খুঁজুন
, ,

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন নিয়ে বিআরটিএ ও পিডিবির মুখোমুখি অবস্থান

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন নিয়ে বিআরটিএ ও পিডিবির মুখোমুখি অবস্থান

চট্টগ্রামে বিআরটিএ কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। দুই সরকারি দপ্তরের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

সরকারি দুই দপ্তরের রেষারেষি এবং ক্ষমতার দাপটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবা প্রত্যাশী সাধারণ মানুষ। চট্টগ্রাম নগরের হাটহাজারী রোডের নতুনপাড়া এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং বিআরটিএ প্রশাসনের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে। দুই দপ্তরের মধ্যে আইন ও নিয়মনীতি নিয়ে যে টানাপোড়েন চলছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দাপ্তরিক কার্যক্রমের ওপর।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বিআরটিএ কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বকেয়া বিদ্যুৎ বিল বা সংযোগ সংক্রান্ত কোনো অসংগতির জেরে এই পদক্ষেপ নেয় বলে জানা গেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরপরই বিআরটিএর নতুনপাড়া কার্যালয়টি দীর্ঘ চার ঘণ্টা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ না থাকায় কার্যালয়ের কম্পিউটার সার্ভার, ডিজিটাল নম্বর প্লেট তৈরির যন্ত্রসহ যাবতীয় ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সেবা নিতে আসা মানুষেরা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পিডিবির পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান গ্রহণের পর বিআরটিএ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই দপ্তরের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব কেবল দাপ্তরিক নয়, বরং ব্যক্তিগত ইগোর লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। পিডিবি কর্তৃপক্ষ আইন প্রয়োগের নামে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে, আবার বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ পাল্টা চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছে। এক পর্যায়ে বিআরটিএর পক্ষ থেকে সরাসরি মন্তব্য করা হয় যে, আপনারা আইন দেখিয়েছেন, আমরাও লাইন কেটেছি। এই বাক্যটিই মূলত দুই দপ্তরের মধ্যকার অসহযোগিতার চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিআরটিএ কার্যালয়ে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য থাকলেও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি বদলে যায়। নতুন লাইসেন্স করা, গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা বা মালিকানা পরিবর্তনের মতো জরুরি কাজগুলো থমকে দাঁড়ায়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবাগ্রহীতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সরকারি দপ্তরের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মাসুল কেন সাধারণ মানুষকে দিতে হবে। দপ্তরে গিয়েও কাজের কোনো সুরাহা না পেয়ে অনেকেই ফিরে যেতে বাধ্য হন।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, তারা কেবল তাদের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী কাজ করেছেন। সরকারি সংযোগ হলেও বিল বকেয়া থাকা বা সংযোগে অনিয়ম থাকলে তারা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য। অন্যদিকে, বিআরটিএ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আগে কোনো ধরনের নোটিশ বা আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়নি, যা শিষ্টাচার বহির্ভূত। এই পরিস্থিতি সমাধানে দুই দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহলের মতে, সরকারি দুটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের এই ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত এবং পেশাদারিত্বের অভাব সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট তৈরি করে। বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রামে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, দুই পক্ষই অতি দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সংকট নিরসন করবে এবং জনসেবা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে। বিআরটিএ ও পিডিবির এই সংকটের পেছনে অন্য কোনো অন্তর্নিহিত কারণ আছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে। সব মিলিয়ে দিনের একটি বড় অংশ জুড়ে দুই সরকারি দপ্তরের ক্ষমতার লড়াইয়ের কবলে পড়ে সেবা নিতে আসা মানুষেরা নাজেহাল হয়েছেন।

রাজধানীর রামপুরায় বাসচাপায় প্রাণ হারালেন বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
রাজধানীর রামপুরায় বাসচাপায় প্রাণ হারালেন বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি

রাজধানীর রামপুরা এলাকায় মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন শহীদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় এলাকায় বেপরোয়া গতিতে চলা দুটি বাসের পাল্লাপাল্লির সময় চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত শহীদুল্লাহ পেশায় ছিলেন একজন বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি। অকাল এই মৃত্যুতে তার পরিবারের সদস্যদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার দিনটি ছিল অনেকের জন্যই স্বাভাবিক এক কর্মব্যস্ত দিন, কিন্তু শহীদুল্লাহর পরিবারের জন্য তা বয়ে নিয়ে এল এক অপূরণীয় ক্ষতি।

পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, শহীদুল্লাহ সম্প্রতি দেশের বাইরে ভ্রমণে গিয়েছিলেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে তিনি দেশে ফেরেন। বিদেশ থেকে ফেরার আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হলো না তার। বাড়ি ফেরার পথে আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় তাকে পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিতে হলো। নিহত শহীদুল্লাহর ছোট ভাই জুয়েল রানা জানান, তার বড় ভাই গত শনিবার চীন ভ্রমণে গিয়েছিলেন। সফরের পর বৃহস্পতিবার যখন তিনি দেশে ফিরলেন, তখন পরিবারের সবাই তাকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু বাড়ি ফেরার আগেই সেই নির্মম দুর্ঘটনা তার প্রাণ কেড়ে নেয়।

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকাগুলোর মধ্যে রামপুরা অন্যতম। প্রায়শই এখানে বাসচালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। এদিনও ঠিক তেমনটিই ঘটেছে। যাত্রীবাহী দুটি বাস একে অপরকে অতিক্রম করার জন্য পাল্লাপাল্লি করছিল। রাস্তার মাঝখানে চলন্ত দুটি বাসের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ স্থানে আটকা পড়ে শহীদুল্লাহ। বাসের চালকরা ট্রাফিক আইন ও গতির তোয়াক্কা না করে যেভাবে প্রতিযোগিতা করছিলেন, তাতে পথচারীদের জীবনের ঝুঁকি ছিল চরম পর্যায়ে। দ্রুতগতির বাস দুটির মাঝখানে চাপা পড়ে শহীদুল্লাহ গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সড়কে প্রতিনিয়ত এমন বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং পাল্লাপাল্লির ঘটনা জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা থাকলেও বাসচালকদের একাংশ তা মানতে নারাজ। যার ফলে শহীদুল্লাহর মতো অনেক কর্মজীবী মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হলেও তারা তাকে বাঁচানোর কোনো সুযোগ পাননি। দুর্ঘটনার পরপরই চালকরা বাস ফেলে পালিয়ে যায় কি না, তা নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

শহীদুল্লাহর মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর তার পরিবারে চলছে মাতম। বিদেশ থেকে ফেরার পর আর কখনো দেখা হবে না প্রিয় মানুষটির সঙ্গে, এটি মেনে নেওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তার সহকর্মীরা জানান, তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং দক্ষ একজন মিস্ত্রি ছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি অনেকের কাছেই পরিচিত মুখ ছিলেন। তার এই অকাল প্রস্থান ব্যক্তিগতভাবে তার পরিবারের জন্য যেমন বিপর্যয়, তেমনি তাদের আর্থিক নিরাপত্তার জন্যও বড় ধাক্কা।

পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। বাসচালকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। রাজধানীর সড়কগুলোকে নিরাপদ করতে এবং চালকদের এমন বেপরোয়া আচরণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। শহীদুল্লাহর মরদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে কি না, তা নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনা আবারো মনে করিয়ে দিল যে, সড়কের শৃঙ্খলা বজায় না থাকলে এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব নয়। নিহতের পরিবার এখন শোকে মুহ্যমান এবং তারা দোষী চালকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।

ইঞ্জিন ছাড়াই পিছু হটল কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস, আতঙ্ক যাত্রীদের মধ্যে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
ইঞ্জিন ছাড়াই পিছু হটল কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস, আতঙ্ক যাত্রীদের মধ্যে

কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটির ইঞ্জিন খুলে নেওয়ার পর বগিগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রায় এক কিলোমিটার পেছনে গড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, যদিও কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

রেলওয়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি সবসময়ই অত্যন্ত সংবেদনশীল। কিন্তু সম্প্রতি এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসের যাত্রীরা। ট্রেনটির ইঞ্জিন আলাদা করে নেওয়ার পরপরই বগিগুলো নিজে থেকেই প্রায় এক কিলোমিটার পথ পেছনে গড়িয়ে চলে যায়। এই অদ্ভুত এবং ভুতুড়ে অভিজ্ঞতার শিকার হয়ে যাত্রীরা চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েন। ঘটনার সময় স্টেশনে উপস্থিত থাকা প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রীদের মধ্যে মুহূর্তের মধ্যে শোরগোল পড়ে যায়। ইঞ্জিনবিহীন বগি এভাবে গড়িয়ে যাওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, ট্রেনটি তার গন্তব্যে পৌঁছানোর পর স্বাভাবিক নিয়মেই ইঞ্জিন আলাদা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। সাধারণত রেলের কারিগরি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ইঞ্জিন বিচ্ছিন্ন করার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়, যার মধ্যে বগিগুলোকে স্থির রাখার জন্য ব্রেক বা চাকার নিচে ‘ওয়েজ’ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে বগিগুলো কীভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গড়িয়ে পেছনের দিকে যেতে শুরু করল, তা নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হঠাৎ করেই বগিগুলো নড়তে শুরু করে এবং প্রায় এক কিলোমিটার পথ পিছিয়ে যায়। এই দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করার সময় কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রেহাই পাওয়া গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ট্রেন দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সাধারণত সিগন্যাল বিভ্রাট বা লাইনচ্যুত হওয়ার কথা শোনা গেলেও ইঞ্জিন ছাড়াই বগি পিছিয়ে যাওয়ার ঘটনা বেশ বিরল। রেলওয়ের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি জনবল বা সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলার ফল, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। বগিগুলো পিছিয়ে যাওয়ার সময় যাত্রীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। অনেকে ভয়ে চিৎকার শুরু করেন এবং ট্রেন থেকে নেমে পড়ার চেষ্টা করেন। তবে ভাগ্যক্রমে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। রেলওয়ে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো গাফিলতি প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে ট্রেনকে বেছে নেন, তাই এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে রেলওয়েকে আরও সতর্ক ও আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। রেলের যান্ত্রিক রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগকেও এখন থেকে আরও বেশি সজাগ থাকতে হবে যাতে ভবিষ্যতে যাত্রীরা এমন পরিস্থিতির মুখে না পড়েন। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করলে প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার হওয়া যাবে। তবে আপাতত এই ঘটনার রেশ ধরে রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় পর্যালোচনার দাবি উঠেছে সর্বস্তরে।

রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান প্রকল্পের এলাকায় পৌঁছাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান প্রকল্পের এলাকায় পৌঁছাল

দেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আমদানিকৃত পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালানটি সফলভাবে প্রকল্পের নির্ধারিত স্থানে এসে পৌঁছেছে। এই ঘটনা রূপপুর প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের কাজকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই জ্বালানি পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন যে, নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, পারমাণবিক জ্বালানির এই বিশেষ চালানটি গত সোমবার ঢাকায় পৌঁছায়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর অত্যন্ত কঠোর ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এটি সড়কপথে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নিয়ে আসা হয়। এরপর মঙ্গলবার চালানটি আনুষ্ঠানিকভাবে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় খালাস করা হয়। দেশের কোনো পারমাণবিক প্রকল্পে তেজস্ক্রিয় জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়, যা এই চালানের ক্ষেত্রেও একইভাবে বজায় রাখা হয়েছিল। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটমের সহযোগিতায় এই জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে, যারা শুরু থেকেই প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে আসছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পটি মূলত দুটি ইউনিটের সমন্বয়ে গঠিত। প্রতিটি ইউনিটের সক্ষমতা প্রায় ১২০০ মেগাওয়াট। দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার একটি বড় অংশ মেটাতে সক্ষম এই প্রকল্পটি বর্তমানে নির্মাণের চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি লোড করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সেটি এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুতির শেষ ধাপে রয়েছে। এখন দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য জ্বালানি আসায় প্রকল্পের সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হলো। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই চালানটি আসার মানে হলো দ্বিতীয় ইউনিটের রিঅ্যাক্টর বা পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি ভরার প্রাথমিক ধাপটি সম্পন্ন হওয়ার পথ সুগম হলো।

প্রসঙ্গত, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থাপনা। এখানে ব্যবহৃত জ্বালানি পরিবহনের জন্য আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএর নিয়মাবলী কঠোরভাবে মেনে চলতে হয়। রূপপুর প্রকল্পের জন্য এই জ্বালানি রাশিয়া থেকে আসার পথে আকাশ ও সড়কপথে যে সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখা হয়, তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত। সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, পারমাণবিক সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ এবং প্রকল্পের নিজস্ব নিরাপত্তা দল সমন্বিতভাবে এই কাজটি সম্পন্ন করেছে। প্রকল্পটি যখন পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে যাবে, তখন এটি জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের বিদ্যুতের জোগান দেবে এবং দেশের লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করছে সরকার।

বর্তমানে প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নীতিনির্ধারকরা। প্রথম ইউনিটের কার্যক্রম শুরুর পাশাপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের এই অগ্রগতি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনে সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী দিনে এই জ্বালানি চুল্লিতে স্থাপনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হবে। সাধারণ মানুষ এবং দেশের শিল্প খাত এই প্রকল্প থেকে সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়ার আশায় রয়েছে। এই চালানটির নিরাপদ পৌঁছানো দেশি-বিদেশি সকল অংশীজনের মধ্যে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে যে, রূপপুর প্রকল্প তার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার দিকে নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে চলছে।

সর্বশেষ
রাজধানীর রামপুরায় বাসচাপায় প্রাণ হারালেন বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি ইঞ্জিন ছাড়াই পিছু হটল কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস, আতঙ্ক যাত্রীদের মধ্যে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান প্রকল্পের এলাকায় পৌঁছাল দীর্ঘ এক বছর পর শারীরিক গঠন নিয়ে করা মন্তব্যের জবাব দিলেন তামান্না ভাটিয়া উপনির্বাচনের ফলাফলে ধর্মীয় রাজনীতির জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন নিয়ে বিআরটিএ ও পিডিবির মুখোমুখি অবস্থান তুরাগ নদে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ: হত্যা নাকি দুর্ঘটনা, প্রশ্নের মুখে তদন্ত ফেসবুক আইডি ফিরে পেয়ে ফারুকী বললেন, ‘সিনিয়র ফেসবুকার ইজ ব্যাক’ ঠাকুরগাঁওয়ে জামায়াতের ‘জান্নাতের টিকিট’ আর কাজে দেবে না: রাশেদ খাঁন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী বিএনপির মির্জা ফয়সল আমিন
Advertisement