খুঁজুন
, ,

জাতীয় দল থেকে তানজিম সাকিবকে বাদ দেওয়া নিয়ে গুঞ্জন, মুখ খুললেন পেস অলরাউন্ডার

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
জাতীয় দল থেকে তানজিম সাকিবকে বাদ দেওয়া নিয়ে গুঞ্জন, মুখ খুললেন পেস অলরাউন্ডার

ইনজুরি ও চলমান ক্রিকেটে সুযোগ না পাওয়া নিয়ে সৃষ্ট গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে অবশেষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন পেসার তানজিম হাসান সাকিব। ষড়যন্ত্রের শিকার কি না, সেই প্রশ্নের জবাব দিলেন তিনি।

ক্রিকেটের মাঠে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরের নানা সমীকরণও অনেক সময় খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে জাতীয় দলের স্কোয়াড নির্বাচনে যখন কোনো প্রতিভাবান ক্রিকেটারের নাম থাকে না, তখন সমর্থকদের মধ্যে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হওয়া স্বাভাবিক। সম্প্রতি তরুণ পেস বোলিং অলরাউন্ডার তানজিম হাসান সাকিবকে নিয়ে এমন একটি আলোচনার জন্ম হয়েছে। ইনজুরির কারণে দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই ক্রিকেটার কেন সাম্প্রতিক থ্রি ডি টুর্নামেন্টের স্কোয়াডে সুযোগ পাননি, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। কেউ কেউ বিষয়টিকে কেবল ইনজুরিজনিত সমস্যা হিসেবে দেখছেন না, বরং এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেও মত প্রকাশ করছেন ভক্তরা।

দীর্ঘদিন ধরে মাঠের বাইরে থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবেই তানজিমের ম্যাচ ফিটনেস এবং ছন্দে ফেরা নিয়ে নির্বাচকদের একটি চিন্তার জায়গা থাকে। তবে ভক্তদের একাংশ মনে করছেন, তানজিমকে পরিকল্পিতভাবে ক্রিকেটের মূল স্রোত থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। এই ধরনের অভিযোগ বা গুঞ্জন ক্রীড়াঙ্গনে নতুন নয়। যখনই কোনো নিয়মিত পারফর্মার হঠাত করে দল থেকে অদৃশ্য হয়ে যান, তখনই ভক্তদের মনে ক্ষোভ ও কৌতূহলের জন্ম হয়। তানজিমের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই ঘটেছে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ও ক্রিকেটের নিয়মিত দর্শকবৃন্দ তাদের নিজস্ব বিশ্লেষণের মাধ্যমে দাবি করছেন যে, তাকে হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দলে নেওয়া হচ্ছে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই উত্তাল স্রোতে যখন নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই এই বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেন তানজিম হাসান সাকিব। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে তিনি এই গুঞ্জনের বিষয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, তার বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে আসলে তেমন কোনো রহস্য নেই, যা নিয়ে মানুষ ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে। তার মতে, ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠা এবং নিজের ফিটনেস প্রমাণ করাই এখন তার মূল লক্ষ্য। তিনি মনে করেন, ক্রিকেটে ইনজুরি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং এর কারণে মাঠের বাইরে থাকতে হলে মানসিকভাবে শক্ত থাকাই আসল কাজ।

তানজিম আরও স্পষ্ট করেছেন যে, দল নির্বাচনে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, তার প্রতি তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। থ্রি ডি টুর্নামেন্ট বা অন্যান্য ইভেন্টে সুযোগ না পাওয়ার পেছনে ইনজুরি পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বর্তমানে তার বোলিং অ্যাকশন এবং শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছেন যাতে ভবিষ্যতে যখনই সুযোগ আসে, তিনি সেরাটা দিতে পারেন। কোনো প্রকার ষড়যন্ত্রের অভিযোগকে তিনি গুরুত্ব দিতে নারাজ। তার দৃষ্টিতে, একজন ক্রিকেটারের সবচেয়ে বড় উত্তর হলো মাঠে পারফরম্যান্স করা। বিতর্ক বা গুঞ্জনে কান না দিয়ে তিনি বরং পুনরায় দলে ফেরার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, একজন উঠতি ক্রিকেটারের জন্য এমন গুঞ্জন ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ এতে খেলোয়াড়ের মানসিক মনোযোগ নষ্ট হয়। তানজিম সাকিব যেভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তা তার পেশাদারিত্বেরই পরিচয় বহন করে। তিনি ষড়যন্ত্রের তত্ত্বকে উড়িয়ে দিয়ে নিজের প্রস্তুতির ওপর মনোযোগ দেওয়ার যে কথা বলেছেন, তা তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য ইতিবাচক সংকেত।

সবশেষে বলা যায়, জাতীয় দলের জার্সিতে ফেরার আকাঙ্ক্ষা সবারই থাকে। তানজিম সাকিবও তার ব্যতিক্রম নন। ভক্তদের আবেগ বা উদ্বেগ যে জায়গা থেকে তৈরি হোক না কেন, চূড়ান্ত সত্য হলো একজন খেলোয়াড়ের ফর্ম ও ফিটনেস। যদি তিনি পুনরায় নিজেকে প্রমাণ করতে পারেন, তবে নির্বাচকদের উপেক্ষা করার উপায় থাকবে না। ইনজুরি কাটিয়ে তিনি দ্রুত মাঠে ফিরবেন এবং আগের মতোই দলের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখবেন, এমনটাই প্রত্যাশা করছেন শুভানুধ্যায়ীরা। আপাতত সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তানজিম এখন নিজের লক্ষ্য অর্জনে অবিচল থাকার বার্তা দিয়ে গেছেন সবাইকে।

জাপানি নাটকের বিষয়বস্তু নিয়ে বেইজিংয়ের কড়া আপত্তি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
জাপানি নাটকের বিষয়বস্তু নিয়ে বেইজিংয়ের কড়া আপত্তি

জাপানি একটি নাটকের বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ জানিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের অভিযোগ, জাপানি সংস্কৃতি ও বিনোদন শিল্পের আড়ালে সচেতনভাবে চীনবিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশটির দাবি, সাংস্কৃতিক উপাদানের মাধ্যমে চীনকে নেতিবাচক ও অপশক্তি হিসেবে চিত্রায়িত করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে, যা কূটনৈতিক সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

বেইজিংয়ে আয়োজিত নিয়মিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কুও চিয়া খুন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, জাপানের সাম্প্রতিক একটি নাটকের ঘটনাপ্রবাহ এবং চরিত্র চিত্রায়ণ চীনকে হেয় করার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রয়াস। মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, গণমাধ্যম ও বিনোদন শিল্প ব্যবহার করে কোনো রাষ্ট্রকে কলঙ্কিত করা আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার ও সুস্থ সংস্কৃতির পরিপন্থী। কুও চিয়া খুন জানান, নির্দিষ্ট এই নাটকটিতে চীনা চরিত্রগুলোকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা কেবল কাল্পনিক নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাপানি কোম্পানি সানরিও তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। চীনা দর্শকদের মধ্যে এই নাটকটি নিয়ে ব্যাপক জনরোষ সৃষ্টি হওয়ায় এবং বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় সানরিও কোম্পানি নাটকটির সঙ্গে তাদের অংশীদারিত্ব বা সহযোগিতা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। মূলত চীনে নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই জাপানি প্রতিষ্ঠানটি এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে বরাবরই কিছু স্পর্শকাতর বিষয় থাকে। তবে যখন কোনো বিনোদনমূলক নাটক বা সিরিজ কোনো বিশেষ দেশের ভাবমূর্তিকে আঘাত করে, তখন তা দ্রুত কূটনৈতিক পর্যায়ে উত্তেজনার জন্ম দেয়। জাপান ও চীনের মধ্যে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন দীর্ঘদিনের। এই প্রেক্ষাপটে বিনোদন জগতেও দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার সংকট প্রকট হয়ে উঠছে।

বেইজিংয়ের এই কড়া বার্তার পর জাপানি বিনোদন শিল্পের ওপর কি ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব জাপানি কোম্পানি চীনা বাজারে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে, তারা এখন আরও সতর্ক হওয়ার চেষ্টা করবে। সানরিও কোম্পানির এই দ্রুত পিছু হটা সেই সতর্কতারই ইঙ্গিত বহন করে। চীন বরাবরই তাদের জাতীয় ভাবমূর্তির বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। যেকোনো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কিংবা বিদেশি গণমাধ্যমে নিজেদের দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি বা চরিত্র নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য বা চিত্রায়ণকে তারা উসকানিমূলক হিসেবে দেখে।

বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সরকার বা শিল্পমহলের পক্ষ থেকে আরও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন অনলাইন ফোরামে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বেইজিংয়ের এই অবস্থানের পর জাপানি প্রযোজনা সংস্থাগুলো ভবিষ্যতে চীন সম্পর্কিত বিষয়বস্তু নিয়ে আরও বেশি সচেতন ও সতর্ক হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক কূটনীতিতে যে বিনোদন মাধ্যমগুলো কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, এই ঘটনাটি তারই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। আপাতত জাপানি নাটকের এই বিতর্কিত বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক মহলে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

ভুল তথ্যের মায়াজাল কাটাতে তরুণ প্রজন্মকে সচেতনতার বার্তা দিলেন ডা. জাহেদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
ভুল তথ্যের মায়াজাল কাটাতে তরুণ প্রজন্মকে সচেতনতার বার্তা দিলেন ডা. জাহেদ

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতিনিয়ত ছড়িয়ে পড়ছে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য। এই অনলাইনের যুগে তথ্যপ্রবাহের অবাধ স্বাধীনতার কারণে সাধারণ মানুষ প্রায়শই ভুল তথ্যের ফাঁদে পা দিচ্ছেন। এই সমস্যাটি বিশেষ করে বয়স্ক নাগরিকদের ক্ষেত্রে বেশ প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি মনে করেন, বয়স্করা অনেক সময় প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে গিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারেন না, যার ফলে তারা ভুল তথ্যের প্রভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।

বৃহস্পতিবার ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। ‘একবিংশ শতাব্দীর তরুণদের জন্য মিডিয়া ও ইনফরমেশন লিটারেসি স্কিলস’ শীর্ষক এই আয়োজনে তিনি বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ ও করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন এবং বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে ডা. জাহেদ উর রহমান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ভুল তথ্যের কুফল থেকে সমাজের একটি বড় অংশকে রক্ষা করার জন্য তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বয়স্ক আত্মীয়স্বজন বা পরিচিতজনদের অনলাইনে কোনো তথ্য পেলে সেটি যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তরুণদের গাইড বা সহায়তা করা উচিত। প্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষ হওয়ায় তরুণরাই পারে তাদের অভিভাবক ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সঠিক তথ্যের উৎস চিনিয়ে দিতে এবং গুজব থেকে দূরে রাখতে।

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, তথ্যের সঠিকতা যাচাই করার দক্ষতা বা মিডিয়া লিটারেসি এখন সময়ের বড় প্রয়োজন। শুধু তরুণদের নিজেদের শিক্ষিত করলেই চলবে না, তাদের অর্জিত জ্ঞান পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে হবে। বয়স্করা যেহেতু অনেক সময় হুজুগে বা আবেগের বশবর্তী হয়ে তথ্য শেয়ার করেন, তাই তাদের সচেতন করার দায়িত্ব পরিবারের তরুণ সদস্যদেরই নিতে হবে। এটি কেবল একটি সামাজিক দায়িত্বই নয়, বরং দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্যও জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সেমিনারে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভুয়া খবর বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিবাদ করা বা সঠিক তথ্য তুলে ধরার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রযুক্তির এই বিশাল জগতকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে আমাদের সজাগ থাকতে হবে যাতে আমরা বিভ্রান্ত না হই এবং অন্যদেরও বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করতে পারি।

অনুষ্ঠানটি আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল তরুণদের মধ্যে মিডিয়া লিটারেসি বা সংবাদ সচেতনতা বৃদ্ধি করা। আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল বিশ্বে তরুণরা যেভাবে তথ্যের উৎস খুঁজে বের করতে পারে, প্রবীণদের সেই সক্ষমতা অনেক ক্ষেত্রে সীমিত। এই ব্যবধান কমিয়ে আনার জন্য তরুণদের মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন উপদেষ্টা। সঠিক তথ্যের প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে সমাজে বিশৃঙ্খলা কমবে এবং মানুষ নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সবশেষে তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারের পক্ষ থেকেও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করা হচ্ছে, তবে ব্যক্তি পর্যায় থেকে সচেতনতা তৈরি না হলে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান সম্ভব নয়। তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই একটি শিক্ষিত ও সচেতন জাতি গঠন করা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন এবং ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন আয়োজনের প্রশংসা করেন।

নদীর স্রোত আর অভাবের লড়াই জয় করে জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন লিকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
নদীর স্রোত আর অভাবের লড়াই জয় করে জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন লিকা

অভাব-অনটন আর দারিদ্র্যকে সঙ্গী করেই যার বেড়ে ওঠা, সেই লিকা পোদ্দার আজ সাফল্যের শিখরে। ব্যাডমিন্টন কোর্টে দাপট দেখিয়ে জিতে নিলেন ৪০তম জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা। জীবনের প্রতিটি বাঁকে লড়াই করা এই তরুণীর হাতে জাতীয় চ্যাম্পিয়নের মুকুট ওঠায় এখন চারদিকে প্রশংসার জোয়ার। অথচ তার জীবনের শুরুটা ছিল একেবারেই ভিন্ন। মংলার নিভৃত পল্লীতে মৎস্যজীবী বাবার জালে আটকা পড়া মাছের ওপরই নির্ভর করত পরিবারটির অন্ন সংস্থান। সেই জীবন সংগ্রাম থেকে উঠে এসে আজ জাতীয় পর্যায়ে সেরা হওয়ার গল্পটা রূপকথার মতো মনে হলেও তা বাস্তবে পরিণত করেছেন লিকা।

কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য জেদ থাকলে যে কোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন লিকা। সিনিয়র জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ক্যারিয়ারের প্রথম শিরোপা জয়ের পর মুহূর্তের আনন্দ আর আবেগ ধরে রাখা কঠিন ছিল তার জন্য। শিরোপা হাতে পাওয়ার পর পরই তিনি ভিডিও কলে কথা বলেন মংলায় থাকা মায়ের সঙ্গে। প্রিয় সন্তানের সাফল্যের খবর শুনে মায়ের চোখ ভিজে যায় আনন্দে। মায়ের কণ্ঠে জয়ের অভিনন্দন আর আবেগমাখা কথা শুনে লিকাও কেঁদে ফেলেন। ফোনের এপার-ওপারে দুই প্রজন্মের সেই কান্নার শব্দ যেন বলে দিচ্ছিল কত বড় ত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই অর্জন।

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এমন অনেক প্রতিভাই আছে যারা অভাবের সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে চলেছেন। তবে লিকার এই যাত্রা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। প্রশিক্ষণের সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতা আর পারিবারিক টানাপড়েনকে ছাপিয়ে তিনি যে দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন, তা ভবিষ্যতে অন্য অনেক খেলোয়াড়ের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। খেলার মাঠে তার প্রতিটি স্ম্যাশ আর মুভমেন্টের পেছনে ছিল টিকে থাকার লড়াই। ছোটবেলা থেকে নদীকেন্দ্রিক জীবনে বড় হওয়া লিকা খেলার কৌশল রপ্ত করেছেন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। নিজের শারীরিক সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করে কোর্টে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন তিনি।

মংলার একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে লিকার এই জাতীয় সাফল্য অনেকের মনেই নতুন স্বপ্ন জাগিয়েছে। বিশেষ করে মফস্বলের মেয়েদের জন্য তিনি এক নতুন উদাহরণ। কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা বা বড় পৃষ্ঠপোষক ছাড়াই নিজের মেধা ও একাগ্রতার জোরে তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে আজকের এই জাতীয় সাফল্য পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই তাকে লড়তে হয়েছে নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে। খেলার মাঠে তার ধৈর্য আর মনোবলই ছিল তার মূল চালিকাশক্তি। আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের নাম উজ্জ্বল করবেন লিকা, এমনটাই প্রত্যাশা করছেন দেশের ব্যাডমিন্টনপ্রেমী মানুষ।

লিকার এই অসামান্য সাফল্যের পর এখন প্রশ্ন উঠেছে, তাকে যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও উন্নত প্রশিক্ষণের আওতায় আনা সম্ভব কি না। জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তার সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ। আরও বড় প্রতিযোগিতায় নিজেকে প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজন পেশাদার প্রশিক্ষণ ও সঠিক দিকনির্দেশনা। লিকার এই সাফল্য যেন কেবল একটি পদকেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের নীতিনির্ধারকরা তার প্রতি সদয় হবেন এমনটাই প্রত্যাশা ক্রীড়াপ্রেমীদের। মংলা থেকে শুরু হওয়া লিকার এই জয়যাত্রা দেশ ছাড়িয়ে দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ুক, এটাই এখন সবার চাওয়া।

সর্বশেষ
জাপানি নাটকের বিষয়বস্তু নিয়ে বেইজিংয়ের কড়া আপত্তি ভুল তথ্যের মায়াজাল কাটাতে তরুণ প্রজন্মকে সচেতনতার বার্তা দিলেন ডা. জাহেদ নদীর স্রোত আর অভাবের লড়াই জয় করে জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন লিকা কমনওয়েলথ কাবাডিতে আধিপত্য বিস্তার করে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ রাজধানীর ধলপুরে এসআরবির অভিযানে তরুণের মৃত্যু, স্বাধীন তদন্তের দাবি জানাল এইচআরএসএস তাহসিফ সাউরির মৃত্যু: তদন্তের আগে মন্তব্য করতে নারাজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন, স্বস্তি প্রকাশ ইসির স্ত্রীসহ নওগাঁর সাবেক এমপি ছলিমের ২৭টি ব্যাংক হিসাব জব্দ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে, মন্তব্য থেকে বিরত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বীপের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিখোঁজ সাবেক কর্মকর্তা: সিসিটিভি ফুটেজে রহস্যের জট
Advertisement