বিশ্ব পরিস্থিতির অস্থিতিশীলতা এবং চলমান বিভিন্ন যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের জ্বালানি খাতের ওপর। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সংকটের কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ করা বর্তমানে সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সম্প্রতি নাটোর সফরে গিয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি জানান, যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বেই জ্বালানি ব্যবস্থা টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে, যার ফলে দেশের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব অনিবার্য হয়ে পড়েছে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, জ্বালানি খাতের এই অস্থিরতা সামাল দিতে এবং সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরিস্থিতির তীব্রতা তুলে ধরে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, বিগত ছয় মাসে জ্বালানি খাতে সরকার প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করেছে। সরকারি কোষাগার থেকে এত বিশাল পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি হিসেবে দেওয়ার কারণে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো এবং সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা এখন বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন বাজেট এবং দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজে এই ভর্তুকির বাড়তি চাপের কারণে অনেক ক্ষেত্রে সমন্বয় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে।
প্রভাবের ভয়াবহতা সম্পর্কে আলোকপাত করে তিনি আরও বলেন, কেবল দাম নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তাও এখন একটি বড় উদ্বেগের কারণ। আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটার কারণে তেল আমদানির ক্ষেত্রে একদিকে যেমন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। সরকার চেষ্টা করছে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে এবং সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য জনগণকে উৎসাহিত করছে, কিন্তু বৈশ্বিক পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট পুরোপুরি কাটানো সম্ভব নয় বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি খাতের এই ভর্তুকি এখন বড় ধরনের আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এইভাবে ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানির দাম ধরে রাখা রাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তবে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান কঠিন সময়ে জনগণের ওপর সরাসরি মূল্যবৃদ্ধির চাপ যাতে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই সরকার এই ভর্তুকির বোঝা বহন করছে। তিনি দৃঢ়ভাবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বৈশ্বিক অস্থিরতা কমে এলে জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল হবে এবং দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম পুনরায় গতি ফিরে পাবে। বর্তমানে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ । ১১:১৪ অপরাহ্ণ