সৌদি আরবে কর্মরত যশোরের এক যুবককে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপহৃত যুবকের নাম সেতু হোসেন (২৭)। তিনি যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কির্তীপুর গ্রামের মৃত তরিকুল ড্রাইভারের ছেলে। কর্মসংস্থানের আশায় প্রবাসে পাড়ি দিলেও বর্তমানে চরম সংকটের মুখে পড়েছেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের দাবি, অপরিচিত ব্যক্তিরা তাকে জিম্মি করে রেখেছে এবং মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, সেতু হোসেন বেশ কিছুদিন আগে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ করেই তিনি নিখোঁজ হন। এরপর তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং জানানো হয় যে, তাকে অপহরণ করা হয়েছে। অপহরণকারীরা মুক্তিপণ হিসেবে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করেছে। এই অর্থ প্রদান না করলে সেতুকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।
ছেলের এমন বিপদের খবর শুনে তার মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। তারা বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত আতঙ্কিত। অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে বিদেশ গিয়েছিলেন সেতু। কিন্তু সেই বিদেশ এখন পরিবারের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা এখন প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন যাতে দ্রুত কোনো উপায়ে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
এ ধরনের ঘটনা প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা অপহরণের ঘটনা নতুন নয়, তবে প্রতিটি ঘটনাই ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেয়। আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতার কারণে বিদেশ থেকে অপহৃত ব্যক্তিদের উদ্ধার করা অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদী ও জটিল প্রক্রিয়ার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসকেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয়রা।
ঝিকরগাছার স্থানীয় এলাকাবাসীও এই ঘটনায় সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে সরকারের উচ্চপর্যায়ের মাধ্যমে সেতুর সন্ধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করার মতো সামর্থ্য ভুক্তভোগীর পরিবারের নেই বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। তারা এখন কেবল প্রার্থনায় এবং সরকারি সহায়তার আশায় দিন কাটাচ্ছেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার বা অপহৃত হওয়ার এই খবর পাওয়ার পর থেকে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কান্নার রোল পড়েছে। তারা জানেন না ঠিক কী পরিস্থিতিতে এবং কোথায় সেতুকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বা অপহরণকারীরা কঠোর অবস্থানে থাকায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও বাড়ছে। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় কোথায় গিয়েছেন বা দূতাবাস যোগাযোগ করেছে কিনা, তা নিশ্চিত করা যায়নি। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান হবে এবং সেতু অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসবেন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ২:১৪ অপরাহ্ণ