লাহোরে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, আহত ৫ সন্তান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ । ২:১৫ অপরাহ্ণ

পাকিস্তানের লাহোর শহরে একটি মর্মান্তিক ও নৃশংস পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় রবিবার নিশতার কলোনি থানার অন্তর্গত হাকিম চকে এক ব্যক্তি পারিবারিক বিরোধের জেরে নিজের স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন। এই হামলার সময় তার পাঁচ সন্তানও গুরুতর আহত হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, ঘটনার মূল অভিযুক্তের নাম আরশাদ। তাকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার কয়েকদিন আগে থেকেই অভিযুক্ত আরশাদের সঙ্গে তার স্ত্রীর কোনো একটি পারিবারিক বিষয়ে তীব্র মতবিরোধ বা ঝগড়া চলছিল। এই বিবাদের রেশ ধরেই রবিবার ওই ব্যক্তি রাগের মাথায় এই ভয়াবহ কাণ্ড ঘটান বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, হামলার সময় আরশাদ ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে তার স্ত্রীর ওপর চড়াও হন। তাকে বাঁচাতে গেলে দম্পতির পাঁচ সন্তানও গুরুতর জখম হয়। স্থানীয়রা চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে এবং অভিযুক্ত আরশাদকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে আহত শিশুদের চিকিৎসা চলছে। তবে তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। পুরো এলাকায় এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং আলামত সংগ্রহ শুরু করে। স্থানীয় থানায় ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত আরশাদকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে। এই নৃশংসতার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না বা পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঠিক কী নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল, সে বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তারা বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছেন। প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত আরশাদ ও তার স্ত্রীর মধ্যে এর আগেও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে বনিবনা হচ্ছিল, তবে এমন ভয়াবহ পরিণতি কেউ কল্পনা করতে পারেননি। লাহোর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এবং যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন। আইন অনুযায়ী অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মামলার চার্জশিট তৈরির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরশাদকে গ্রেফতারের পর থেকে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শিশুদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে সেখানকার পরিবেশ। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা ও কাউন্সিলিংয়ের অভাবই এমন পরিণতির জন্য অনেকাংশে দায়ী।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন