নারায়ণগঞ্জে নবজাতকের মৃত্যুতে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় একটি ক্লিনিকে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অক্সিজেন দেওয়ার পরপরই শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়লে দ্রুত অন্য হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় চিকিৎসকের অবহেলাকে দায়ী করছেন স্বজনরা।
নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় চিকিৎসকের অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় স্থানীয় ময়না ক্লিনিকের মালিক ও চিকিৎসক ময়না বেগমের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয়রা। নবজাতকের মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তোলা হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, সন্তান প্রসবের জন্য ওই ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছিলেন প্রসূতি। ক্লিনিকের পক্ষ থেকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের সময় শিশুটি সুস্থ ও সবল ছিল বলে পরিবারের দাবি। তবে জন্মের কিছুক্ষণ পরেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এ সময় তাকে অক্সিজেন দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, অক্সিজেন দেওয়ার পরপরই শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং তার নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায়।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শিশুটির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক দাবি করে দ্রুত তাকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্বজনরা নিরুপায় হয়ে দ্রুত নবজাতককে নারায়ণগঞ্জের অন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা শিশুটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্যমতে, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্লিনিকটির সামনে স্থানীয়দের ভিড় বাড়তে থাকে। পরিবারের দাবি, চিকিৎসকের যথাযথ তদারকির অভাবে এবং অক্সিজেন দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ত্রুটির কারণে নবজাতকটির মৃত্যু হয়েছে। যদি সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হতো তবে হয়তো এমন মর্মান্তিক পরিণতি এড়ানো যেত বলে মনে করছেন তারা।
চিকিৎসক ময়না বেগমের পরিচালিত এই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন সময় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল কি না, তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে, নবজাতকের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই ময়না ক্লিনিকের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্বজনরা দাবি তুলেছেন, ভুল চিকিৎসার কারণেই তাদের সন্তানকে অকালে প্রাণ দিতে হয়েছে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বর্তমানে ক্লিনিকটির কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নবজাতকের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বন্দর থানার পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চিকিৎসকের অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চিকিৎসার নামে এমন গাফিলতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্থানীয় কার্যালয়কেও এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে শোকাতুর পরিবারটি শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। তাদের একটাই দাবি, যদি সত্যিই চিকিৎসকের ভুল বা অবহেলায় এই শিশুটির মৃত্যু হয়ে থাকে, তবে যেন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]