বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন নিয়ে বিআরটিএ ও পিডিবির মুখোমুখি অবস্থান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ । ১:১৪ পূর্বাহ্ণ

সরকারি দুই দপ্তরের রেষারেষি এবং ক্ষমতার দাপটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবা প্রত্যাশী সাধারণ মানুষ। চট্টগ্রাম নগরের হাটহাজারী রোডের নতুনপাড়া এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং বিআরটিএ প্রশাসনের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে। দুই দপ্তরের মধ্যে আইন ও নিয়মনীতি নিয়ে যে টানাপোড়েন চলছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দাপ্তরিক কার্যক্রমের ওপর।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বিআরটিএ কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বকেয়া বিদ্যুৎ বিল বা সংযোগ সংক্রান্ত কোনো অসংগতির জেরে এই পদক্ষেপ নেয় বলে জানা গেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরপরই বিআরটিএর নতুনপাড়া কার্যালয়টি দীর্ঘ চার ঘণ্টা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ না থাকায় কার্যালয়ের কম্পিউটার সার্ভার, ডিজিটাল নম্বর প্লেট তৈরির যন্ত্রসহ যাবতীয় ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সেবা নিতে আসা মানুষেরা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পিডিবির পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান গ্রহণের পর বিআরটিএ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই দপ্তরের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব কেবল দাপ্তরিক নয়, বরং ব্যক্তিগত ইগোর লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। পিডিবি কর্তৃপক্ষ আইন প্রয়োগের নামে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে, আবার বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ পাল্টা চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছে। এক পর্যায়ে বিআরটিএর পক্ষ থেকে সরাসরি মন্তব্য করা হয় যে, আপনারা আইন দেখিয়েছেন, আমরাও লাইন কেটেছি। এই বাক্যটিই মূলত দুই দপ্তরের মধ্যকার অসহযোগিতার চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিআরটিএ কার্যালয়ে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য থাকলেও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি বদলে যায়। নতুন লাইসেন্স করা, গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা বা মালিকানা পরিবর্তনের মতো জরুরি কাজগুলো থমকে দাঁড়ায়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবাগ্রহীতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সরকারি দপ্তরের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মাসুল কেন সাধারণ মানুষকে দিতে হবে। দপ্তরে গিয়েও কাজের কোনো সুরাহা না পেয়ে অনেকেই ফিরে যেতে বাধ্য হন।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, তারা কেবল তাদের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী কাজ করেছেন। সরকারি সংযোগ হলেও বিল বকেয়া থাকা বা সংযোগে অনিয়ম থাকলে তারা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য। অন্যদিকে, বিআরটিএ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আগে কোনো ধরনের নোটিশ বা আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়নি, যা শিষ্টাচার বহির্ভূত। এই পরিস্থিতি সমাধানে দুই দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহলের মতে, সরকারি দুটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের এই ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত এবং পেশাদারিত্বের অভাব সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট তৈরি করে। বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রামে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, দুই পক্ষই অতি দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সংকট নিরসন করবে এবং জনসেবা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে। বিআরটিএ ও পিডিবির এই সংকটের পেছনে অন্য কোনো অন্তর্নিহিত কারণ আছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে। সব মিলিয়ে দিনের একটি বড় অংশ জুড়ে দুই সরকারি দপ্তরের ক্ষমতার লড়াইয়ের কবলে পড়ে সেবা নিতে আসা মানুষেরা নাজেহাল হয়েছেন।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন