৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সেমিনারে ইতালি দূতাবাসের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশিদের জন্য বৈধভাবে ইতালিতে কাজের নতুন পথ উন্মোচনের ঘোষণা দেন। সেমিনারের শিরোনাম ছিল ‘ইতালিতে দক্ষ অভিবাসনের জন্য ভাষা, নাগরিক এবং পেশাদার প্রশিক্ষণ’। এতে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সংস্থার প্রতিনিধি।
সেমিনারে জানানো হয়, ইতালি বর্তমানে প্রায় ২,১৭,০০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বৈধভাবে স্বাগত জানিয়ে চলেছে, যার মধ্যে প্রায় ৮০,০০০ কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা ধারী। তবে অধিকাংশই অপ্রশিক্ষিত শ্রমিক, যা ইতালির উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীর চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়। তাই ইতালি দূতাবাসের লক্ষ্য হল, ভাষা, নাগরিক অধিকার ও পেশাগত দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীকে সরাসরি নিয়োগের জন্য প্রস্তুত করা, যাতে দালাল বা ‘কোটা’ (অবৈধ রুট) এর ওপর নির্ভর না করে সরাসরি বৈধ পথে অভিবাসন সম্ভব হয়।
প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামটি তিনটি স্তরে ভাগ করা হবে: প্রথমে ইতালীয় ভাষার মৌলিক থেকে উন্নত স্তর পর্যন্ত কোর্স, এরপর ইতালির নাগরিক আইন, সংস্কৃতি ও কাজের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা সেশন, এবং শেষমেশ নির্দিষ্ট পেশাগত দক্ষতা যেমন হসপিটালিটি, নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ। এই কোর্সগুলো সম্পন্ন করার পর অংশগ্রহণকারীরা ইতালির সংশ্লিষ্ট শ্রম সংস্থার সঙ্গে সরাসরি সংযোগের মাধ্যমে চাকরির সুযোগ পেতে পারে।
ইতালি দূতাবাসের মুখপাত্র উল্লেখ করেন, “বৈধ পথে দক্ষ কর্মী পাঠানো আমাদের দু’দেশের জন্যই লাভজনক। ইতালিতে কর্মসংস্থান ঘাটতি রয়েছে, বিশেষ করে উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীর চাহিদা। বাংলাদেশি শ্রমিকদের যদি যথাযথ প্রশিক্ষণ ও ভাষা দক্ষতা থাকে, তবে তারা ইতালির বাজারে সহজে প্রবেশ করতে পারবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা কোটার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে, নিরাপদ ও স্বচ্ছ অভিবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে চাই।”
এই সেমিনারের পাশাপাশি, সরকারও তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালীয় শেখার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি ইতালীয়কে তৃতীয় ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তটি শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর অফিসের একটি বিবৃতি অনুযায়ী, শীঘ্রই দেশের বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজে ইতালীয় ভাষা শিক্ষার জন্য পাঠ্যক্রম ও প্রশিক্ষক নিয়োগের কাজ শুরু হবে। এই পদক্ষেপটি কেবল বিদেশে কাজের সুযোগই বাড়াবে না, বরং আন্তর্জাতিক পর্যটন ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
প্রশিক্ষণ সেমিনারে অংশগ্রহণকারী এক তরুণ প্রার্থী, রাহুল চৌধুরী (বয়স ২৪), বলেন, “আগে কোটার মাধ্যমে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, এখন সরকার ও দূতাবাসের এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরাসরি এবং নিরাপদে ইতালিতে কাজের সুযোগ পেতে পারব। আমি ইতালীয় ভাষা শিখে, পেশাগত দক্ষতা বাড়িয়ে ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চাই।”
দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামটি আগামী মাস থেকে শুরু হবে এবং আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে চালু হয়েছে। আবেদনকারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স ও স্বাস্থ্যগত মানদণ্ড পূরণ করতে হবে, এবং নির্বাচিত হলে তারা পূর্ণ বৃত্তি সহ প্রশিক্ষণ পাবে। এছাড়া, প্রশিক্ষণ শেষে ইতালির সংশ্লিষ্ট শিল্প সংস্থার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করা হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য কোটার ঝুঁকি কমে, বৈধ ও দক্ষ কর্মী হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে, ইতালির শ্রম ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশি কর্মীর ভূমিকা আরও সুদৃঢ় হবে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ । ৫:১৫ অপরাহ্ণ