খুঁজুন
, ,

ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন মুখ নেহা বোরা: মোদী সরকারের মাথাব্যথার কারণ?

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন মুখ নেহা বোরা: মোদী সরকারের মাথাব্যথার কারণ?

ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে উঠে এসেছেন নেহা বোরা। ২৯ বছর বয়সী এই তরুণীর উত্থান নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। তিনি কি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের জন্য বড় কোনো চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছেন?

ভারতের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ এবং তাদের কণ্ঠস্বর ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এই পরিবর্তনের ধারায় সাম্প্রতিক সময়ে যে নামটি নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে, তিনি হলেন নেহা বোরা। ২৯ বছর বয়সী এই তরুণীর রাজনৈতিক উত্থান ভারতের ক্ষমতাসীন সরকারের জন্য একটি বড় ধরনের সংকেত কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ছাত্ররাজনীতির আঙিনা থেকে উঠে আসা এই নেত্রীকে অনেকেই এখন ভারতের রাজনীতির ‘নতুন লাল তারকা’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

নেহা বোরার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল সাধারণ একজন শিক্ষার্থী হিসেবে। ক্যাম্পাসের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি যেভাবে রাজপথে সোচ্চার হয়েছেন এবং সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে জনমত গঠন করেছেন, তা অনেকের নজর কেড়েছে। সমসাময়িক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেহার মতো তরুণ নেতৃত্বের প্রতি তরুণ ভোটারদের যে বিশেষ ঝোঁক দেখা যাচ্ছে, তা ভারতের প্রথাগত রাজনৈতিক সমীকরণগুলোকে বড় ধরনের পরিবর্তনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ভারতের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে বিজেপির আধিপত্য বজায় থাকলেও, নেহার মতো নতুন প্রজন্মের নেতাদের উপস্থিতি সেই সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন পলিসি নিয়ে নেহা বোরা অত্যন্ত সোচ্চার। বিশেষ করে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও নারী অধিকার ইস্যুতে তার বক্তব্যগুলো তরুণ সমাজকে দারুণভাবে প্রভাবিত করছে। তিনি তার রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যেভাবে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগকে তুলে ধরছেন, তা রাজনৈতিক মহলে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, নেহা বোরা কেবল একজন ছাত্রনেতাই নন, বরং তিনি একটি নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। তবে এই উত্থানকে সরাসরি মোদী সরকারের জন্য ‘আসল হুমকি’ হিসেবে এখনই চিহ্নিত করতে নারাজ অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে, ভারতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে গেলে যে সাংগঠনিক শক্তি ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়, তা অর্জনের পথ এখনো দীর্ঘ।

রাজনৈতিক অঙ্গনে নেহা বোরার এই পরিচিতি বা জনপ্রিয়তা কতটুকু টেকসই হবে, তা নিয়ে সংশয়ও রয়েছে। ভারতের বিশাল ও বৈচিত্র্যময় রাজনৈতিক ময়দানে তরুণ নেতারা প্রায়শই সময়ের স্রোতে হারিয়ে যান। তবে নেহার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন পাবলিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যে ধরনের জনমত গঠনের চেষ্টা করছেন, তা আগের অনেক তরুণ নেতার চেয়ে অনেকটাই আলাদা। তার বক্তব্যগুলোতে বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি এক ধরনের জেদ ও পরিবর্তন আনার তাগিদ স্পষ্ট।

সবশেষে বলা যায়, নেহা বোরা ভারতের রাজনীতিতে একটি নতুন সম্ভাবনার কথা বলছেন। ভারতের আগামী দিনগুলোতে তরুণদের রাজনৈতিক সক্রিয়তা যে আরও বাড়বে, তার একটি বড় প্রমাণ তিনি। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সরকারের জন্য তিনি তাৎক্ষণিক কোনো বড় ঝুঁকি কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এটি নিশ্চিত যে, নেহা বোরার মতো নতুন মুখেরা ভারতীয় রাজনীতির ভবিষ্যতের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে যাচ্ছেন, যা দেশি ও আন্তর্জাতিক মহলের নজর এড়িয়ে যাবে না। তার পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ এবং রণকৌশল কী হতে যাচ্ছে, তা এখন দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

নিউজিল্যান্ডের পাহাড়সম সংগ্রহ টপকে ভারতের দুর্দান্ত জয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
নিউজিল্যান্ডের পাহাড়সম সংগ্রহ টপকে ভারতের দুর্দান্ত জয়

সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২২৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের ব্যাটারদের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের কাছে হার মানল নিউজিল্যান্ড। কিউই বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়েই জয় তুলে নিল সফরকারীরা।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ফরম্যাটটাই এমন, যেখানে বড় রানের স্কোরবোর্ড নিয়েও জয় নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ক্রিকেট বিশ্ব আবারও সেই চিরচেনা উত্তেজনার সাক্ষী হলো সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাদেরই বিপক্ষে ২২৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত যে আধিপত্য দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। স্বাগতিকদের পাহাড়সম সংগ্রহকে পাত্তাই দেয়নি সফরকারী ভারতের ব্যাটাররা। অত্যন্ত দাপুটে ব্যাটিং প্রদর্শনীতে ম্যাচটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জয় তুলে নিয়েছে ভারত।

ম্যাচের শুরু থেকেই কিউই ব্যাটাররা তাদের স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পরিচয় দিয়েছিল। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা শুরু থেকেই স্ট্রোক খেলার ওপর জোর দিয়েছিলেন, যার ফলে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ গিয়ে ঠেকে ২২৫ রানে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এই রান অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ম্যাচ জেতার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই জয়ের ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিল নিউজিল্যান্ড। তবে তাদের সেই আত্মবিশ্বাসকে গুঁড়িয়ে দিতে খুব একটা সময় নেননি ভারতের ব্যাটাররা।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারত শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করে। কিউই বোলারদের ওপর শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করেন ভারতের উদ্বোধনী জুটি। মাঠের চারপাশ দিয়ে বাউন্ডারির বন্যা বইয়ে দেন তারা। নিউজিল্যান্ডের বোলাররা কোনো পর্যায়েই সেভাবে ভারতের ব্যাটারদের গতি বা রান তোলার গতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। একের পর এক ডট বল কিংবা ব্রেকথ্রুর জন্য মরিয়া হলেও কিউই ফিল্ডাররা সেভাবে কোনো সহায়তা করতে ব্যর্থ হন। বিশেষ করে পাওয়ার প্লেতে ভারতের রান তোলার গতি নিউজিল্যান্ডকে অনেকটা কোণঠাসা করে ফেলে।

ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে ভারতের ব্যাটাররা যেভাবে উইকেট ধরে রেখে রান রেট সচল রেখেছিলেন, তা ছিল দেখার মতো। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে সাধারণত ব্যাটাররা তাড়াহুড়ো করে উইকেট বিলিয়ে দেন, কিন্তু এদিন ভারতের ব্যাটিং লাইনের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রতিটি ব্যাটার নিজের দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করেছেন এবং কিউই বোলারদের চাপে রাখার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছেন। বল ও রানের ব্যবধান কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে তারা কোনো ভুল করেননি।

নিউজিল্যান্ডের বোলাররা ম্যাচ ফিরতে বিভিন্ন পরিকল্পনা করলেও ভারতের ব্যাটারদের রুখতে সব কৌশলই ব্যর্থ হয়েছে। ভারতীয় ব্যাটারদের কাছে কিউই বোলিং আক্রমণ যেন এদিন একেবারেই নখদন্তহীন মনে হয়েছে। কোনো পর্যায়েই মনে হয়নি যে ভারত এই রান তাড়া করতে গিয়ে খুব বেশি চাপের মুখে পড়েছে। শেষ পর্যন্ত জয়ের বন্দরে ভারত অনায়াসেই পৌঁছে যায়।

এই জয় ভারতের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সিরিজের প্রথম ম্যাচে এমন দাপুটে জয় পুরো দলের মনোবলকে আগামী ম্যাচগুলোর জন্য চাঙ্গা করবে। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা। নিজেদের মাঠে ২২৫ রানের মতো বিশাল সংগ্রহ করেও বোলারদের ব্যর্থতায় ম্যাচ হারতে হলো তাদের। সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোতে নিজেদের বোলিং আক্রমণে বড় কোনো পরিবর্তন বা পরিকল্পনায় রদবদল না আনলে নিউজিল্যান্ডকে আবারও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন তাকিয়ে আছেন পরবর্তী লড়াইয়ের দিকে। সিরিজের প্রথম ম্যাচটি যেভাবে শেষ হলো, তাতে পরবর্তী ম্যাচগুলো যে আরও উত্তেজনাকর হতে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।

কারাবন্দি বিএনপি নেতার পরিবারের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
কারাবন্দি বিএনপি নেতার পরিবারের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

দুই মেয়ের আকুতি শুনে কারাবন্দি এক বিএনপি নেতার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় কারাবন্দি এক বিএনপি নেতার পরিবারের সহায়তার বিষয়টি বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দুই মেয়ের আকুতিতে সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। যদিও কারাবন্দি ওই বিএনপি নেতার বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে ঘটনাটি নিয়ে সচেতন মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা সাধারণ মানুষের মাঝে তার মানবিক ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করেছে। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের পাশাপাশি এমন মানবিক কাজে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপের বিষয়টি জনমনে স্বস্তি বয়ে এনেছে।

এই ঘটনার পাশাপাশি একই সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বরিশালে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ উঠেছে। নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার নামে কয়েকজনকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো আইনি এখতিয়ার ছাড়াই তিনি এই অভিযান পরিচালনা করেছেন, যা নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, বাগেরহাটে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফর নিয়েও ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। মোংলা বন্দর জেটি ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রটোকল ভেঙে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যান। গাড়ি থেকে নেমে তিনি সরাসরি উপস্থিত জনতার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সহজ-সরল আচরণ উপস্থিত স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি করে। উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জনগণের সাথে প্রধানমন্ত্রীর এই সংযোগ স্থাপনের প্রক্রিয়াটি সরকার ও সাধারণ জনগণের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে আনার একটি অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

কারাবন্দি বিএনপি নেতার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি বড় নিদর্শন হিসেবে দেখছেন অনেক সমাজকর্মী। দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে, তবে মানবিক প্রয়োজনে রাষ্ট্রের প্রধানের এগিয়ে আসা প্রশংসার দাবি রাখে।

এদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে যাতে করে সাধারণ জনগণ কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন। বরিশালের ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। যে কোনো ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারো নেই, এমনটাই মনে করছে সচেতন মহল। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের মূল চ্যালেঞ্জ।

প্রধানমন্ত্রী যেখানে জনগণের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, সেখানে রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি। কারাবন্দি ব্যক্তির পরিবারকে সহায়তার এই উদাহরণটি ভবিষ্যতে অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের জন্যও একটি বার্তা হতে পারে, যেখানে রাজনীতির ঊর্ধ্বে মানবিকতাকে স্থান দেওয়া হয়েছে। দেশের উন্নয়নে এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব পক্ষের সহযোগিতা কাম্য। প্রধানমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক সফরে যেভাবে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করছেন এবং জনগণের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তাতে দেশের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার ও জনগণের এই সমন্বিত প্রয়াসই আগামী দিনে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বন্ধ শিল্পের সম্পদ কাজে লাগিয়ে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
বন্ধ শিল্পের সম্পদ কাজে লাগিয়ে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি

বন্ধ ও অপ্রচলিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অবশিষ্ট অবকাঠামো ও সম্পদকে পুনরায় ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানো এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির তাগিদ সরকার ও শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠেছে।

দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের শিল্পক্ষেত্রের অদক্ষতা ও বন্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তীব্রতর হয়েছে। বিশেষত, সাম্প্রতিক সময়ে সরকার ও শিল্প সমিতির মধ্যে বন্ধ শিল্পের অবশিষ্ট সম্পদকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বাড়ানো এবং বেকারত্ব কমানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা তীব্রতর হয়েছে।

বহু বছর ধরে অপ্রচলিত বা বন্ধ অবস্থায় থাকা কারখানা, গুদাম ও উৎপাদন লাইনগুলোতে ইতিমধ্যে বিনিয়োগ করা মূলধন, মেশিনারি ও মানবসম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদকে পুনরায় সক্রিয় করা হলে নতুন পণ্য উৎপাদন, রপ্তানি সম্ভাবনা এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত পোষণ করছেন।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, বন্ধ শিল্পের অবকাঠামো পুনরায় ব্যবহার করলে নতুন বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা কমে যাবে, ফলে উৎপাদন খরচ হ্রাস পাবে। পাশাপাশি, বিদ্যমান কর্মী ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব হবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে সরকার শিল্প পুনরুজ্জীবনের জন্য নীতি নির্ধারণে ত্বরান্বিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি নথিতে বলা হয়েছে, বন্ধ শিল্পের সম্পদকে পুনরায় ব্যবহার করার জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা, কর রেহাই এবং সহজতর অনুমোদন প্রক্রিয়া প্রদান করা হবে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট শিল্পক্ষেত্রের জন্য প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা হবে, যাতে কর্মীশক্তি নতুন উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, পূর্বে টেক্সটাইল শিল্পে বন্ধ হয়ে থাকা একটি কারখানা, যেখানে আধুনিক মেশিনারি ও প্রশিক্ষিত কর্মী রয়েছে, তা পুনরায় চালু করা হলে দেশীয় ও রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পণ্য উৎপাদন সম্ভব হবে। একইভাবে, ধাতু ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পে বন্ধ থাকা গুদামগুলোকে লজিস্টিক হাব হিসেবে ব্যবহার করা হলে সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী হবে।

শিল্প সমিতির প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলছেন, এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ওপর। তারা প্রস্তাব করছেন, বন্ধ শিল্পের সম্পদ তালিকা তৈরি করে তা একটি ডাটাবেসে সংরক্ষণ করা হবে, যাতে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তারা সহজে তথ্য পেতে পারেন। এছাড়া, বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি।

কর্মসংস্থান দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, বন্ধ শিল্পের পুনরুজ্জীবন প্রক্রিয়ায় সরাসরি ও পরোক্ষভাবে লক্ষ লক্ষ কর্মীর জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষত, গ্রামীণ ও শিল্পবিহীন অঞ্চলে এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, যা দারিদ্র্য হ্রাসে সহায়ক হবে। শ্রম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বেকারত্বের হার ৪.২% এবং এই সংখ্যা কমাতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো অপরিহার্য।

অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বন্ধ শিল্পের সম্পদ পুনরায় ব্যবহার করলে দেশের মোট দেশীয় উৎপাদনে (GDP) প্রায় ১.৫% পর্যন্ত অবদান রাখতে পারে। এছাড়া, রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়ার ফলে বাণিজ্য ঘাটতি কমে যাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি পাবে।

তবে, এই পরিকল্পনার বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। প্রথমত, বন্ধ শিল্পের সম্পদের অবস্থা মূল্যায়ন ও পুনর্নির্মাণের জন্য যথাযথ তদারকি প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি হ্রাসের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার, যাতে তারা পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রমে অংশ নিতে উৎসাহিত হয়। তৃতীয়ত, শ্রমিকদের পুনঃপ্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা জরুরি।

এইসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যে কয়েকটি pilot project চালু করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা-নোয়াখালী সীমানায় অবস্থিত একটি বন্ধ গার্মেন্টস কারখানা পুনরায় চালু করার জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পের প্রথম ত্রৈমাসিকের ফলাফল ইতিবাচক, যেখানে ২০০ টিরও বেশি কর্মীকে পুনরায় কর্মসংস্থান প্রদান করা হয়েছে এবং উৎপাদন ক্ষমতা ৭০% পর্যন্ত পুনরুদ্ধার হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, বন্ধ শিল্পের সম্পদকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর তাগিদ দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকার, শিল্পক্ষেত্র ও শ্রমিকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং সঠিক নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই উদ্যোগ সফল হতে পারে এবং দেশের অর্থনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যেতে পারে।

সর্বশেষ
নিউজিল্যান্ডের পাহাড়সম সংগ্রহ টপকে ভারতের দুর্দান্ত জয় কারাবন্দি বিএনপি নেতার পরিবারের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বন্ধ শিল্পের সম্পদ কাজে লাগিয়ে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি বাগেরহাটে প্রটোকল ভেঙে সাধারণ মানুষের কাছে প্রধানমন্ত্রী গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে সিনিয়র অফিসার পদে অনলাইন আবেদন শুরু ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন মুখ নেহা বোরা: মোদী সরকারের মাথাব্যথার কারণ? শখ থেকে বিপদ: বিষধর গোখরা সাপের কামড়ে হাসপাতালে কাঠমিস্ত্রি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকসুর উদ্যোগে ‘প্রবন্ধসমগ্র’ প্রকাশ আফগানিস্তান ম্যাচের পর আলিস আল ইসলামের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড: হুড়োহুড়িতে আহত ৪০
Advertisement