন বিয়ের নিবন্ধনের জন্য নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠছে। এই প্রবণতা চীনের অর্থনীতিতে রোমান্স-ভিত্তিক ব্যবসার একটি বিশাল বাজার তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী কয়েক বছরে এই খাতটি আরও বিস্তৃত হবে। কারণ, তরুণ প্রজন্ম তাদের আবেগ ও অনুভূতির বহিঃপ্রকাশের জন্য কোনো কার্পণ্য করতে রাজি নয়। ফলে, চীনের রোমান্স অর্থনীতি কেবল টিকে থাকছে না, বরং অবিশ্বাস্য গতিতে ফুলেফেঁপে উঠছে।

পরিশেষে, চীনের এই পরিবর্তনের হাওয়া বিশ্ববাজারের জন্য একটি বড় বার্তা। মানুষ যখন তাদের ব্যক্তিগত খুশির জন্য ব্যয় করতে প্রস্তুত থাকে, তখন সেখানে ব্যবসার নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হওয়া অনিবার্য। রোমান্স অর্থনীতির এই জোয়ার চীনের তরুণদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে যেমন রূপ দিচ্ছে, তেমনি দেশের অর্থনীতিতেও যোগ করছে নতুন প্রাণের সঞ্চার। এই নতুনধারার ব্যবসাগুলো কেবল পণ্যের কেনাবেচায় সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং একে অপরের সাথে জড়িয়ে থাকা মানুষের আবেগের মূল্যও বুঝতে শিখছে, যা আধুনিক ভোক্তা সমাজে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

ইতালি দূতাবাসের প্রশিক্ষণ সেমিনার: কোটার বাইরেও বাংলাদেশিদের নতুন সুযোগ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
   
ইতালি দূতাবাসের প্রশিক্ষণ সেমিনার: কোটার বাইরেও বাংলাদেশিদের নতুন সুযোগ

৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সেমিনারে ইতালি দূতাবাসের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশিদের জন্য বৈধভাবে ইতালিতে কাজের নতুন পথ উন্মোচনের ঘোষণা দেন। সেমিনারের শিরোনাম ছিল ‘ইতালিতে দক্ষ অভিবাসনের জন্য ভাষা, নাগরিক এবং পেশাদার প্রশিক্ষণ’। এতে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সংস্থার প্রতিনিধি।

সেমিনারে জানানো হয়, ইতালি বর্তমানে প্রায় ২,১৭,০০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বৈধভাবে স্বাগত জানিয়ে চলেছে, যার মধ্যে প্রায় ৮০,০০০ কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা ধারী। তবে অধিকাংশই অপ্রশিক্ষিত শ্রমিক, যা ইতালির উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীর চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়। তাই ইতালি দূতাবাসের লক্ষ্য হল, ভাষা, নাগরিক অধিকার ও পেশাগত দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীকে সরাসরি নিয়োগের জন্য প্রস্তুত করা, যাতে দালাল বা ‘কোটা’ (অবৈধ রুট) এর ওপর নির্ভর না করে সরাসরি বৈধ পথে অভিবাসন সম্ভব হয়।

প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামটি তিনটি স্তরে ভাগ করা হবে: প্রথমে ইতালীয় ভাষার মৌলিক থেকে উন্নত স্তর পর্যন্ত কোর্স, এরপর ইতালির নাগরিক আইন, সংস্কৃতি ও কাজের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা সেশন, এবং শেষমেশ নির্দিষ্ট পেশাগত দক্ষতা যেমন হসপিটালিটি, নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ। এই কোর্সগুলো সম্পন্ন করার পর অংশগ্রহণকারীরা ইতালির সংশ্লিষ্ট শ্রম সংস্থার সঙ্গে সরাসরি সংযোগের মাধ্যমে চাকরির সুযোগ পেতে পারে।

ইতালি দূতাবাসের মুখপাত্র উল্লেখ করেন, “বৈধ পথে দক্ষ কর্মী পাঠানো আমাদের দু’দেশের জন্যই লাভজনক। ইতালিতে কর্মসংস্থান ঘাটতি রয়েছে, বিশেষ করে উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীর চাহিদা। বাংলাদেশি শ্রমিকদের যদি যথাযথ প্রশিক্ষণ ও ভাষা দক্ষতা থাকে, তবে তারা ইতালির বাজারে সহজে প্রবেশ করতে পারবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা কোটার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে, নিরাপদ ও স্বচ্ছ অভিবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে চাই।”

এই সেমিনারের পাশাপাশি, সরকারও তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালীয় শেখার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি ইতালীয়কে তৃতীয় ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তটি শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর অফিসের একটি বিবৃতি অনুযায়ী, শীঘ্রই দেশের বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজে ইতালীয় ভাষা শিক্ষার জন্য পাঠ্যক্রম ও প্রশিক্ষক নিয়োগের কাজ শুরু হবে। এই পদক্ষেপটি কেবল বিদেশে কাজের সুযোগই বাড়াবে না, বরং আন্তর্জাতিক পর্যটন ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

প্রশিক্ষণ সেমিনারে অংশগ্রহণকারী এক তরুণ প্রার্থী, রাহুল চৌধুরী (বয়স ২৪), বলেন, “আগে কোটার মাধ্যমে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, এখন সরকার ও দূতাবাসের এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরাসরি এবং নিরাপদে ইতালিতে কাজের সুযোগ পেতে পারব। আমি ইতালীয় ভাষা শিখে, পেশাগত দক্ষতা বাড়িয়ে ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চাই।”

দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামটি আগামী মাস থেকে শুরু হবে এবং আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে চালু হয়েছে। আবেদনকারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স ও স্বাস্থ্যগত মানদণ্ড পূরণ করতে হবে, এবং নির্বাচিত হলে তারা পূর্ণ বৃত্তি সহ প্রশিক্ষণ পাবে। এছাড়া, প্রশিক্ষণ শেষে ইতালির সংশ্লিষ্ট শিল্প সংস্থার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করা হবে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য কোটার ঝুঁকি কমে, বৈধ ও দক্ষ কর্মী হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে, ইতালির শ্রম ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশি কর্মীর ভূমিকা আরও সুদৃঢ় হবে।

গাজীপুরে মহাসড়কে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ: আহত ৩০, যান চলাচল ব্যাহত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
   
গাজীপুরে মহাসড়কে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ: আহত ৩০, যান চলাচল ব্যাহত

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এই সহিংসতায় দুই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইলে যান চলাচল পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিক চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালের দিকে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সংঘবদ্ধ হয়ে মহাসড়কে নেমে আসেন। তারা বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা যখন অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন, তখন পুলিশের সঙ্গে তাদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের কেন্দ্রস্থলগুলোর মধ্যে রয়েছে ভোগড়া, নাওজোড়, মৌচাক ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা। এসব স্থানে শ্রমিকদের বড় একটি অংশ অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, বর্তমানে যে মজুরি পান তা দিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো অসম্ভব, তাই মজুরি কাঠামো পরিবর্তনের জন্য তারা সড়কে নামতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে পুলিশ জানায়, মহাসড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জনদুর্ভোগ বাড়ানো হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া তাদের কোনো বিকল্প ছিল না।

সংঘর্ষ চলাকালে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে সাতজনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রমিক প্রতিনিধিদের আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে। শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে এই ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় শ্রমিকদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা কাজ করছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মতো ব্যস্ততম পথে যান চলাচল বন্ধ থাকায় শিল্পাঞ্চলে পণ্য পরিবহন ও সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে।

সর্বশেষ
চীনে ফুলেফেঁপে উঠছে নতুন ধারার রোমান্স অর্থনীতি ইতালি দূতাবাসের প্রশিক্ষণ সেমিনার: কোটার বাইরেও বাংলাদেশিদের নতুন সুযোগ গাজীপুরে মহাসড়কে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ: আহত ৩০, যান চলাচল ব্যাহত প্রশাসনিক দুর্নীতি দমনে খলিফা ওমর (রা.)-এর নীতি ও পদক্ষেপ আশুলিয়ার শিল্পকর্মে শ্রমিকের কর্মস্থল দাবি, পুলিশে ৫০ জন আহত সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় বাস উল্টে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত, সড়ক-রেলপথ অবরোধ লরির ধাক্কায় মিনিবাস উল্টে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী নিহত, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ, ১০ কিমি যানজট পোশাকশ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতার অভিযোগে নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩৩ সদস্য গ্রেপ্তার: ডিএমপি ভূল্লীতে প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার জনবলের ঘাটতিতে কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি নষ্ট
Advertisement