রাজবাড়ীতে মাদ্রাসায় খাবার চেয়ে না পেয়ে বাবুর্চিকে পিটিয়ে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ । ৭:১৪ অপরাহ্ণ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া এলাকায় একটি মাদ্রাসায় দুপুরের খাবার পরিবেশনের সময় এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি অতর্কিতে মাদ্রাসার রান্নাঘরে ঢুকে খাবার দাবি করেন। খাবার দিতে দেরি হওয়ায় বা তাৎক্ষণিকভাবে খাবার না মেলায় ওই ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালান। এ সময় কাঠের গুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে মাদ্রাসার বাবুর্চিকে হত্যা করা হয় এবং তার নারী সহকারীকে গুরুতর আহত করা হয়। নিহতের পরিচয় পাওয়া গেলেও হামলাকারী ঘটনার পরপরই পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়া মাদ্রাসাতু সাবি-ইল-হাসান দাখিল মাদ্রাসায় প্রতিদিনের ন্যায় দুপুরে শিক্ষার্থীদের জন্য রান্নাবান্না চলছিল। রান্না শেষে বাবুর্চি ও তার সহকারী খাবার পরিবেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে কোনো এক ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে খাবার দাবি করেন। মাদ্রাসার নিয়ম অনুযায়ী তখনো খাবার পরিবেশন শুরু হয়নি এবং স্বাভাবিকভাবেই খাবার দিতে কিছুটা সময় লাগার কথা ছিল। খাবার না পেয়ে ওই অজ্ঞাত ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং রান্নাঘরের পাশে থাকা কাঠের গুড়ি বা চলা হাতে তুলে নেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই ব্যক্তি বিনা প্ররোচনায় বাবুর্চির ওপর চড়াও হন এবং তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন। বাবুর্চি নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও হামলাকারীর আকস্মিক ও নৃশংস হামলায় তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ সময় বাবুর্চির কাজে সহায়তা করছিলেন যে নারী সহকারী, তিনি প্রতিবাদ করতে গেলে তাকেও একই কাঠের গুড়ি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হামলাকারীর হামলায় বাবুর্চি নিথর হয়ে পড়ে থাকতে দেখে আশপাশের লোকজন ও মাদ্রাসার ছাত্ররা এগিয়ে এলে আক্রমণকারী দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা আহত নারী সহকারীকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ঘটনার খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। ঘটনার পর থেকে পুরো মাদ্রাসাপাড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘাতককে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিশেষ দল অভিযান শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং সে কেন এমন নৃশংসতায় লিপ্ত হলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, যারা মাদ্রাসায় সেবা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত, তাদের ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বা আশপাশের মানুষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হামলাকারীকে চিহ্নিত করার কাজ করছে। খুব দ্রুতই অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। দৌলতদিয়া আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়া মাদ্রাসার এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মহলে। পুলিশি তদন্ত চলছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন