যুব ওয়ানডেতে বিতর্কিত ১১ ওভারের বোলিং, আফগান বোর্ডের কাছে বিসিবির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ । ২:১৪ অপরাহ্ণ

যুব ওয়ানডে ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, একজন বোলার ম্যাচে সর্বোচ্চ দশ ওভার বল করতে পারেন। কিন্তু এই সাধারণ নিয়মটিই লঙ্ঘিত হয়েছে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে। অভিযোগ উঠেছে, এই ম্যাচে আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের একজন বোলার দশ ওভারের পরিবর্তে মোট এগারো ওভার বল করেছেন। মাঠে ঘটে যাওয়া এই অনভিপ্রেত ঘটনাটির প্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

সাম্প্রতিক এই সিরিজে মাঠের পারফরম্যান্স ছাপিয়ে এখন মাঠের বাইরের নিয়মকানুনের বিষয়টি বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচ চলাকালীন আফগানিস্তানের ওই বোলার নির্ধারিত কোটার চেয়ে এক ওভার বেশি বল করলেও তা মাঠের দায়িত্বে থাকা আম্পায়ারদের নজরে পড়েনি অথবা তারা সেটি এড়িয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্রিকেটীয় আইন অনুযায়ী, কোটা পূর্ণ হওয়ার পর কোনো বোলারের বল করার সুযোগ নেই। নিয়ম ভঙ্গের এই বিষয়টি ম্যাচ শেষে বিসিবির নজরে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

সূত্র মারফত জানা গেছে, ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশ দলের পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। কেবল অতিরিক্ত এক ওভার বল করানোই নয়, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মুহূর্তে আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতেই আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (এসিবি) কাছে লিখিত আকারে অভিযোগ জানিয়েছে বিসিবি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, যুব পর্যায়ের আন্তর্জাতিক ম্যাচে এই ধরণের কারিগরি ভুল এবং আম্পায়ারিং বিতর্ক ক্রিকেটের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করে।

ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই পুরো ঘটনাটি ক্রিকেটাঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণত আম্পায়ার এবং স্কোরারদের সমন্বিত দায়িত্ব থাকে বোলারের কোটা ঠিক রাখা। সে ক্ষেত্রে এই ভুলের দায়ভার ম্যাচ অফিশিয়ালদের ওপরও বর্তায় বলে মনে করছেন ক্রিকেট বোদ্ধারা। বিসিবি তাদের অভিযোগে এই ধরণের ভুল যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সিরিজের এই ম্যাচটি কেবল একটি হারের বা জয়ের বিষয় নয়, বরং মাঠের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিয়মের সঠিক প্রয়োগের বিষয়টিও এখানে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসিবিকে দেওয়া বিসিবির চিঠিতে ঘটনার বিশদ বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। এখন আফগান ক্রিকেট বোর্ড এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে, সেটিই দেখার বিষয়।

উল্লেখ্য, অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে সাধারণত ক্রিকেটারদের নিয়মকানুন এবং ডিসিপ্লিন সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হয়। সেখানে আন্তর্জাতিক ম্যাচে এমন নিয়ম ভাঙার ঘটনা বেশ বিব্রতকর। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, তারা ক্রিকেটের মানদণ্ড বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর এবং প্রয়োজনে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতেও তারা পিছপা হবে না। আপাতত আফগান বোর্ডের উত্তরের অপেক্ষায় আছে বিসিবি।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন