খুঁজুন
, ,

বিয়ের মাত্র ২৩ দিনের মাথায় স্বর্ণালংকার নিয়ে ড্রাইভারের সঙ্গে উধাও বিএনপি নেতার স্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
বিয়ের মাত্র ২৩ দিনের মাথায় স্বর্ণালংকার নিয়ে ড্রাইভারের সঙ্গে উধাও বিএনপি নেতার স্ত্রী

জামালপুরের মেলান্দহে এক বিএনপি নেতার সংসার করার মাত্র ২৩ দিনের মাথায় তার স্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে পালিয়ে গেছেন। স্থানীয় পৌর বর্জ্যবাহী গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে স্বর্ণালংকারসহ তাকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বিয়ের মাত্র ২৩ দিনের মাথায় এক বিএনপি নেতার স্ত্রী পরিবারের কোনো সদস্যকে না জানিয়েই ঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিখোঁজ গৃহবধূর সঙ্গে স্থানীয় পৌরসভার বর্জ্যবাহী গাড়ির চালকের হাত রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ওই বিএনপি নেতার ভাষ্যমতে, বেশ কিছুদিন আগেই তিনি বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। নতুন সংসার শুরুর আনন্দ যখন কাটেনি, ঠিক তখনই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। বিয়ের ২৩ দিনের মাথায় বাড়ির লোকজনের অগোচরে তার স্ত্রী ঘর থেকে বেরিয়ে যান। প্রাথমিকভাবে বাড়ির সদস্যরা তাকে আশেপাশে খুঁজেও পাননি। পরে পরিবারের লোকজনের নজরে আসে যে, ওই গৃহবধূ যাওয়ার সময় আলমারিতে রাখা মূল্যবান স্বর্ণালংকার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন।

ঘটনার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, নিখোঁজ ওই গৃহবধূর সঙ্গে মেলান্দহ পৌরসভার বর্জ্যবাহী গাড়ির চালক এমদাদুল হক অরচনের দীর্ঘদিনের পরিচয় ও সখ্যতা ছিল। ঘটনার দিন ওই চালককেও আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয়দের ধারণা, পূর্বপরিকল্পিতভাবেই তারা একসঙ্গে এলাকা ত্যাগ করেছেন। এই ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত চালক এমদাদুল হক পৌরসভায় অত্যন্ত সাধারণ কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় পৌর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যেও অস্বস্তি বিরাজ করছে। পলাতক ওই নারীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এই বিষয়ে খুব একটা মুখ খুলছেন না। তবে ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে কারণ বিষয়টি এখন পুলিশের নজরে এসেছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এদিকে, ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তিনি থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং অভিযুক্ত চালক ও গৃহবধূকে উদ্ধারের জন্য সম্ভাব্য স্থানগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করেও তাদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তারা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মানুষজন বিয়ের স্বল্প সময়ের মধ্যে এমন ঘটনার নেপথ্যের কারণ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা করছেন। কেউ কেউ ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনকে দায়ী করছেন, আবার কেউ পারিবারিক অসঙ্গতিকে সামনে নিয়ে আসছেন। তবে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয়।

মেলান্দহ থানার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ মাঠে নেমেছে। এটি একটি ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা হিসেবে মনে হলেও এর সঙ্গে চুরির অভিযোগ যুক্ত থাকায় বিষয়টি আইনত অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে পুলিশ। এখন দেখার বিষয়, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই রহস্যময় উধাও হওয়ার ঘটনার কূলকিনারা কত দ্রুত করতে পারে।

পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে দুই মেগা প্রকল্পের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
   
পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে দুই মেগা প্রকল্পের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের

বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিকায়ন ও সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন দুটি মেগা প্রকল্পের প্রস্তাবনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পুলিশের পেশাদারিত্ব আরও সুসংহত করা এবং মাঠপর্যায়ে সেবার মান বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুযায়ী, প্রকল্পগুলোর সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করবে সরকার। বর্তমানে এই প্রস্তাবনাগুলো যাচাই-বাছাই ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব পালনে গতিশীলতা আনা এবং বর্তমান সময়ের অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি করাকেই এই প্রকল্পগুলোর প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীকে একটি সময়োপযোগী শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রস্তাবিত প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে আমূল পরিবর্তন আসবে। অপরাধ দমনে পুলিশের সক্ষমতা বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার হবে।

প্রস্তাবিত প্রকল্প দুটির অর্থায়ন সম্পূর্ণ সরকারি কোষাগার থেকে নির্বাহ করা হবে। অর্থাৎ, প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হবে না। এই সিদ্ধান্ত সরকারের নিজস্ব সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রকল্পগুলো এখন নির্বাহী কমিটির বিবেচনার জন্য পেশ করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে অনুমোদিত হলে এগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কার্যকারিতা বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে এবং ডিজিটাল অপরাধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই প্রকল্পগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং নতুন অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টি প্রকল্পের কার্যপরিধিতে গুরুত্ব পেয়েছে।

বর্তমানে প্রকল্পের প্রস্তাবনাগুলো বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অতিক্রম করছে। প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত নকশা ও ব্যয় বিভাজন চূড়ান্ত করা হয়েছে। একনেকের সভায় এগুলো উত্থাপন করার পর চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা করছে, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে পুলিশের অপারেশনাল সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং জনসেবায় পুলিশ আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

সরকারের এই বৃহৎ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন দীর্ঘমেয়াদে অপরাধ দমনে এবং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের আধুনিকায়নের এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষ আরও দ্রুত এবং উন্নত সেবা পাবে বলে আশাবাদী নীতিনির্ধারকরা। বর্তমান সময়ে ক্রমবর্ধমান অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সাথে সাথে পুলিশকেও প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ হয়ে ওঠার যে প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, এই প্রকল্প দুটি মূলত সেই শূন্যতা পূরণের লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে।

সৌদি আরবে অপহৃত যশোরের যুবক, মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
   
সৌদি আরবে অপহৃত যশোরের যুবক, মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার এক যুবককে সৌদি আরবে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, অপহরণকারীরা বিপুল পরিমাণ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে, অন্যথায় প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে তাদের।

সৌদি আরবে কর্মরত যশোরের এক যুবককে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপহৃত যুবকের নাম সেতু হোসেন (২৭)। তিনি যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কির্তীপুর গ্রামের মৃত তরিকুল ড্রাইভারের ছেলে। কর্মসংস্থানের আশায় প্রবাসে পাড়ি দিলেও বর্তমানে চরম সংকটের মুখে পড়েছেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের দাবি, অপরিচিত ব্যক্তিরা তাকে জিম্মি করে রেখেছে এবং মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, সেতু হোসেন বেশ কিছুদিন আগে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ করেই তিনি নিখোঁজ হন। এরপর তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং জানানো হয় যে, তাকে অপহরণ করা হয়েছে। অপহরণকারীরা মুক্তিপণ হিসেবে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করেছে। এই অর্থ প্রদান না করলে সেতুকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।

ছেলের এমন বিপদের খবর শুনে তার মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। তারা বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত আতঙ্কিত। অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে বিদেশ গিয়েছিলেন সেতু। কিন্তু সেই বিদেশ এখন পরিবারের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা এখন প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন যাতে দ্রুত কোনো উপায়ে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

এ ধরনের ঘটনা প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা অপহরণের ঘটনা নতুন নয়, তবে প্রতিটি ঘটনাই ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেয়। আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতার কারণে বিদেশ থেকে অপহৃত ব্যক্তিদের উদ্ধার করা অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদী ও জটিল প্রক্রিয়ার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসকেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয়রা।

ঝিকরগাছার স্থানীয় এলাকাবাসীও এই ঘটনায় সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে সরকারের উচ্চপর্যায়ের মাধ্যমে সেতুর সন্ধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করার মতো সামর্থ্য ভুক্তভোগীর পরিবারের নেই বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। তারা এখন কেবল প্রার্থনায় এবং সরকারি সহায়তার আশায় দিন কাটাচ্ছেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

নিখোঁজ হওয়ার বা অপহৃত হওয়ার এই খবর পাওয়ার পর থেকে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কান্নার রোল পড়েছে। তারা জানেন না ঠিক কী পরিস্থিতিতে এবং কোথায় সেতুকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বা অপহরণকারীরা কঠোর অবস্থানে থাকায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও বাড়ছে। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় কোথায় গিয়েছেন বা দূতাবাস যোগাযোগ করেছে কিনা, তা নিশ্চিত করা যায়নি। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান হবে এবং সেতু অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসবেন।

জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতল আফগানিস্তান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
   
জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতল আফগানিস্তান

ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে জিম্বাবুয়েকে পাত্তাই দিল না আফগানিস্তান। দাপুটে পারফরম্যান্সে ৯৩ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখেই শিরোপা নিশ্চিত করল রশিদ খানরা। পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল দলটি।

ক্রিকেট বিশ্বে নিজেদের উত্তরণের গল্পটা আরও একবার রঙিন করে তুলল আফগানিস্তান। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে জিম্বাবুয়েকে একপেশে লড়াইয়ে উড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে তারা। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলা আফগানরা এই ফাইনালেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে। প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়েকে কোনো সুযোগই দেয়নি তারা। ৭ উইকেট আর ৯৩ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছেড়েছে আফগানিস্তান। এই জয়ের ফলে পুরো সিরিজে কোনো ম্যাচ না হেরেই অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে টুর্নামেন্ট শেষ করল দলটি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আফগান বোলারদের তোপের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপ। জিম্বাবুয়ে দলের ব্যাটাররা আফগান স্পিনার ও পেসারদের সমন্বিত আক্রমণের বিপরীতে খুব একটা প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। মাঠে নামা প্রতিটি আফগান বোলারই দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন। ফলে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় জিম্বাবুয়ে। তাদের ব্যাটারদের ক্রিজে টিকে থাকাটাই যেন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বড় কোনো দলীয় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হয় তারা।

জিম্বাবুয়ের দেওয়া লক্ষ্য খুব বড় না হওয়ায় আফগানিস্তানের ব্যাটাররা বেশ নিশ্চিন্তে ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েছেন। ওপেনিং থেকে শুরু করে মিডল অর্ডার—সবাই দায়িত্বশীল ব্যাটিং উপহার দিয়েছেন। ক্রিজে থিতু হওয়ার জন্য সময় নেওয়া এবং বাজে বলকে বাউন্ডারিতে পাঠানোই ছিল তাদের মূল কৌশল। বড় কোনো লক্ষ্য তাড়ায় যে ধরনের মানসিক প্রস্তুতির প্রয়োজন, আফগানিস্তান তা শতভাগ দেখাতে সক্ষম হয়েছে। দলের সেরা ব্যাটাররা দ্রুত রান তোলার বদলে ম্যাচটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার দিকেই বেশি মনোযোগী ছিলেন। ফলে খুব সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় তারা।

ফাইনালে আফগানিস্তানের এই দাপুটে জয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল। বিশেষ করে বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে যেভাবে তারা নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে, তা যেকোনো দলের জন্যই শিক্ষণীয়। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শেষ ম্যাচেও একই ছন্দ ধরে রাখাটা সহজ কাজ নয়, তবে আফগানিস্তান সেটিই করে দেখিয়েছে। সিরিজজুড়ে তাদের ফিল্ডিং ছিল দেখার মতো। অনেকগুলো কঠিন ক্যাচ গ্লাভস বন্দী করা কিংবা রান আউটের সুযোগ তৈরি করে নেওয়া—সবক্ষেত্রেই তারা ছিল তীক্ষ্ণ।

এদিকে, জিম্বাবুয়ে তাদের ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে বোলিংয়েও খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। আফগান ব্যাটারদের উইকেটের চারপাশে সাবলীল পদচারণা তাদের বোলারদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে। উইকেট শিকারের জন্য যে ধরনের আক্রমণাত্মক মানসিকতা প্রয়োজন ছিল, তা জিম্বাবুয়ের বোলিং আক্রমণে কিছুটা হলেও ঘাটতি ছিল। বল হাতে উইকেট পেতে হিমশিম খেতে হয়েছে তাদের বোলারদের। ফলে আফগানিস্তান খুব সহজেই জয় তুলে নেয়।

ম্যাচ জয়ের পর স্টেডিয়ামে উপস্থিত আফগান সমর্থকদের উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মতো। সিরিজের সেরা দল হিসেবেই যে তারা শিরোপা জিতেছে, তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। পুরো ওয়ানডে টুর্নামেন্টে প্রতিটি বিভাগেই তারা প্রতিপক্ষদের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে ছিল। এই জয় আফগানিস্তান ক্রিকেটের জন্য একটি বড় অর্জন। আগামী দিনে বড় কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার আগে এই ধরনের সিরিজ জয় তাদের মনোবল বৃদ্ধিতে বিশাল ভূমিকা রাখবে।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও ছিল আফগান খেলোয়াড়দের জয়জয়কার। ব্যক্তিগত নৈপুণ্য কিংবা দলীয় সাফল্য—সবখানেই তারা ছিল উজ্জ্বল। অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠ ছাড়া আফগানিস্তানের জন্য অবশ্যই একটি গর্বের মুহূর্ত। এই সাফল্যের রেশ ধরে রেখে আগামী সিরিজগুলোতেও তারা একই পারফরম্যান্স ধরে রাখার সংকল্প করেছে। জিম্বাবুয়ের জন্য অবশ্য এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিনগুলোতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফেরার চ্যালেঞ্জ রয়ে গেল। তবে দিনশেষে এটি ছিল আফগানিস্তানের ক্রিকেটীয় সক্ষমতা এবং কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বের এক অনন্য প্রদর্শনী।

সর্বশেষ
পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে দুই মেগা প্রকল্পের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিয়ের মাত্র ২৩ দিনের মাথায় স্বর্ণালংকার নিয়ে ড্রাইভারের সঙ্গে উধাও বিএনপি নেতার স্ত্রী সৌদি আরবে অপহৃত যশোরের যুবক, মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতল আফগানিস্তান রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় প্রবীণের মৃত্যু ঢাকা থেকে রিয়াদ-দাম্মামগামী ১৪১ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য: কারাগারে যুবক মৌলভীবাজারে অনলাইন অ্যাপে ভাড়া করা ফ্ল্যাট থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার, যুবক আটক পূজার বিশেষ সময়সীমা শেষ, পূর্বের নিয়মেই ফিরলো দোকানপাট
Advertisement