খুঁজুন
, ,

হেফাজতে ইসলামের তত্ত্বাবধানে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠন করল সাত ইসলামি দল

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
হেফাজতে ইসলামের তত্ত্বাবধানে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠন করল সাত ইসলামি দল

দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন মেরুকরণের আভাস পাওয়া গেছে। কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে পরিচিত হেফাজতে ইসলামের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সাতটি ইসলামি দল মিলে একটি নতুন জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ২২ অক্টোবর এই জোটের আনুষ্ঠানিক যাত্রার খবর প্রকাশ্যে আসে, যা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানামুখী আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ধর্মভিত্তিক দলগুলোর এই সম্মিলিত উদ্যোগকে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কৌশল হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

জোটভুক্ত দলগুলো হলো বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোটের রাজী অংশ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। এই দলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই পৃথকভাবে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তবে এবার হেফাজতে ইসলামের ছায়াতলে এসে তারা এক নতুন রাজনৈতিক কৌশলের দিকে হাঁটছে। হেফাজতে ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিলেও, এই দলগুলোর জোটবদ্ধ হওয়ার নেপথ্যে তাদের এই সক্রিয় ভূমিকা ও তত্ত্বাবধান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্নের অবতারণা করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মভিত্তিক দলগুলো ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। তবে তাদের মধ্যকার অনৈক্য বা বিভাজন অনেক ক্ষেত্রেই বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে বাধা হয়ে দাঁড়াত। এবার সেই বাধা কাটিয়ে সাতটি দল একই প্ল্যাটফর্মে আসার পেছনে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার এবং জনভিত্তি যাচাই করার লক্ষ্যেই এই জোট গঠিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের দরকষাকষির সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যও এই জোট একটি শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে।

এই জোটের মূল শক্তি হলো তাদের আদর্শিক ঐক্য। কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক এই সংগঠনগুলোর তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। হেফাজতে ইসলামের মতো সংগঠনের ছায়াতলে এই জোটটি কতদিন টিকে থাকতে পারবে এবং নির্বাচনী মাঠে তারা কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা। নির্বাচনী রাজনীতিতে এককভাবে লড়ার চেয়ে জোটবদ্ধ হয়ে লড়লে প্রার্থীর জয়লাভের সম্ভাবনা বেড়ে যায়, যা সম্ভবত এই দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করেছে। এছাড়া, ভোটের মাঠে নিজস্ব অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ ঠিক করার একটি কৌশলও এর মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মভিত্তিক জোট গঠনের ইতিহাস দীর্ঘ। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে নানা নামে ও ব্যানারে ইসলামি দলগুলো একত্রিত হয়েছে। তবে এবার হেফাজতে ইসলামের মতো একটি প্রভাবশালী সংগঠনের সরাসরি হস্তক্ষেপে এই ঐক্য কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অতীতেও নানা সময়ে আদর্শিক মতপার্থক্য কিংবা নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের কারণে অনেক জোট ভেঙে যাওয়ার নজির রয়েছে। এই সাতটি দলের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া কতটা অটুট থাকবে এবং হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বকে তারা কতটুকু মান্য করবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি যে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।

রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করছেন, এই জোট গঠনের মাধ্যমে ইসলামি দলগুলো কেবল নির্বাচন নয়, বরং দেশের বৃহত্তর সামাজিক ও ধর্মীয় ইস্যুগুলোতেও নিজেদের সম্মিলিত আওয়াজ আরও জোরালো করতে চাইবে। হেফাজতে ইসলামের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে থাকার কারণে এই জোটের কার্যক্রম সাধারণত সাধারণ ইসলামি জনমতের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য হওয়ার সুযোগ থাকবে। সব মিলিয়ে, আগামী দিনগুলোতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই জোটের তৎপরতা রাজনৈতিক ময়দানে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের এই ঐক্যের প্রতিক্রিয়া কীভাবে নেয়, তা দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপাতত মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জোটের এই নতুন সূচনার অপেক্ষায় রয়েছেন এবং এই সাত দলের নেতারা তাদের পরবর্তী কর্মকৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যা

মোঃ সুজন আলী
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
   
ঠাকুরগাঁওয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের কচুবাড়ি (কাজীপাড়া) এলাকায় নার্গিস আক্তার (৩৫) নামে দুই সন্তানের জননীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ৭টা থেকে ৭টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে নিজ বসতবাড়ির শয়নকক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

নিহত নার্গিস আক্তার ওই এলাকার মাওলানা কাজী মো. কামরুজ্জামানের স্ত্রী।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নার্গিস আক্তার দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন চিকিৎসকের পাশাপাশি স্থানীয় কবিরাজের মাধ্যমেও তাঁর চিকিৎসা করানো হয়েছিল। এর আগেও তিনি বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

ঘটনার দিন ভোরে তাঁর স্বামী ফজরের নামাজ আদায় করতে মসজিদে যান। নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরে স্ত্রীকে নামাজের জন্য ডেকে দিয়ে প্রতিদিনের মতো হাঁটতে বের হন। পরে সকাল আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে বাড়িতে ফিরে স্ত্রীর ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান।ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় নার্গিসকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাঁকে নিচে নামানো হলে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

খবর পেয়ে ভূল্লী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহালসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করে।

ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

হাটহাজারীতে শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
   
হাটহাজারীতে শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে অবস্থিত সরকারি শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে শিশুদের খোঁজখবর নিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এবং শিশুদের জীবনযাত্রার মান যাচাই করেন এবং শিশুদের হাতে তৈরি উপহার গ্রহণ করেন।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে অবস্থিত সরকারি শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিশেষ পরিদর্শন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। আজ সকালে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে পৌঁছালে সেখানকার কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে স্বাগত জানানো হয়। মূলত সুবিধাবঞ্চিত এবং সরকারি তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠা শিশুদের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের আবাসন ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যেই মন্ত্রীর এই সফর।

পরিদর্শনকালে সমাজকল্যাণমন্ত্রী কেন্দ্রের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং শিশুদের সাথে সরাসরি কথা বলেন। তিনি কেন্দ্রের আবাসিক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার পরিবেশ এবং দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও বিনোদনের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। মন্ত্রী সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, সরকারি শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে যারা আশ্রয় নিয়েছে, তারা যেন কোনোভাবেই অবহেলার শিকার না হয় এবং তাদের বেড়ে ওঠার জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

পরিদর্শনের এক পর্যায়ে সেখানে থাকা শিশুদের সাথে মন্ত্রী কিছুটা সময় অতিবাহিত করেন। এই সময়ে শিশুরা তাদের সৃজনশীল প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পায়। শিশুরা নিজেদের হাতে তৈরি পুঁতির শোপিস এবং তাজমহলের একটি শিল্পকর্ম মন্ত্রীকে উপহার হিসেবে প্রদান করে। এমন সুন্দর আয়োজনে মন্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং শিশুদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সৃজনশীল কাজগুলো শিশুদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের কাজ থেকে শিশুরা যেন উৎসাহ পায়, সেদিকে নজর রাখতে তিনি তত্ত্বাবধায়কদের আহ্বান জানান।

মন্ত্রী আরও বলেন যে, সরকার শিশু অধিকার সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে যেসব শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন বা বিভিন্ন কারণে সরকারি সহায়তায় এই কেন্দ্রে আশ্রয় পেয়েছে, তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা এবং কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে তৈরি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তাই পুনর্বাসন কেন্দ্রে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মান বাড়ানো এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

পরিদর্শন শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে এক সংক্ষিপ্ত বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে তিনি প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা, তহবিল ব্যবস্থাপনা এবং কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। কোনো গাফিলতি সহ্য করা হবে না বলে তিনি সতর্ক বার্তা দেন এবং শিশুদের সর্বোচ্চ সেবাদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শিশুদের যথাযথ যত্ন নিশ্চিত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, হাটহাজারী সরকারি শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রটি দীর্ঘ সময় ধরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। মন্ত্রীর আজকের এই সফর কেন্দ্রটির কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন উদ্দীপনা জোগাবে বলে আশা করছেন স্থানীয় সংশ্লিষ্টরা। আগামী দিনগুলোতে শিশুদের মানসম্মত জীবনযাপন নিশ্চিত করতে সরকার আরও বেশি সহায়তা প্রদান করবে বলেও মন্ত্রীর সফরসঙ্গীরা নিশ্চিত করেছেন।

মাথায় আঘাতের কারণে দ্বিতীয় টেস্টে মুমিনুল হকের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
   
মাথায় আঘাতের কারণে দ্বিতীয় টেস্টে মুমিনুল হকের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান ঢাকা টেস্টের লড়াইয়ে বাংলাদেশের জন্য দুঃসংবাদ যেন থামছেই না। ইনজুরির মিছিলে সর্বশেষ যুক্ত হয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হক। ফিল্ডিংয়ের সময় মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণে তাকে নিয়ে দলের দুশ্চিন্তা এখন তুঙ্গে। এই আঘাতের তীব্রতা এতটাই বেশি যে, তাকে কনকাশন প্রোটোকলের আওতায় মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পরবর্তী টেস্টেও তার অংশগ্রহণ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের অন্যতম ভরসা মুমিনুল হকের ছিটকে পড়া বাংলাদেশ দলের জন্য বড় ধাক্কা। এমনিতেই চোটের কারণে মুশফিকুর রহিম এই সিরিজ থেকে আগেই ছিটকে গেছেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ দুজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে ছাড়াই এখন নতুন করে রণকৌশল সাজাতে হচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামার কথা ছিল মুমিনুলের। কিন্তু মাথায় আঘাতের কারণে মেডিকেল টিম তাকে ব্যাটিংয়ে নামার অনুমতি দেয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, তার জায়গায় কনকাশন বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছেন জাকের আলী অনিক। একজন ব্যাটার যখন মাথায় আঘাত পান, তখন আইসিসির কড়া নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়ম মেনে মুমিনুলকে আগামী সাত দিন পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে এবং সব ধরনের শারীরিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সাত দিনের নিয়মটিই দ্বিতীয় টেস্টে তার ফেরার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চিকিৎসক ও ফিজিওদের পর্যবেক্ষণে থাকা মুমিনুলের সুস্থতা এখন দল ও ভক্তদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। কনকাশন বা মাথায় আঘাতজনিত সমস্যাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দ্রুত মাঠে ফিরলে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই আইসিসি এবং ক্রিকেট বোর্ড এ ব্যাপারে কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। যেহেতু দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হতে খুব বেশি সময় নেই, তাই এই সাত দিনের বাধ্যতামূলক বিশ্রাম শেষে মুমিনুলের ফিটনেস টেস্টে উত্তীর্ণ হওয়াটা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। যদি তিনি ম্যাচ ফিটনেস প্রমাণ করতে না পারেন, তবে দল থেকে তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না।

দলের ব্যাটিং লাইনে অভিজ্ঞতার অভাব যখন তীব্র, ঠিক তখনই মুমিনুলের মতো একজন টেস্ট বিশেষজ্ঞ ব্যাটারের অনুপস্থিতি দলের ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং লাইনআপের বিপক্ষে টিকে থাকার লড়াইয়ে মুমিনুলের ব্যাটিং শৈলী বাংলাদেশের জন্য সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। তাকে ছাড়া দ্বিতীয় টেস্টে একাদশ সাজানো কোচিং স্টাফদের জন্য এক কঠিন পরীক্ষার সমান। বর্তমান পরিস্থিতিতে টিম ম্যানেজমেন্ট বিকল্প খেলোয়াড় নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বোর্ডের মেডিকেল রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে সবাইকে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের এই নাজুক মুহূর্তে মুমিনুল হকের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন সমর্থকরা। তবে ক্রিকেটীয় নিয়মনীতি এবং স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করেই তাকে মাঠে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিসিবির দায়িত্বশীল সূত্র। আপাতত দ্বিতীয় টেস্টের জন্য মুমিনুলের বিষয়টি অনিশ্চয়তার দোলাচলেই থাকছে। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যেই বিসিবি চূড়ান্ত ঘোষণা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলের অন্য ক্রিকেটাররা এখন মুমিনুলের অভাব পুষিয়ে নিতে নিজেদের সর্বোচ্চ নিংড়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সর্বশেষ
ঠাকুরগাঁওয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যা হাটহাজারীতে শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী মাথায় আঘাতের কারণে দ্বিতীয় টেস্টে মুমিনুল হকের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত ব্যাটিং বিপর্যয়ে ধুঁকছে বাংলাদেশ: মিরাজকে হারিয়ে বিপাকে টাইগাররা হেফাজতে ইসলামের তত্ত্বাবধানে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠন করল সাত ইসলামি দল রাজধানীর রমনায় ককটেল বিস্ফোরণ: গ্রেফতার দুই আসামির তথ্যে আরও বিস্ফোরক উদ্ধার ভ্রমণকালে হঠাৎ ভূমিকম্পের মুখোমুখি হলে যা করা জরুরি ইউক্রেনে ভয়াবহ রুশ হামলা: একদিনে নিহত ২০, দিনিপ্রোতে প্রাণহানি ১৪ জনের প্রধানমন্ত্রীর জাপানফেরত বিমানে ত্রুটি, ইঞ্জিন সচল ছিল: অতিরিক্ত প্রেস সচিব প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন
Advertisement