বাংলাদেশ ফুটবল লিগে এক স্মরণীয় জয়ের সাক্ষী হলো গোপালগঞ্জ জেলা স্টেডিয়াম। প্রতিযোগিতামূলক আসরে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে এসে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল ব্রাদার্স ইউনিয়ন। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী আবাহনী লিমিটেডকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে ব্রাদার্স প্রমাণ করেছে যে, কোনো দলই মাঠে দুর্বল নয়। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে খেলাটি বেশ জমজমাট ছিল। পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড সৈয়দ আলি রাজার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে আবাহনীর রক্ষণভাগ বারবার পর্যুদস্ত হয়েছে।
ম্যাচের শুরুর দিকে আবাহনী এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। খেলার দ্বিতীয় মিনিটেই সজীবের ক্রস থেকে বাবাতুঙ্গে হেড নিয়েছিলেন। তবে অল্পের জন্য বল পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যাওয়ায় গোলবঞ্চিত হতে হয় তাদের। এরপর থেকেই খেলা নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। প্রথমার্ধে পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড সৈয়দ আলি রাজা নিজের কারিশমা দেখাতে শুরু করেন। একের পর এক আক্রমণ সাজিয়ে তিনি আবাহনীর রক্ষণের চাপ বাড়িয়ে তোলেন। শেষ পর্যন্ত তার ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে গোলের দেখা পায় ব্রাদার্স।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ ছিল আরও বেশি নাটকীয়। মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল যখন রেফারিকে বারবার কার্ড পকেটে হাত দিতে হয়েছে। তিন লাল কার্ডের এই ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছিল। রেফারির কড়া নজরদারির মধ্যেও দুই দল জয়ের লক্ষ্য থেকে সরেনি। সৈয়দ আলি রাজা তার দ্বিতীয় গোলটি করে ব্যবধান বাড়িয়ে নিলে চাপে পড়ে যায় আবাহনী লিমিটেড। আবাহনী গোল শোধ করার জন্য মরিয়া হয়ে শেষ সময় পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে গেছে, কিন্তু ব্রাদার্সের রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় তারা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পায়নি। শেষ পর্যন্ত ব্যবধান কমাতে পারলেও ম্যাচ থেকে পয়েন্ট তুলে নিতে ব্যর্থ হয় আবাহনী।
গোপালগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকরা এদিন একটি ঘটনাবহুল ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করলেন। তিন লাল কার্ডের ঘটনায় ম্যাচের উত্তেজনা শেষ বাঁশি বাজার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বজায় ছিল। আবাহনীর মতো বড় দলের বিপক্ষে এমন জয় ব্রাদার্স ইউনিয়নের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে সৈয়দ আলি রাজার গোল করার দক্ষতা দলের আক্রমণভাগকে আগামী ম্যাচগুলোতে আরও শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে, এই পরাজয় আবাহনীকে তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোর প্রস্তুতির ক্ষেত্রে নতুন করে ভাবনার খোরাক দেবে।
বাংলাদেশ ফুটবল লিগের এই জয় ব্রাদার্স ইউনিয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লিগের শুরুর দিকে পয়েন্ট হারানো দলটির জন্য এই তিন পয়েন্ট টেবিলের অবস্থান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে। কোচিং স্টাফের পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন এবং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ফর্মের সমন্বয়ে ব্রাদার্স ইউনিয়ন শেষ পর্যন্ত পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ল। মাঠের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে যেভাবে তারা খেলেছে, তাতে দলের খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তারও পরিচয় পাওয়া গেল। এখন দেখার বিষয়, এই জয়ের ধারা ব্রাদার্স ইউনিয়ন পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও ধরে রাখতে পারে কি না।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ