দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নিরাপত্তা একটি মৌলিক চাহিদা হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে একটি নির্দিষ্ট সড়কের চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। এই সড়কে দিনের বেলাতেও পথচারী ও যাত্রীসাধারণ স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারছেন না। নিরাপত্তা নিয়ে যে শঙ্কা, তা এতটাই তীব্র যে সন্ধ্যা নামলেই পুরো সড়কটি জনশূন্য হয়ে পড়ে। আতঙ্কের কারণে যানবাহন চালকরা এই রুটটি এড়িয়ে চলেন, ফলে সন্ধ্যা বা রাতের বেলায় সড়ক যোগাযোগ বলতে গেলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের অভাবে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। দিনের বেলাতেও ছিনতাই বা উত্ত্যক্ত করার মতো ঘটনার ভয়ে সাধারণ মানুষ একা ওই পথ দিয়ে যেতে সাহস পান না। ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কর্মজীবী মানুষ। সড়কটিতে নিয়মিত টহল বা নজরদারি না থাকায় অসাধু চক্রের সদস্যরা অনেকটা নিশ্চিন্তেই তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে সড়কের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। দিনের কর্মচঞ্চল সড়কটি রাত বাড়ার সাথে সাথে ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি করে। পরিবহন শ্রমিকদের ভাষ্যমতে, সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামলে কোনো চালকই ঝুঁকি নিতে চান না। যাত্রী পাওয়া গেলেও নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেকেই ওই রুটে গাড়ি নিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে সন্ধ্যার পর থেকে ওই এলাকাটি একপ্রকার বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো হয়ে পড়ে। জরুরি প্রয়োজনেও কেউ ওই সড়কটি ব্যবহার করতে পারেন না। এ অবস্থায় রোগী পরিবহন বা জরুরি সেবামূলক কাজও থমকে যায়।
সড়কের এই শোচনীয় অবস্থার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতির ওপর। দোকানপাট বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যার আগেই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নেমেছে। কর্মসংস্থানের আশায় যেসব দোকানপাট গড়ে উঠেছিল, নিরাপত্তার অভাবে সেগুলো এখন বিলুপ্তির পথে। এলাকাবাসী একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও স্থায়ী কোনো সমাধান আজও মিলছে না। মাঝে মাঝে কিছু বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ দেখা গেলেও, দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তায় ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।
নিরাপত্তাহীনতার এই সংকট কেবল একটি সড়কের সমস্যা নয়, এটি স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার অধিকারের ওপরও আঘাত। সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকা এবং নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলের অভাবই এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে স্থানীয়দের অভিমত। তারা দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি সড়ক আলোকায়নের মাধ্যমে ভীতি দূর করার দাবিও জোরালো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি জনপদ সচল রাখতে হলে সড়কপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সন্ধ্যা নামলেই যদি কোনো সড়ক যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তবে তা সামগ্রিক এলাকার উন্নয়ন ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। বিষয়টি নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ না নিলে অদূর ভবিষ্যতে বড় কোনো দুর্ঘটনা বা অপরাধের ঘটনা ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। প্রশাসনের যথাযথ ও কার্যকর হস্তক্ষেপই পারে এই সড়ককে আবার প্রাণবন্ত ও চলাচল উপযোগী করে তুলতে। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টিকে কতটা গুরুত্বের সাথে দেখছে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ভয় নয়, বরং ভরসার একটি সড়ক হিসেবে দ্রুতই এই পথটি আবার চালু হবে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ । ৮:১৪ অপরাহ্ণ