খুঁজুন
, ,

গ্যাস সংকট ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন বিপর্যস্ত: আখতার হোসেন

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
গ্যাস সংকট ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন বিপর্যস্ত: আখতার হোসেন

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, কলকাতায় যেখানে গ্যাস কিনতে এক হাজার টাকার মতো খরচ হয়, সেখানে বাংলাদেশে একই পরিমাণ গ্যাসের জন্য গুনতে হচ্ছে ২৫০০ টাকা।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেছেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে জ্বালানি খাতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সংকট সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের পাশাপাশি গ্যাসের দামের এই তারতম্য প্রমাণ করে যে, দেশের অর্থনীতি সঠিক পথে পরিচালিত হচ্ছে না। তিনি সম্প্রতি এক আলোচনায় দেশের জ্বালানি পরিস্থিতির সাথে প্রতিবেশী দেশ ভারতের কলকাতার গ্যাসের মূল্যের তুলনা করে বর্তমান সংকটের একটি চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

আখতার হোসেন দাবি করেন, সীমান্তবর্তী দেশ ভারতে রান্নার গ্যাসের জন্য সাধারণ মানুষকে যে মূল্য দিতে হয়, বাংলাদেশের নাগরিকদের তুলনায় তা অনেক কম। তিনি জানান, কলকাতায় এক হাজার টাকার আশেপাশে গ্যাস পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে একই প্রয়োজনে প্রায় আড়াই হাজার টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। এই পার্থক্যের বিষয়টি শুধুমাত্র গাণিতিক নয়, বরং এটি দেশের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর সরাসরি আঘাত। আয় ও ব্যয়ের এই বিশাল ব্যবধানের কারণে স্বল্প ও নিম্ন আয়ের মানুষরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তার মতে, জ্বালানি খাতের এই উচ্চমূল্য শুধু সাধারণের পকেটের টাকাই নিচ্ছে না, বরং সামগ্রিক উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দিয়ে বাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কেটে গেছে দীর্ঘ নয় মাস। এই সময়ের মধ্যে মানুষের প্রত্যাশা ছিল দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বাজার ব্যবস্থার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ শিথিল হয়ে পড়ছে। আখতার হোসেন এই প্রসঙ্গ টেনে বলেন, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বিএনপি বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর বা ক্ষমতা পরিবর্তনের পর সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও সাধারণ মানুষ সেই প্রতিশ্রুতির কোনো প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছে না। বরং নতুন নতুন সংকট তৈরি হচ্ছে যা জনগণের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু গ্যাস নয়, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপণ্যের বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙতে বর্তমান প্রশাসনের ব্যর্থতা প্রকট হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষ যখন জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে দিশেহারা, তখন রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর মানুষ যে স্থিতিশীলতার আশা করেছিল, সেই জায়গায় হতাশা কাজ করছে। জ্বালানি খাতের এই অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি কেবল জীবনযাত্রার মান কমিয়ে দিচ্ছে না, বরং ভবিষ্যতে দেশের শিল্প ও কলকারখানার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

আখতার হোসেনের মতে, একটি কার্যকর ও শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর কোনো বিকল্প নেই। যদি প্রতিবেশী দেশগুলোতে কম মূল্যে গ্যাস বা জ্বালানি পাওয়া যায়, তবে বাংলাদেশ কেন পারবে না, সেটিই বড় প্রশ্ন। এই পার্থক্যের পেছনে কোনো দুর্নীতি বা অপরিকল্পিত ব্যয় নীতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, সরকার যদি দ্রুত বাজার ব্যবস্থা এবং জ্বালানি খাতের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারে, তবে জনরোষ তৈরি হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে এবং দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

টঙ্গীতে উদ্ধার তাহসিফের মোটরসাইকেল, রহস্য উদ্ঘাটনে তৎপর পিবিআই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
টঙ্গীতে উদ্ধার তাহসিফের মোটরসাইকেল, রহস্য উদ্ঘাটনে তৎপর পিবিআই

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ থাকা তার ব্যক্তিগত কালো রঙের মোটরসাইকেলটি অবশেষে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই। নিহতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে তদন্তকারী কর্মকর্তারা টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরবর্তী মাজার বস্তি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেলটি খুঁজে পান।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যে স্থানে তাহসিফের মরদেহ পাওয়া গিয়েছিল, সেখান থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে পরিত্যক্ত অবস্থায় মোটরসাইকেলটি পড়ে ছিল। উদ্ধার হওয়ার সময় সেটি অনেকটা ঝোপঝাড় ও আবর্জনার আড়ালে লুকিয়ে রাখা ছিল বলে ধারণা করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের বিষয়টি মামলার তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, ঘটনার পর থেকেই এই বাহনটি নিখোঁজ ছিল এবং এর মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছিল।

এর আগে, কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছিল। পিবিআই দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কাজ শুরু করে। এরই অংশ হিসেবে নিহতের পরিচিত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিশেষ করে তাহসিফের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া তথ্য এবং তার দেওয়া লোকেশন ধরে পিবিআই টিম ওই এলাকায় অনুসন্ধান চালায়। উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হতে পারে বলে জানা গেছে। এই পরীক্ষা থেকে পাওয়া আলামত ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট তদন্তের গতিপথ নির্ধারণে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের ফলে ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বুঝতে সুবিধা হবে। কেন এটি মরদেহ উদ্ধারের স্থানের এত কাছে ফেলে রাখা হলো এবং এর পেছনে কোনো পূর্বপরিকল্পিত অপরাধের ছক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন পিবিআই কর্মকর্তারা। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল মোটরসাইকেল উদ্ধার নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িত থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে আরও গভীর তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, তাহসিফের পরিচয় শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তার মোবাইল ফোনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন থেকে পাওয়া তথ্যগুলোকে একসূত্রে গেঁথে ঘটনার রহস্য সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পিবিআই। মামলার তদন্তে কোনো ধরনের শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না জানিয়ে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয়দের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা। এখন ফরেনসিক রিপোর্ট আসার পর মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

রাজবাড়ীতে মাদ্রাসায় খাবার চেয়ে না পেয়ে বাবুর্চিকে পিটিয়ে হত্যা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
রাজবাড়ীতে মাদ্রাসায় খাবার চেয়ে না পেয়ে বাবুর্চিকে পিটিয়ে হত্যা

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া এলাকায় একটি মাদ্রাসায় দুপুরের খাবার পরিবেশনের সময় এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি অতর্কিতে মাদ্রাসার রান্নাঘরে ঢুকে খাবার দাবি করেন। খাবার দিতে দেরি হওয়ায় বা তাৎক্ষণিকভাবে খাবার না মেলায় ওই ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালান। এ সময় কাঠের গুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে মাদ্রাসার বাবুর্চিকে হত্যা করা হয় এবং তার নারী সহকারীকে গুরুতর আহত করা হয়। নিহতের পরিচয় পাওয়া গেলেও হামলাকারী ঘটনার পরপরই পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়া মাদ্রাসাতু সাবি-ইল-হাসান দাখিল মাদ্রাসায় প্রতিদিনের ন্যায় দুপুরে শিক্ষার্থীদের জন্য রান্নাবান্না চলছিল। রান্না শেষে বাবুর্চি ও তার সহকারী খাবার পরিবেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে কোনো এক ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে খাবার দাবি করেন। মাদ্রাসার নিয়ম অনুযায়ী তখনো খাবার পরিবেশন শুরু হয়নি এবং স্বাভাবিকভাবেই খাবার দিতে কিছুটা সময় লাগার কথা ছিল। খাবার না পেয়ে ওই অজ্ঞাত ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং রান্নাঘরের পাশে থাকা কাঠের গুড়ি বা চলা হাতে তুলে নেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই ব্যক্তি বিনা প্ররোচনায় বাবুর্চির ওপর চড়াও হন এবং তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন। বাবুর্চি নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও হামলাকারীর আকস্মিক ও নৃশংস হামলায় তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ সময় বাবুর্চির কাজে সহায়তা করছিলেন যে নারী সহকারী, তিনি প্রতিবাদ করতে গেলে তাকেও একই কাঠের গুড়ি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হামলাকারীর হামলায় বাবুর্চি নিথর হয়ে পড়ে থাকতে দেখে আশপাশের লোকজন ও মাদ্রাসার ছাত্ররা এগিয়ে এলে আক্রমণকারী দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা আহত নারী সহকারীকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ঘটনার খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। ঘটনার পর থেকে পুরো মাদ্রাসাপাড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘাতককে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিশেষ দল অভিযান শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং সে কেন এমন নৃশংসতায় লিপ্ত হলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, যারা মাদ্রাসায় সেবা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত, তাদের ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বা আশপাশের মানুষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হামলাকারীকে চিহ্নিত করার কাজ করছে। খুব দ্রুতই অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। দৌলতদিয়া আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়া মাদ্রাসার এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মহলে। পুলিশি তদন্ত চলছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

ব্রাজিলের বৈধ নেতা হিসেবে বলসোনারোকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না ট্রাম্প প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
ব্রাজিলের বৈধ নেতা হিসেবে বলসোনারোকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না ট্রাম্প প্রশাসন

ব্রাজিলের রাজনৈতিক পটভূমিতে নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে মিত্র হিসেবে পরিচিত বলসোনারো এবং তার পরিবারের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের আগের নমনীয় মনোভাব এখন আর বিদ্যমান নেই। সাম্প্রতিক নানা কর্মকাণ্ড এবং বক্তব্যের প্রেক্ষিতে জানা গেছে যে, ফ্লাভিও বলসোনারো নিজেকে ব্রাজিলের বৈধ নেতা হিসেবে যে দাবি করছেন, তাতে কোনোভাবেই সমর্থন জোগানোর পরিকল্পনা নেই মার্কিন প্রশাসনের। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

নির্বাচনী লড়াইয়ে পরাজিত হওয়ার পর ফ্লাভিও বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় গ্রহণ করেন। অনেকেই ধারণা করেছিলেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে বলসোনারোর পূর্বের ঘনিষ্ঠ সুসম্পর্কের কারণে তাকে হয়তো এক ধরনের বাড়তি সুবিধা দেওয়া হতে পারে। এমনকি তিনি যখন যুক্তরাষ্ট্রে এসে পৌঁছান, তখনও তাকে সহায়তা প্রদানের বিষয়টি সামনে এসেছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দৃশ্যপট ভিন্ন। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, মার্কিন প্রশাসন এখন আর বলসোনারোর নিজেকে বৈধ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দাবি করার এই অসাংবিধানিক বা অযৌক্তিক অবস্থানকে প্রশ্রয় দিতে রাজি নয়। এটি কেবল একটি কূটনৈতিক দূরত্ব নয়, বরং বলসোনারোর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে ধূলিসাৎ করার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অস্থিরতা এবং নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের সময়ও বলসোনারো তার নিজস্ব অবস্থানে অটল থাকার চেষ্টা করেছেন। তিনি নিজেকে বৈধ নেতা হিসেবে তুলে ধরার জন্য যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা আন্তর্জাতিক মহলে তেমন কোনো গুরুত্ব পাচ্ছে না। বিশেষ করে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এমন শীতল প্রতিক্রিয়া তার সমর্থকদের জন্য একটি বড় ধাক্কা। অতীতে ট্রাম্পের সাথে বলসোনারোর সুসম্পর্ক ব্রাজিলের রাজনৈতিক বলয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সেই সময়ে অনেকেই মনে করেছিলেন, মার্কিন সমর্থন বলসোনারোর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ভূ-রাজনীতির সমীকরণ প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয় এবং স্বার্থের সংঘাত যখন বড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও ফিকে হয়ে যায়।

বর্তমানে বলসোনারোর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান এবং তার রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়েও নানাবিধ জল্পনা চলছে। তিনি নিজেকে বৈধ নেতা হিসেবে জাহির করলেও, আন্তর্জাতিক আইনি বা কূটনৈতিক কাঠামোতে এর কোনো ভিত্তি নেই। মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা ব্রাজিলের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতাকে মেনে নিতে প্রস্তুত এবং কোনো একক ব্যক্তির বিতর্কিত দাবিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে গুরুত্ব দিতে রাজি নয়। এই সিদ্ধান্ত বলসোনারোর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকেও অনিশ্চিত করে তুলছে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বলসোনারোর এই দাবি কেবল ব্রাজিলের জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর একটি প্রচেষ্টা হতে পারে। কিন্তু আন্তর্জাতিক শক্তির সমর্থন ছাড়া এ ধরনের দাবি যে টিকিয়ে রাখা অসম্ভব, তা এখন পরিষ্কার। মার্কিন কর্মকর্তাদের এমন কঠোর বার্তা সেই বাস্তবতাকে আরও দৃঢ় করলো। বলসোনারো এখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও, সেখান থেকে ব্রাজিলের ক্ষমতার রাজনীতিতে প্রভাব ফেলার যে স্বপ্ন তিনি দেখছেন, তাতে মার্কিন প্রশাসন জল ঢেলে দিয়েছে। আগামী দিনগুলোতে বলসোনারোর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এবং তিনি এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কী কৌশল গ্রহণ করবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, ব্রাজিলের বৈধ নেতৃত্বের প্রশ্নে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান এখন পর্যন্ত বলসোনারোর বিপরীতেই রয়েছে।

সর্বশেষ
টঙ্গীতে উদ্ধার তাহসিফের মোটরসাইকেল, রহস্য উদ্ঘাটনে তৎপর পিবিআই রাজবাড়ীতে মাদ্রাসায় খাবার চেয়ে না পেয়ে বাবুর্চিকে পিটিয়ে হত্যা ব্রাজিলের বৈধ নেতা হিসেবে বলসোনারোকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না ট্রাম্প প্রশাসন গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে বন্দরশ্রমিকদের কর্মবিরতি পাহাড়ের কোলে স্বপ্নপুরী, বলিউড সিনেমার দৃশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছে ভারতের এই রেলস্টেশন গ্যাস সংকট ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন বিপর্যস্ত: আখতার হোসেন ফার্মাসি রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ বন্ধ ঘরে ধুলোর উপদ্রব: অদৃশ্য কারণ ও মুক্তির উপায় বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার অস্বাভাবিক মৃত্যু: সুষ্ঠু তদন্তের দাবি পরিবারের নেত্রকোনায় শতবর্ষী ধর্মপল্লীর চুরি যাওয়া ঘণ্টা উদ্ধার
Advertisement