মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ট্রাম্প, তবে প্রস্তুতির অভাব নেই ডেমোক্র্যাটদের
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। নির্বাচনের ঠিক আগের দিন সোমবার ওয়াশিংটনের লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুল এলাকায় এক জনসভায় বক্তব্য রাখেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই নির্বাচনকে তার জীবদ্দশার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেছেন। নিজের সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ঐতিহাসিকভাবেই ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টদের দল মধ্যবর্তী নির্বাচনে খুব একটা সুবিধা করতে পারে না। তবে সেই ধারা ভেঙে জয়ের জন্য তার দল রিপাবলিকান পার্টি জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প তার সরকারের কাজের ফিরিস্তি তুলে ধরার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাটদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, ডেমোক্র্যাট দল এবারের নির্বাচনে এমন সব প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে চরমপন্থী এবং বিপজ্জনক। বিশেষ করে অভিবাসন নীতি ও ট্রান্সজেন্ডার অধিকারের মতো ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটদের দৃষ্টিভঙ্গিকে উগ্র এবং বিপদজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় রিপাবলিকানরাই একমাত্র ভরসা। তবে তার বক্তৃতার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল ওয়াশিংটনের বিভিন্ন সংস্কার ও নির্মাণ প্রকল্পের কথা। বিশেষ করে রিফ্লেক্টিং পুলের সংস্কারকাজ নিয়ে তিনি বিস্তারিত কথা বলেন। এই প্রকল্পের কাজে বাধা আসায় তিনি কোনো প্রমাণ ছাড়াই নাশকতাকারীদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন।
এদিকে নিউইয়র্ক পোস্টের পডকাস্ট ‘পড ফোর্স ওয়ান’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি আত্মবিশ্বাসের সুরে জানিয়েছেন যে, নির্বাচনে তারা দারুণ কিছু করবেন। তবে ফলাফল যদি বিপক্ষে যায়, তবে তিনি একের পর এক ভেটো প্রয়োগের মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটদের পরিকল্পনা আটকে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এরপর তাদের সাথে সমঝোতার পথ খোলা থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই মধ্যবর্তী নির্বাচন মূলত কংগ্রেসের দুটি কক্ষ অর্থাৎ প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে। বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, প্রতিনিধি পরিষদের দখল হারানোর বড় ধরনের ঝুঁকিতে আছে ডেমোক্র্যাটরা। জনমত জরিপগুলোতেও রিপাবলিকানদের শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত মিলছে। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে উভয় দলই মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রচারণায় এই প্রতিযোগিতা এখন তুঙ্গে। ডেমোক্র্যাটরা তাদের শাসনকালকে সুসংহত করতে মরিয়া, অন্যদিকে রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের হাত ধরে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হতে যাচ্ছে ভোটগ্রহণ, যা নির্ধারণ করবে মার্কিন রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ। ভোটের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]