খুঁজুন
, ,

হাইব্রিডের দাপটে বিলুপ্ত দেশীয় জাতের ধান

রিপন কান্তি গুণঃ নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ, ২০২৫, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
হাইব্রিডের দাপটে বিলুপ্ত দেশীয় জাতের ধান

বহুজাতিক কোম্পানির বাণিজ্যের দাপটে নেত্রকোনার ফসলি মাঠ থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির ধান। বেশি ফলনের আশায় কৃষকরা ঝুঁকছেন হাইব্রিড জাতের ধান চাষাবাদের দিকে। ফলে কৃষকের মাঠে দেশীয় জাতের ধানের বদলে জায়গা করে নিচ্ছে বিভিন্ন হাইব্রিড প্রজাতির ধান। খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ধরে রাখতে সরকারও জোর দিচ্ছেন হাইব্রিড ধান চাষাবাদে।

এক সময় এ জেলার কৃষকরা বিরই, কালোজিরা, নাতিশাইল, টেপি, জলকুমড়ী, কাইশাবেণী, কালজিরা, চিনিশাইলসহ বিভিন্ন দেশীয় জাতের ধানের আবাদ করতো। এখন আউশ, আমন, বোরো সব মৌসুমেই সরকার অনুমোদিত কোম্পানি ও বহুজাতিক কোম্পানির নতুন নতুন নামের বীজের ওপর নির্ভরশীল কৃষক। ফলে স্থানীয় জাতের ধানের আবাদ দিন দিন কমে যাচ্ছে।

জেলা  সদরের কাইলাটি গ্রামের বাসিন্দা সাজুল ইসলাম বলেন, হাইব্রিড ধান চাষের মূল কারণ হচ্ছে ফলন বেশি হয়। আর দেশী ধানে পোকামাকর কম হলেও ফলন কম হয়, এজন্য আমরা স্থানীয় জাতগুলো আবাদ কম করি। দেশী ধান এখন আবাদ হয় না বললেই চলে। আগে আমরা বিরই, নাতিশাইল, তুলসীমালা, কালোজিরা এগুলোর আবাদ করতাম। কিন্তু এখন এগুলো নাই বললেই চলে। সময়ের সাথে সাথে এগুলো হারিয়ে গেছে।

তিনি জানান, আগে আমরা দেশীয় জাতের ধান চাষ করতাম। দেশীয় জাতের ধান চাষের উৎপাদন খরচ কম ছিল। তখন ধান কাটার মৌসুমে গ্রামে পিঠা পায়েস, চিড়া, খই, মুড়ি তৈরির ধুমও ছিল। এখন তা আর হয় না। দেশীয় জাতের ধান আবাদে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হতো না।

তাঁতিয়র গ্রামের জালাল উদ্দীন আফসোস করে বলেন, আগের সময়ে খুব ভালো মানের ধান ছিল। আমরাছোটবেলায় দেখেছি, নাজিরশাইল, চিনিশাইল, কালোজিরা, টেপি এগুলো ছিল। আমাদের বাবাকেই দেখেছি তিনি অল্প অল্প করে আট রকমের ধান চাষ করতেন। কিন্তু বর্তমানে হাইব্রিড ধান ছাড়া আর কোনো কিছু চাষ হয় না বললেই চলে। সবাই শুধু ধানের ফলন বাড়ানোর দিকে নজর দিয়েছে। আমরা এখন চালের সঙ্গে বিষ খাচ্ছি। কীটনাশক ছাড়া কোনো ধানের আবাদ করা যায় না। আগে তো এগুলো কোনো কিছু দিতে হয় নাই, সার পর্যন্ত দিতে হয় নাই। আগে আমরা যে ভাত খেতাম সেটা অনেক সুস্বাদু ছিল, এখন তো শুধু খেয়ে যাচ্ছি এই পর্যন্তই কোনো রস-কষ নাই।

তিনি আরও বলেন, দেশীয় জাতের ধান চাষাবাদ করতে কোনো বীজ বাজার থেকে কিনতে হতো না। বীজের জন্য কিছু ধান আলাদা করে ঘরে তুলে রাখলেই চলতো। বর্তমানে আমরা যে ধান চাষাবাদ করছি তা বীজ রাখতে পারছি না। বছরে বছরে বাজার থেকে চড়া দামে বীজ কিনতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে ধান রোপণের পর জমিতে কীটনাশক, সার, সেচ প্রচুর পরিমাণ দিতে হচ্ছে। না হলে ফলন ভালো হচ্ছে না।

মদন উপজেলার তিয়শ্রী গ্রামের বাসিন্দা কৃষাণী কুলসুমা বেগম বলেন, আমরা আগে দেখছি বছরে সবাই দুইটা ফসল আবাদ করতো। একটা বাওয়া আর একটা আউশ। তখন বোইল্লা নামের ধান চাষ করতো, কালো রঙের হতো ওই ধানটা। ১০-১৫ সের করে ধান হতো প্রতি কাঠায়। আর এগুলো দিয়েই কোনো রকম খেয়ে না খেয়ে আমরা দিন পার করতাম। আর এখন সমপরিমাণ জমি থেকেই কয়েক গুণ বেশি ধান আমরা ঘরে তুলতে পারি। আগে ৫-৭ জাতের ধান ছিল কিন্তু এখন যে কত ধরনের ধান এটার কোনো শেষ নেই। আমি আর এখন কোনো ধানের নাম বলতে পারি না। আগে আমাদের মা-চাচিরা বীজ ধান মটকায় ভরে রাখতরন। আর এখন দেখি সবাই প্যাকেট ধান কিনে নিয়ে এসে চাষ করে। আমরা বললে তো আর পুরুষ লোকেরা শুনে না। আমরা যদি বলি বিরই ধান চাষ করো, বিরইয়ে ভাত খাইতে খুব ভালা, তারা তো সেটা করবে না। আগে এক বাড়িতে কালোজিরা চালের ভাত রান্না করলে আরেক বাড়ি থেকে বুঝা যেতো কোন চালের ভাত রান্না হচ্ছে। আর এখন তো পোলাওয়ের চাল রান্না করলেও গন্ধ পাওয়া যায় না।

বারহাট্টা উপজেলার রামভদ্রপুর গ্রামের কৃষি কাজের সাথেঅবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দুলাল রায় (দুলু) বলেন,আমি হাইব্রিড এবং স্থানীয় জাত দুটোই চাষ করেছি। হাইব্রিডের ক্ষেত্রে দেখা যায় খরচ বেশি হয়, আবার ফলনও ভালো হয়। আবার দেশী ধানের ক্ষেত্রে রাসায়নিক সার কম দিতে হয় এবং ফলনও কম হয়। যেমন কালোজিরা ধান আমি দুই কাঠা জমিতে রোপণ করেছি। এটাতে আমার খরচ কম হয়েছে কারণ এখানে রাসায়নিক সার কম দিয়েছি। আবার উৎপাদনও কম হয়েছে। কিন্তু এ ধানের চাল অনেক সুস্বাদু এবং অনেক সুগন্ধি আছে। আর হাইব্রিড যে ধানের জাতগুলো আছে সেগুলো পাঁচ-ছয় মণ করে হয়েছে। কিন্তু এই ধানটা সিদ্ধ করে সংরক্ষণ করলে এটার চালটা ততটা সুস্বাদু হয় না। হাইব্রিড জাতগুলো আসায় আমাদের কাছ থেকে দেশীয় ধানের বীজগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এটাও সত্যি যে, আমাদের জায়গা বাড়ছে না কিন্তু মানুষ বাড়ছে। এজন্যই আমাদের মাঝে হাইব্রিড জায়গা করে নিচ্ছে আর দেশি জাতগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময় ১৮ হাজার স্থানীয় ধানের জাত ছিল, যা এখন বিলুপ্ত প্রায়। আমি চাই আমরা সবাই মিলে আমাদের দেশীয় জাতগুলোকে সংরক্ষণ করি। এগুলো যেন আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে না যায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ নূরুজ্জামান বলেন, মাঠপর্যায়ে ধানের উৎপাদন বাড়াতে যে সব জাতের ফলন বেশি হয় সে সব ধানের জাত সম্প্রসারণে কাজ করে যাওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন,  আমরা কৃষি বিভাগ মূলত কৃষক ভাইদের ধানের উৎপাদন যেন বেশি হয় সেটি মাথায় রেখে মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। নতুন যে জাতগুলো আছে বিশেষ করে আমন মৌসুমের জন্য ব্রি-ধান ৭১, ব্রি-ধান ৭৫, ব্রি-ধান ৮৭, ব্রি-ধান ১০৩ এবং বিনা ধান-১৭ এগুলো আমরা মাঠপর্যায়ে বিস্তার ঘটাচ্ছি। বোরো মৌসুমের জন্য ব্রি-ধান ৮৮, ব্রি-ধান ৮৯, ব্রি-ধান ৯২, ব্রি-ধান ১০২ এই জাতগুলো আমরা কৃষকদের আবাদের জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। এগুলোর ফলন ভালো এবং রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম।

শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
   
শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড বা বোয়েসেল মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের জন্য একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে মালয়েশিয়ার খ্যাতনামা কোম্পানি ডিএইচল সাপলাই চেইন এসডিএন বিএইচডি-তে দক্ষ জনবল নেওয়া হবে। দীর্ঘ সময় ধরে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর এই নিয়োগ সংক্রান্ত ঘোষণাটি আসে এবং এর মাধ্যমে আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো শূন্য অভিবাসন ব্যয়। অর্থাৎ, যারা নির্বাচিত হবেন তাদের বিদেশে যাওয়ার জন্য কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালকে অর্থ দিতে হবে না। সরকারি ব্যবস্থাপনায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এই নিয়োগ সম্পন্ন হবে, যা কর্মীদের আর্থিক ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে আনবে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সবসময়ই দক্ষ কর্মীদের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে এবং এই কোম্পানির জন্য প্রয়োজনীয় কর্মী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বোয়েসেল সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্রে জানা গেছে, মোট ১১২ জন কর্মী নিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে। যেহেতু এটি দক্ষ জনবল নেওয়ার প্রক্রিয়া, তাই প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা থাকতে হবে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত শর্তাবলি অনুযায়ী, আগামী ৬ নভেম্বর থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের বোয়েসেলের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনের বিস্তারিত প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সরকারি ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় বর্তমান সময়ে সরকারিভাবে কর্মী পাঠানোর এই উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। অতীতে বিদেশে কর্মী পাঠাতে গিয়ে অনেক সময় প্রতারণার শিকার হতে হতো সাধারণ মানুষকে। কিন্তু বোয়েসেলের মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার ফলে প্রকৃত যোগ্য কর্মীরা বিনা খরচে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। এটি দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতেও সহায়ক হবে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশিরা কীভাবে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করতে পারেন, তা এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আরও একবার স্পষ্ট হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বোয়েসেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবেদনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। প্রার্থীদের সতর্ক করা হয়েছে যাতে তারা কোনো প্রতারকের প্রলোভনে পা না দেন। সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ার বাইরে অন্য কোনো মাধ্যমের ওপর নির্ভর না করার জন্য বারবার অনুরোধ করা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় এই ধরনের সরকারি নিয়োগ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। যারা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে কর্মসংস্থানের চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যুদ্ধের অস্থিরতায় জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জিং: বিদ্যুৎমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
   
যুদ্ধের অস্থিরতায় জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জিং: বিদ্যুৎমন্ত্রী

বিশ্ব পরিস্থিতির অস্থিতিশীলতা এবং চলমান বিভিন্ন যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের জ্বালানি খাতের ওপর। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সংকটের কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ করা বর্তমানে সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সম্প্রতি নাটোর সফরে গিয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি জানান, যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বেই জ্বালানি ব্যবস্থা টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে, যার ফলে দেশের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব অনিবার্য হয়ে পড়েছে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, জ্বালানি খাতের এই অস্থিরতা সামাল দিতে এবং সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরিস্থিতির তীব্রতা তুলে ধরে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, বিগত ছয় মাসে জ্বালানি খাতে সরকার প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করেছে। সরকারি কোষাগার থেকে এত বিশাল পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি হিসেবে দেওয়ার কারণে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো এবং সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা এখন বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন বাজেট এবং দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজে এই ভর্তুকির বাড়তি চাপের কারণে অনেক ক্ষেত্রে সমন্বয় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে।

প্রভাবের ভয়াবহতা সম্পর্কে আলোকপাত করে তিনি আরও বলেন, কেবল দাম নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তাও এখন একটি বড় উদ্বেগের কারণ। আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটার কারণে তেল আমদানির ক্ষেত্রে একদিকে যেমন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। সরকার চেষ্টা করছে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে এবং সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য জনগণকে উৎসাহিত করছে, কিন্তু বৈশ্বিক পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট পুরোপুরি কাটানো সম্ভব নয় বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি খাতের এই ভর্তুকি এখন বড় ধরনের আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এইভাবে ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানির দাম ধরে রাখা রাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তবে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান কঠিন সময়ে জনগণের ওপর সরাসরি মূল্যবৃদ্ধির চাপ যাতে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই সরকার এই ভর্তুকির বোঝা বহন করছে। তিনি দৃঢ়ভাবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বৈশ্বিক অস্থিরতা কমে এলে জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল হবে এবং দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম পুনরায় গতি ফিরে পাবে। বর্তমানে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
   
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু বাংলাদেশের

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শুরুটা জয় দিয়ে করতে পারায় স্বস্তিতে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে ভুটানের মুখোমুখি হয়ে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ম্যাচে জয় পাওয়ার পর দলের সার্বিক পারফরম্যান্স নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন কোচ টমাস ডুলি। বৃহস্পতিবার ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এবং খেলোয়াড়দের মাঠের খেলার মূল্যায়ন করেন।

ম্যাচ জয়ের পর ডুলি জানান, তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল প্রতিযোগিতার শুরুটা তিন পয়েন্ট নিয়ে করা, যা অর্জন করতে পারাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ভুটানের রক্ষণভাগ ভাঙতে খেলোয়াড়দের বেশ বেগ পেতে হয়েছে, তবুও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাওয়ায় কোচ খুশি। তবে এটি কেবল টুর্নামেন্টের শুরু বিধায় দলের আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি মনে করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, দলের খেলায় এখনও কিছু ঘাটতি রয়েছে যা পরবর্তী ম্যাচগুলোর আগেই সারিয়ে নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আলোচনার বড় একটি অংশ জুড়ে ছিল রক্ষণভাগের খেলোয়াড় বিশ্বনাথ ঘোষের নতুন পজিশন বা ভূমিকা। গতানুগতিক পজিশন থেকে তাকে সরিয়ে নতুন ভূমিকায় খেলানো নিয়ে কোচ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ডুলির মতে, বিশ্বনাথ নতুন দায়িত্বটি বেশ নিষ্ঠার সাথে পালন করেছেন এবং তার এই বহুমুখী দক্ষতা দলের কৌশলগত ভারসাম্য তৈরিতে সহায়ক হয়েছে। এছাড়া ম্যাচে ইব্রাহিমের পারফরম্যান্সের আলাদাভাবে প্রশংসা করেছেন কোচ। দলের আক্রমণভাগে তার তৎপরতা এবং বল নিয়ন্ত্রণের প্রশংসা করে ডুলি বলেন, ইব্রাহিম তার সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের হয়ে ভালো অবদান রেখেছেন।

কোচ ডুলি মনে করেন, প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ায় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস কাজ করবে, যা পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তাদের উজ্জীবিত রাখতে সাহায্য করবে। তবে রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগের মধ্যে যে সমন্বয়ের অভাব মাঝেমধ্যে চোখে পড়েছে, তা নিয়েও কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। রক্ষণাত্মক কৌশলের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে আরও বেশি নিখুঁত হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

আগামী ম্যাচগুলোতে আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতে হবে বাংলাদেশকে। তাই আজকের জয়ের আনন্দকে পেছনে ফেলে দ্রুতই পরবর্তী প্রস্তুতির দিকে মনোনিবেশ করতে চায় দল। টমাস ডুলি মনে করেন, এই জয়টি কেবল তিনটি পয়েন্ট অর্জনের গল্প নয়, বরং দলের আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। খেলোয়াড়রা যদি কোচের পরিকল্পনা অনুযায়ী মাঠের ভুলগুলো শুধরে নিতে পারে, তবে টুর্নামেন্টে আরও ভালো ফলাফল আশা করা সম্ভব। দলের নতুন কৌশল এবং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ফর্ম বজায় থাকলে আসন্ন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা তুলনামূলক সহজ হবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি। কোচ এবং খেলোয়াড়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ তাদের জয়ের ধারা বজায় রাখতে পারবে কি না, তা দেখার অপেক্ষায় এখন সমর্থকরা।

সর্বশেষ
শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি যুদ্ধের অস্থিরতায় জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জিং: বিদ্যুৎমন্ত্রী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অবরুদ্ধ হোম ইকোনমিকস কলেজের অধ্যক্ষ রাজধানীর শান্তিবাগে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জয় দিয়ে শুরু বাংলাদেশের ভুটানের বিপক্ষে গোলখরায় বাংলাদেশ: স্ট্রাইকার হিসেবে বিশ্বনাথের চমক কাজে এলো না জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ, তুলে ধরলেন চার কারণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নতুন মেরুকরণের আভাস যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানি কমলেও বাংলাদেশের অংশীদারত্ব বাড়ল