দেশের পোশাক শিল্প খাতের শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন (টাফ)। একইসঙ্গে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির যৌক্তিক দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। গত রবিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে ফেডারেশনের শীর্ষ নেতারা এ আহ্বান জানান। ফেডারেশনের সভাপতি ফয়জুল হাকিম এবং সাধারণ সম্পাদক আমির আব্বাস যৌথ বিবৃতিতে দেশের বেসরকারি শিল্প-কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে শ্রমজীবী মানুষের জীবনধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের জীবনমান রক্ষায় বিদ্যমান বেতন কাঠামোর পরিবর্তন ও মজুরি বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। এই শিল্পের শ্রমিকদের হাড়ভাঙা খাটুনিই দেশের রপ্তানি আয় নিশ্চিত করছে। অথচ যারা শ্রম দিয়ে অর্থনীতির চাকা সচল রাখছেন, তারাই বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা এখন সময়ের প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে। শ্রমিকদের দাবিকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই কারণ, তাদের কর্মস্পৃহার ওপরই শিল্পের অস্তিত্ব নির্ভর করে।
ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের নেতারা আরও বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। আমরা মনে করি, আলোচনার মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে যাতে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা পান। কেবল মজুরি বৃদ্ধিতেই সীমাবদ্ধ না থেকে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ উন্নয়ন এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শ্রমিকদের অসন্তোষ দীর্ঘস্থায়ী হলে তা দেশের সামগ্রিক উৎপাদন ও অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শিল্পের স্বার্থেই শ্রমিকদের দাবিগুলো সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কোনো প্রকার উসকানি বা দমনের পথ না বেছে নিয়ে আলোচনার টেবিলে সমাধানের পথ খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তারা। বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন বিশ্বাস করে যে, মালিক এবং শ্রমিক উভয় পক্ষ যদি গঠনমূলক আলোচনায় বসে, তবে অবশ্যই একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব।
পরিশেষে, দেশের সামগ্রিক শান্তি ও শিল্পের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নেতৃবৃন্দ। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন ঘটাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং গার্মেন্টস খাতে বিদ্যমান অস্থিরতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ । ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ