খুঁজুন
, ,

মামুনুর রশিদ, মাকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা শিক্ষক, কারাগারে মৃত্যুবরণ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
মামুনুর রশিদ, মাকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা শিক্ষক, কারাগারে মৃত্যুবরণ

যশোরের কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক থাকা ৪৫ বছর বয়সী শিক্ষক মামুনুর রশিদ, যিনি ২৮ অক্টোবর তার মাকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করার অভিযোগে গ্রেফতার হন, কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ১ নভেম্বর রাতেই মৃত্যুবরণ করেন।

মামুনুর রশিদকে ২৮ অক্টোবর যশোরে গ্রেফতার করা হয়, যখন তার মায়ের মৃতদেহের সঙ্গে তার হাতে করা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়। মায়ের দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল, যা স্থানীয় পুলিশকে শক করে দেয়। মামুনুর রশিদকে অপরাধের গুরুতর স্বভাবের কারণে জেলখানায় স্থানান্তর করা হয় এবং তিনি সেখানে হৃদরোগের লক্ষণ দেখাতে শুরু করেন।

কারাগারে তার স্বাস্থ্যের অবনতি লক্ষ্য করে, জেল প্রশাসন তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। হাসপাতালের রেকর্ড অনুযায়ী, রশিদকে হৃদরোগের তীব্র আক্রমণ এবং শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার জন্য ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার অবস্থা গুরুতর ছিল এবং তীব্র পর্যবেক্ষণের অধীনে রাখা হয়েছিল।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরের কয়েক দিনেই, রশিদ তার রোগের জটিলতা বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ১ নভেম্বর রাতের দিকে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুর খবর যশোরের কারাগার হেফাজতকারী কর্মকর্তা আবিদ আহমেদ জানান, যিনি সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান।

মামুনুর রশিদকে গ্রেফতার করার পর থেকে তার অপরাধের শাস্তি এবং বিচার প্রক্রিয়া এখনও চলমান। তবে তার মৃত্যুর ফলে মামলার পরবর্তী ধাপগুলোতে পরিবর্তন আসবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। পরিবার ও সমাজের মধ্যে এই ঘটনার প্রতি শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে যশোরের স্থানীয় জনগণ এই রকম হিংসাত্মক অপরাধের শিকার পরিবারকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছে।

এই ঘটনার পর, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই ধরনের অপরাধের প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানসিক স্বাস্থ্য সেবার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। বিশেষ করে, পরিবারিক হিংসা এবং মানসিক অস্থিরতার সঙ্গে যুক্ত অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত হস্তক্ষেপের গুরুত্বকে জোর দেওয়া হয়েছে।

মামুনুর রশিদকে গ্রেফতার করার সময় তার পেশা শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, যা সমাজে শিক্ষকদের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই ধরনের ঘটনা শিক্ষাক্ষেত্রের নৈতিকতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।

মামুনুর রশিদকে শিকারের মায়ের পরিবার এখনো শোকাহত, এবং তারা ন্যায়বিচার ও শোকের সমাপ্তি প্রত্যাশা করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনগত সংস্থাগুলোকে অনুরোধ করা হচ্ছে, যেন এই ধরনের অপরাধের শিকারদের জন্য যথাযথ সহায়তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।

আজকের কাজ আগামীকাল: আলস্য বনাম অভ্যাসের মনস্তত্ত্ব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
আজকের কাজ আগামীকাল: আলস্য বনাম অভ্যাসের মনস্তত্ত্ব

অনিশ্চয়তা ও দীর্ঘসূত্রতার গোলকধাঁধায় আটকে থাকা মানুষের জীবন দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। কর্মব্যস্ত জীবনে আমরা যখন কোনো নির্দিষ্ট কাজ সময়মতো সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হই, তখন তার প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত জীবনে নয়, পরিবারের সদস্যদের ওপরও পড়ে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহমেদ ইশতিয়াকের একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পর থেকেই শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। সেখানে ফুটে উঠেছে ঘরের ভেতরে মা ও ছেলের সম্পর্কের টানাপোড়েন আর একটি ইলেকট্রিক চুলা কেনা নিয়ে দীর্ঘদিনের গড়িমসির গল্প।

গল্পের প্রেক্ষাপটটি অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু গভীর অর্থবহ। ইশতিয়াক নামে একজন যুবককে কেন্দ্র করে এই ঘটনাটি আবর্তিত হয়। তার মা অভিযোগ করেন যে, তার ছেলে কোনো কাজই সময়মতো সম্পন্ন করে না। রান্নাঘরের গ্যাসের সংকটের কারণে তিনি একটি ইলেকট্রিক চুলা কিনতে বলেছিলেন, কিন্তু ইশতিয়াক সেটি বারবার পিছিয়ে দিচ্ছে। মায়ের ভাষায়, তার ছেলের মধ্যে এক অদ্ভুত রোগ আছে, যেটিকে তিনি বলছেন কাল করব রোগ। অর্থাৎ যে কোনো কাজের ক্ষেত্রেই বর্তমানের বদলে ভবিষ্যতের ওপর নির্ভর করার প্রবণতা। এটি যেন আমাদের অনেকেরই দৈনন্দিন জীবনের প্রতিচ্ছবি, যেখানে আমরা জরুরি কাজগুলো আগামীর দোহাই দিয়ে এড়িয়ে যাই।

মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই ধরনের দীর্ঘসূত্রতা বা প্রোক্রাস্টিনেশন অনেক সময় মানসিক অস্থিরতা থেকে তৈরি হয়। ইশতিয়াকের মায়ের অভিযোগ অনুযায়ী, সময়মতো খাওয়া-দাওয়া না হওয়ায় তার স্বাস্থ্যগত সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। প্রেশারের সমস্যায় ভোগা একজন বয়স্ক মানুষ যখন তার সন্তানের ওপর নির্ভর করেন এবং সেই সন্তান যদি প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হয়, তখন পারিবারিক শান্তি বিঘ্নিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। ডাক্তার যখন রোগীর চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে যান, তখন তিনি কেবল শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণগুলোই দেখেন না, বরং এই সামাজিক ও মানসিক প্রেক্ষাপটটিও লক্ষ্য করেন।

এই ঘটনার আড়ালে একটি বড় বিষয় হলো সম্পর্কের ভারসাম্যহীনতা। মা-বাবারা যখন দেখেন তাদের সন্তানেরা প্রাপ্তবয়স্ক হয়েও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছে না, তখন তারা এক ধরনের অসহায়ত্ববোধ করেন। ইশতিয়াক তার বয়ানে স্বীকার করেছেন যে, অবিবাহিত বড় সন্তানদের নিয়ে মা-বাবার প্রত্যাশা ও হতাশার বিষয়টি প্রায়শই এমন ছোটখাটো ঘটনা থেকে প্রকাশ পায়। আধুনিক জীবনের যন্ত্রনা ও দায়িত্ববোধের এই লড়াই শুধু একটি ইলেকট্রিক চুলা কেনা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আমাদের জীবনের অগ্রাধিকার নির্ধারণের ব্যর্থতাকেও নির্দেশ করে।

অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞমহল থেকে উচ্চমানের মানবসম্পদ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও বারবার উঠে আসছে। প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিগত, যে ক্ষেত্রেই হোক না কেন, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি। যখন কেউ নিজের ব্যক্তিগত জীবনকেই গুছিয়ে রাখতে পারে না, তখন বৃহত্তর কর্মক্ষেত্রে তার সফল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। সুতরাং, কাল করব রোগ থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের বর্তমানকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিটি কাজের সময়সীমা নির্ধারণ করা এবং দায়িত্ব পালনে আন্তরিক হওয়া আমাদের জীবনের সামগ্রিক গুণগত মান উন্নত করতে পারে। এই ছোট্ট ঘটনার শিক্ষা হলো, ভবিষ্যতের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা জীবনের ছন্দ নষ্ট করে দেয়, তাই আজকেই সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা বুদ্ধিমানের কাজ।

তরুণদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আশার আলো, জীবনযাত্রার পরিবর্তনে মিলছে মুক্তি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
তরুণদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আশার আলো, জীবনযাত্রার পরিবর্তনে মিলছে মুক্তি

বর্তমান সময়ে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে ডায়াবেটিসের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। আগে ধারণা করা হতো, ডায়াবেটিস সাধারণত বয়স্কদের রোগ, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও টাইপ ২ ডায়াবেটিসের প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। তবে আশার কথা হলো, সঠিক জীবনধারা অনুসরণ করলে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে, জীবনযাত্রায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস থেকে রেমিশন বা রোগের প্রকোপ প্রশমিত করা সম্ভব। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়ামের রুটিন মেনে চলা তরুণ রোগীদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি, অর্থাৎ ৫৪ শতাংশ রোগী ছয় মাসের মধ্যে ডায়াবেটিস রেমিশনের পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছেন।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় রেমিশন মানে ডায়াবেটিস পুরোপুরি নির্মূল হয়ে যাওয়া নয়, বরং ওষুধের সহায়তা ছাড়াই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকা। গবেষণায় অংশ নেওয়া তরুণ রোগীদের ওপর পর্যবেক্ষণ চালিয়ে দেখা গেছে, যারা ছয় মাস নিষ্ঠার সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সুষম খাবার গ্রহণ করেছেন এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করেছেন, তাদের শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি ডায়াবেটিস মোকাবিলার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, তরুণ বয়সে শরীর দ্রুত সাড়া দেয়, তাই রোগ শনাক্ত হওয়ার পরপরই যদি সচেতন হওয়া যায়, তবে দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রধানত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত শর্করাযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসবজি, প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার এবং আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধু ডায়েট নয়, শারীরিক সক্রিয়তাও এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মানের ব্যায়াম বা শরীরচর্চা তরুণদের বিপাকীয় প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে সাহায্য করে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শরীরের বাড়তি ওজন কমানোর মাধ্যমেই রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক সীমার মধ্যে চলে আসে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, আধুনিক জীবনে বসে কাজ করার প্রবণতা এবং কায়িক পরিশ্রমের অভাব ডায়াবেটিসকে ত্বরান্বিত করছে। তরুণদের জন্য এই ফলাফলটি একটি বড় বার্তা নিয়ে এসেছে। দীর্ঘমেয়াদী ওষুধ সেবনের ওপর নির্ভর না করে খাদ্যাভ্যাসে শৃঙ্খলা এবং শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তুললে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। তবে রেমিশন বা উপশম মানেই এই নয় যে, তারা আবার পুরোনো অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রায় ফিরে যেতে পারবেন। বরং সুস্থ থাকার জন্য এই নতুন জীবনধারাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। যারা ইতোমধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়েট চার্ট তৈরি করা এবং নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা জরুরি। এই গবেষণার ফলাফল তরুণদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মাংসের প্রতি মানুষের ঝোঁক: কেবল স্বাদ নয়, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক মর্যাদার মনস্তত্ত্ব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
মাংসের প্রতি মানুষের ঝোঁক: কেবল স্বাদ নয়, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক মর্যাদার মনস্তত্ত্ব

খাবার টেবিলে মাংসের পদ থাকলে অনেকেরই মন ভালো হয়ে যায়। অধিকাংশ মানুষই মাংসের প্রতি তাদের এই ভালোবাসার কারণ হিসেবে খাবারের স্বাদের কথা উল্লেখ করেন। কেউ কেউ পুষ্টিগুণের দোহাইও দিয়ে থাকেন। কিন্তু পুষ্টি বা স্বাদের বাইরেও যে এর পেছনে গভীর কোনো মনস্তাত্ত্বিক কারণ থাকতে পারে, তা নিয়ে সম্প্রতি নতুন করে ভাবছেন গবেষকরা। মানুষের মাংস খাওয়ার এই সহজাত অভ্যাসের পেছনে রয়েছে সামাজিক অবস্থানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রাচীন বা মধ্যযুগীয় কৃষিভিত্তিক সমাজে মাংস সবার জন্য সহজলভ্য ছিল না। সেই সময়ে মাংস ছিল আভিজাত্য ও ধনসম্পদের প্রতীক। তৎকালীন রাজা-বাদশাহ এবং বিত্তবান বণিকদের খাবার টেবিলেই কেবল মাংসের দেখা মিলত। সাধারণ মানুষের পাতে বছরের বিশেষ কিছু দিন ছাড়া মাংস খুব একটা জুটত না। মূলত সেই সময় থেকেই মাংসকে একটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ খাবার হিসেবে গণ্য করার মানসিকতা তৈরি হয়েছে। সময়ের সঙ্গে জীবনযাত্রার মান বদলালেও সেই ধারণা আজও আমাদের অবচেতন মনে রয়ে গেছে।

অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইউজিন চ্যান এবং ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনির অধ্যাপক নাটালিনা জ্লাতেভস্কা এ বিষয়ে একটি যৌথ গবেষণা চালিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের অ্যাপেটাইট জার্নালে প্রকাশিত তাদের এই গবেষণায় উঠে এসেছে অবাক করা কিছু তথ্য। গবেষকরা প্রমাণ করেছেন যে, মানুষ যখন মনে করে তাদের সামাজিক মর্যাদা কম, তখন তারা মর্যাদা বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবে মাংসকে বেছে নিতে বেশি আগ্রহী হয়। মূলত যারা নিজেদের সামাজিক অবস্থান নিয়ে কিছুটা হীনম্মন্যতায় ভোগেন, তারা খাবারের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থানকে কিছুটা উঁচুতে তুলে ধরার অবচেতন চেষ্টা করেন।

গবেষণাটি আরও স্পষ্ট করতে গবেষকরা শিক্ষার্থীদের ওপর একটি পরীক্ষা চালান। সেখানে শিক্ষার্থীদের দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। প্রথম দলকে বলা হয়েছিল যে, তারা প্রথম চাকরিতেই মোটা অঙ্কের বেতন পাচ্ছেন এবং সেই টাকা দিয়ে তারা নানাবিধ বিলাসদ্রব্য কিনতে পারবেন। আর দ্বিতীয় দলকে বলা হয়েছিল যে, একই বেতনে জীবনযাপন করতে গিয়ে তাদের আর্থিক টানাপোড়েনের শিকার হতে হবে। পরীক্ষার শেষে দেখা গেছে, যারা নিজেদের ধনী হিসেবে কল্পনা করেছেন, তাদের তুলনায় যারা আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে আছেন বলে কল্পনা করেছেন, তাদের মধ্যে মাংস খাওয়ার প্রবণতা বা আগ্রহ অনেক বেশি।

এই গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, মানুষকে সাময়িকভাবে ধনী বা গরিব হিসেবে চিন্তায় অভ্যস্ত করালে তাদের খাদ্য নির্বাচনের অভ্যাসেও পরিবর্তন আনা সম্ভব। মাংসের উচ্চমূল্য এবং দুর্লভ অতীত ঐতিহ্যের কারণে এটি আমাদের সমাজে এখনো সাফল্যের চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই পুষ্টির প্রয়োজনে মানুষ মাংস খাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এর আড়ালে লুকিয়ে আছে সামাজিক মর্যাদা প্রকাশের একটি সহজাত প্রবৃত্তি। অর্থাৎ, মাংস কেবল জিভের তৃপ্তি মেটাচ্ছে না, বরং এটি আমাদের মনের সেই প্রাচীন আকাঙ্ক্ষাকেও পূরণ করছে যা নিজেকে বিত্তবানদের কাতারে দেখার স্বপ্ন দেখে। বর্তমান যুগে খাবারের দামের পার্থক্য আগের চেয়ে কমে এলেও মাংস এখনো কেন মানুষের কাছে এতটা প্রিয় বা বিশেষ হয়ে আছে, তার যৌক্তিক উত্তর এই মনস্তাত্ত্বিক গবেষণাতেই লুকিয়ে রয়েছে।

সর্বশেষ
আজকের কাজ আগামীকাল: আলস্য বনাম অভ্যাসের মনস্তত্ত্ব তরুণদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আশার আলো, জীবনযাত্রার পরিবর্তনে মিলছে মুক্তি মাংসের প্রতি মানুষের ঝোঁক: কেবল স্বাদ নয়, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক মর্যাদার মনস্তত্ত্ব মামুনুর রশিদ, মাকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা শিক্ষক, কারাগারে মৃত্যুবরণ ৩ নভেম্বর ২০২৬ টিভিতে সরাসরি দেখার জন্য আজকের প্রধান খেলাগুলো বৃহত্তর জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান নেতানিয়াহুর, সরকার নিয়ে আলোচনায় বসছেন বিরোধীরা আয়–উপার্জনে বরকত পেতে নবীজির শেখানো ৫টি বিশেষ আমল একই সড়ক নিয়ে পাল্টাপাল্টি উদ্বোধন: রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে বিড়ম্বনায় জনদুর্ভোগ মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ট্রাম্প, তবে প্রস্তুতির অভাব নেই ডেমোক্র্যাটদের কুষ্টিয়ায় পরীক্ষা কেন্দ্রে বহিষ্কারের জের, স্কুলের পেছনে ককটেল বিস্ফোরণ
Advertisement