পদ্মা নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পরিকল্পনাটি এবার দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে। সরকারি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই সেতুর নকশা ও নির্মাণের ধরণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত হতে যাওয়া এই দ্বিতীয় সেতুটি ওয়াই-টাইপ বা ওয়াই-আকৃতির হবে। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে সরকার এই মেগাপ্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়।
সভায় উপস্থিত নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর পাশাপাশি পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের কাজটিও সমান গুরুত্বের সাথে এগিয়ে নেওয়া হবে। পদ্মা ব্যারাজ এবং দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজের মধ্যে সমন্বয় রেখে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর ফলে নদীর পানি ব্যবস্থাপনা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উভয় ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পদ্মা সেতুর পাশাপাশি যমুনা নদীর ওপরও আরেকটি দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াই-টাইপ সেতুর নকশা মূলত একাধিক গন্তব্যকে একটি কেন্দ্রবিন্দু থেকে সংযুক্ত করার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। পদ্মা নদীতে এই ধরনের নকশা ব্যবহারের ফলে নদীর দুই পারের যোগাযোগ সহজতর হবে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় থাকবে। সরকার এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা পদ্মা ও যমুনা নদীর দ্বিতীয় সেতু প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও এর নানাবিধ কারিগরি দিক নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটি মূলত কৃষি ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা সেতুর কাজের সাথে তাল মিলিয়ে সম্পন্ন করা হবে।
সরকারের এই বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। যোগাযোগ অবকাঠামোর এই উন্নয়নের ফলে দীর্ঘমেয়াদী সুফল ভোগ করবেন সাধারণ মানুষ। একই সাথে প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সকল প্রকার প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতির দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এসব প্রকল্পের বিস্তারিত ডিজাইন এবং নির্মাণ ব্যয় সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে আপাতত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই মেগাপ্রকল্পগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ায় মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করার পথ প্রশস্ত হলো।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ । ৬:১৬ অপরাহ্ণ