জাপান সফরে টোকিওতে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রবীণ পরিচর্যা কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন জুবাইদা রহমান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ । ১:১৪ পূর্বাহ্ণ

জাপান সফরের অংশ হিসেবে বর্তমানে টোকিও অবস্থান করছেন জুবাইদা রহমান। সফরের তৃতীয় দিনে তিনি জাপানের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং প্রবীণ পরিচর্যা কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখেছেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল জাপানের উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং প্রবীণদের যত্ন নেওয়ার পদ্ধতিগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা। টোকিওতে পৌঁছানোর পর থেকে তিনি দেশটির স্বাস্থ্য অবকাঠামো এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

পরিদর্শনকালে জুবাইদা রহমান বেশ কিছু নার্সিং হোম এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল ঘুরে দেখেন। এসব প্রতিষ্ঠানে বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকদের যেভাবে সেবা প্রদান করা হয় এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে, তা তিনি প্রত্যক্ষ করেন। জাপানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সারা বিশ্বে প্রবীণদের সুস্থতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অন্যতম রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে দক্ষ নার্সিং সেবার মাধ্যমে বয়স্কদের স্বনির্ভর রাখা এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার যে কর্মপরিকল্পনা জাপান বাস্তবায়ন করেছে, তা এই সফরের অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল।

সফরের এই পর্যায়ে জুবাইদা রহমান দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে আলাপকালে জাপানের স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে জনসংখ্যা হ্রাসের এই যুগে প্রবীণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জাপানিরা যেসব সৃজনশীল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, সেগুলোর বিষয়ে তিনি বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। হাসপাতালগুলোতে ব্যবহৃত আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং চিকিৎসা প্রযুক্তির উৎকর্ষতার বিষয়গুলোও তার পরিদর্শনে উঠে আসে। পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মপদ্ধতি কীভাবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিচ্ছে, সেটিও তিনি পর্যবেক্ষণ করেন।

জাপানের সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক মূল্যবোধ কীভাবে স্বাস্থ্যসেবার সাথে মিশে আছে, তা এই সফরে বেশ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। জুবাইদা রহমান কেবল চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাই নয়, বরং সেখানকার সংস্কৃতিবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও পরিদর্শন করেন। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার গুরুত্ব নিয়ে তিনি মতবিনিময় করেন। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য খাত ও সমাজসেবামূলক উদ্যোগে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সফরের এই পর্যায়ে তিনি জাপানের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য তৈরি বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া সম্পর্কেও সম্যক ধারণা লাভ করেছেন। বিশেষ করে নার্সিং সেবা খাতকে কীভাবে আরও বেশি মানবিক ও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে গঠনমূলক আলোচনা করেন। এই পরিদর্শনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন কোনো উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে জাপানের মডেলটি সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জুবাইদা রহমানের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। জাপানের স্বাস্থ্য অবকাঠামো এবং তাদের জনসেবামূলক দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে কীভাবে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে তার এই সফর নতুন কোনো দিক উন্মোচন করবে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সফরের পরবর্তী দিনগুলোতেও তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে তার এই জাপান সফর দুই দেশের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি অনন্য ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন