তরুণদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আশার আলো, জীবনযাত্রার পরিবর্তনে মিলছে মুক্তি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ । ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ

বর্তমান সময়ে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে ডায়াবেটিসের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। আগে ধারণা করা হতো, ডায়াবেটিস সাধারণত বয়স্কদের রোগ, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও টাইপ ২ ডায়াবেটিসের প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। তবে আশার কথা হলো, সঠিক জীবনধারা অনুসরণ করলে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে, জীবনযাত্রায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস থেকে রেমিশন বা রোগের প্রকোপ প্রশমিত করা সম্ভব। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়ামের রুটিন মেনে চলা তরুণ রোগীদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি, অর্থাৎ ৫৪ শতাংশ রোগী ছয় মাসের মধ্যে ডায়াবেটিস রেমিশনের পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছেন।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় রেমিশন মানে ডায়াবেটিস পুরোপুরি নির্মূল হয়ে যাওয়া নয়, বরং ওষুধের সহায়তা ছাড়াই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকা। গবেষণায় অংশ নেওয়া তরুণ রোগীদের ওপর পর্যবেক্ষণ চালিয়ে দেখা গেছে, যারা ছয় মাস নিষ্ঠার সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সুষম খাবার গ্রহণ করেছেন এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করেছেন, তাদের শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি ডায়াবেটিস মোকাবিলার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, তরুণ বয়সে শরীর দ্রুত সাড়া দেয়, তাই রোগ শনাক্ত হওয়ার পরপরই যদি সচেতন হওয়া যায়, তবে দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রধানত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত শর্করাযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসবজি, প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার এবং আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধু ডায়েট নয়, শারীরিক সক্রিয়তাও এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মানের ব্যায়াম বা শরীরচর্চা তরুণদের বিপাকীয় প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে সাহায্য করে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শরীরের বাড়তি ওজন কমানোর মাধ্যমেই রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক সীমার মধ্যে চলে আসে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, আধুনিক জীবনে বসে কাজ করার প্রবণতা এবং কায়িক পরিশ্রমের অভাব ডায়াবেটিসকে ত্বরান্বিত করছে। তরুণদের জন্য এই ফলাফলটি একটি বড় বার্তা নিয়ে এসেছে। দীর্ঘমেয়াদী ওষুধ সেবনের ওপর নির্ভর না করে খাদ্যাভ্যাসে শৃঙ্খলা এবং শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তুললে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। তবে রেমিশন বা উপশম মানেই এই নয় যে, তারা আবার পুরোনো অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রায় ফিরে যেতে পারবেন। বরং সুস্থ থাকার জন্য এই নতুন জীবনধারাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। যারা ইতোমধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়েট চার্ট তৈরি করা এবং নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা জরুরি। এই গবেষণার ফলাফল তরুণদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন