মুখে বরফ ঘষলে কি সত্যিই ওপেন পোরস কমে? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে রূপচর্চার নানান ঘরোয়া উপায় বা হ্যাকস আমাদের হাতের নাগালে চলে এসেছে। এসবের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো মুখে বরফ ঘষা। অনেক রূপচর্চাবিদ বা ইনফ্লুয়েন্সার দাবি করেন, প্রতিদিন নিয়ম করে মুখে বরফের টুকরো ঘষলে ত্বকের ওপেন পোরস বা রোমকূপের ছিদ্র ছোট হয়ে আসে এবং ত্বকে প্রাকৃতিক জেল্লা ফিরে পাওয়া যায়। কিন্তু এই ধারণাটি কি আদৌ বিজ্ঞানসম্মত, নাকি এটি নিছকই একটি ইন্টারনেটের মিথ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতামত বিশ্লেষণ করলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে।
চিকিৎসকদের মতে, আমাদের ত্বকের রোমকূপের আকার জিনগত কারণ বা হরমোনের পরিবর্তনের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে। চাইলেই বরফ ঘষে এই প্রাকৃতিক ছিদ্রগুলোকে চিরতরে ছোট করে ফেলা সম্ভব নয়। যখন আমরা ত্বকে বরফ ঘষি, তখন ঠান্ডার প্রভাবে সাময়িকভাবে রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়। এর ফলে ত্বক কিছুটা টানটান মনে হতে পারে এবং রোমকূপগুলোও সংকুচিত দেখায়। তবে এই প্রভাবটি অত্যন্ত সাময়িক। বরফ সরিয়ে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই ত্বক স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরে আসে এবং রোমকূপগুলো আবার আগের অবস্থায় চলে যায়। অর্থাৎ, এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করছেন যে, বরফ ব্যবহারের পদ্ধতি ভুল হলে উপকারের চেয়ে অপকার হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সরাসরি ত্বকে বরফ ঘষা অনেকের ক্ষেত্রে ক্ষতির কারণ হতে পারে। বরফের অতিরিক্ত শীতলতা ত্বকের সূক্ষ্ম টিস্যুগুলোর ক্ষতি করতে পারে, বিশেষ করে যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে এটি ক্ষতিকর হতে পারে। এমনকি দীর্ঘক্ষণ বরফ ধরে রাখলে বরফপোড়া বা কোল্ড বার্ন হওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এছাড়া রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও সরাসরি বরফের প্রয়োগ বিপজ্জনক হতে পারে।
রূপচর্চার ক্ষেত্রে কোনো নতুন পদ্ধতি অনুসরণের আগে তা ত্বকের প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা জরুরি। বরফ ব্যবহারের যে চলটি জনপ্রিয় হয়েছে, তা মূলত ত্বকের সাময়িক সতেজতা বা ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে, তবে ওপেন পোরস বা ত্বকের গভীর কোনো সমস্যার সমাধানে এটি কার্যকরী নয়। ত্বকের যত্নে সঠিক ক্লিনজিং, টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিং রুটিন অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
পরিশেষে বলা যায়, ইন্টারনেটে ছড়ানো সব রূপচর্চার টিপস অন্ধভাবে অনুসরণ করা উচিত নয়। বরফ ঘষলে ত্বক সাময়িকভাবে সজীব মনে হতে পারে, কিন্তু এটিকে ওপেন পোরস দূর করার কোনো জাদুকরী ওষুধ হিসেবে দেখা ভুল। যদি ত্বকের রোমকূপের সমস্যা নিয়ে উদ্বেগের কারণ থাকে, তবে কোনো বিশেষজ্ঞ চর্মরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। ঘরোয়া উপায়ের নামে ভুল অভ্যাস ত্বকের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিসাধন করতে পারে, তাই যে কোনো রুটিন শুরুর আগে সজাগ থাকা প্রয়োজন।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]