সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শুরুটা জয় দিয়ে করতে পারায় স্বস্তিতে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে ভুটানের মুখোমুখি হয়ে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ম্যাচে জয় পাওয়ার পর দলের সার্বিক পারফরম্যান্স নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন কোচ টমাস ডুলি। বৃহস্পতিবার ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এবং খেলোয়াড়দের মাঠের খেলার মূল্যায়ন করেন।
ম্যাচ জয়ের পর ডুলি জানান, তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল প্রতিযোগিতার শুরুটা তিন পয়েন্ট নিয়ে করা, যা অর্জন করতে পারাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ভুটানের রক্ষণভাগ ভাঙতে খেলোয়াড়দের বেশ বেগ পেতে হয়েছে, তবুও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাওয়ায় কোচ খুশি। তবে এটি কেবল টুর্নামেন্টের শুরু বিধায় দলের আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি মনে করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, দলের খেলায় এখনও কিছু ঘাটতি রয়েছে যা পরবর্তী ম্যাচগুলোর আগেই সারিয়ে নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আলোচনার বড় একটি অংশ জুড়ে ছিল রক্ষণভাগের খেলোয়াড় বিশ্বনাথ ঘোষের নতুন পজিশন বা ভূমিকা। গতানুগতিক পজিশন থেকে তাকে সরিয়ে নতুন ভূমিকায় খেলানো নিয়ে কোচ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ডুলির মতে, বিশ্বনাথ নতুন দায়িত্বটি বেশ নিষ্ঠার সাথে পালন করেছেন এবং তার এই বহুমুখী দক্ষতা দলের কৌশলগত ভারসাম্য তৈরিতে সহায়ক হয়েছে। এছাড়া ম্যাচে ইব্রাহিমের পারফরম্যান্সের আলাদাভাবে প্রশংসা করেছেন কোচ। দলের আক্রমণভাগে তার তৎপরতা এবং বল নিয়ন্ত্রণের প্রশংসা করে ডুলি বলেন, ইব্রাহিম তার সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের হয়ে ভালো অবদান রেখেছেন।
কোচ ডুলি মনে করেন, প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ায় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস কাজ করবে, যা পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তাদের উজ্জীবিত রাখতে সাহায্য করবে। তবে রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগের মধ্যে যে সমন্বয়ের অভাব মাঝেমধ্যে চোখে পড়েছে, তা নিয়েও কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। রক্ষণাত্মক কৌশলের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে আরও বেশি নিখুঁত হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
আগামী ম্যাচগুলোতে আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতে হবে বাংলাদেশকে। তাই আজকের জয়ের আনন্দকে পেছনে ফেলে দ্রুতই পরবর্তী প্রস্তুতির দিকে মনোনিবেশ করতে চায় দল। টমাস ডুলি মনে করেন, এই জয়টি কেবল তিনটি পয়েন্ট অর্জনের গল্প নয়, বরং দলের আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। খেলোয়াড়রা যদি কোচের পরিকল্পনা অনুযায়ী মাঠের ভুলগুলো শুধরে নিতে পারে, তবে টুর্নামেন্টে আরও ভালো ফলাফল আশা করা সম্ভব। দলের নতুন কৌশল এবং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ফর্ম বজায় থাকলে আসন্ন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা তুলনামূলক সহজ হবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি। কোচ এবং খেলোয়াড়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ তাদের জয়ের ধারা বজায় রাখতে পারবে কি না, তা দেখার অপেক্ষায় এখন সমর্থকরা।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ । ১১:১৪ অপরাহ্ণ