তৈরি পোশাকশিল্পের নতুন মজুরি জানুয়ারিতেই কার্যকর করার দাবি শ্রমিকনেতাদের
তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো দ্রুত চূড়ান্ত করা এবং তা আগামী বছরের শুরু থেকেই কার্যকর করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন শ্রমিক নেতারা। সোমবার সকালে রাজধানী ঢাকার শ্রম ভবনে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এই দাবি উত্থাপন করা হয়। তারা স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি আর বিলম্বিত করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় শ্রমিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। শ্রম ভবনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, মজুরি বোর্ডকে এখন থেকে আর কোনো গড়িমসি করা চলবে না। আলোচনার দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করার মাধ্যমে দ্রুত মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করার দাবি জানান তারা। শ্রমিকরা জানান, প্রয়োজনে বিরতিহীনভাবে বা সারারাত ধরে বৈঠক করেও মজুরি বোর্ডকে একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে। তাদের লক্ষ্য হলো, আলোচনার টেবিলে দ্রুত ঐকমত্যে পৌঁছে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা।
শ্রমিক প্রতিনিধিরা তাদের দাবির সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, তৈরি পোশাকশিল্পের ওপর দেশের অর্থনীতি অনেকাংশেই নির্ভরশীল। সেই শিল্পের কারিগর যারা, তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন নির্ধারণ করা সময়ের দাবি। তারা আশা প্রকাশ করেন, মালিকপক্ষ ও সরকার বিষয়টি সহমর্মিতার সঙ্গে বিবেচনা করবে। শ্রমিকরা আগামী জানুয়ারির বেতনের সঙ্গেই নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর দেখতে চান, যা তাদের জীবনযাত্রার সংকট লাঘবে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে, মজুরি বোর্ড যদি সময়মতো তাদের কার্যপদ্ধতি শেষ করতে পারে, তবেই এই শিল্পে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। তারা যেকোনো ধরনের সংঘাত বা শ্রমিক অসন্তোষ এড়াতেও দ্রুত এই উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। এই সম্মেলন থেকে শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মজুরি নির্ধারণে কোনো প্রকার টালবাহানা সহ্য করা হবে না। তারা বিশ্বাস করেন, আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা সম্ভব, যার প্রতিফলন ঘটবে ২০২৭ সালের জানুয়ারির বেতন কাঠামোতে। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে আসা এই দাবি এখন পোশাকশিল্পের সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং শ্রম ভবনের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে সবার।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]