খুঁজুন
, ,

ঢাকায় নতুন দুই মেট্রোরেল প্রকল্পের স্টেশন ও রেলপথ নির্মাণের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৪ পূর্বাহ্ণ
ঢাকায় নতুন দুই মেট্রোরেল প্রকল্পের স্টেশন ও রেলপথ নির্মাণের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

রাজধানী ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে এবং নগরবাসীকে আধুনিক গণপরিবহন সুবিধা দিতে নতুন দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পের নির্মাণ কার্যক্রম আরও এক ধাপ এগিয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন দুই মেট্রোরেল প্রকল্পের স্টেশন ও রেলপথ নির্মাণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পের অধীনে এই অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে।

ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের সূত্রে জানা গেছে, এই দুটি মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়ন রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকার এই বিশাল কর্মযজ্ঞে এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা এবং এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮৯ হাজার কোটি টাকা। ঠিকাদার নিয়োগের এই প্রক্রিয়াটি চারটি পৃথক প্যাকেজের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে, যা প্রকল্পের গতি ত্বরান্বিত করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এমআরটি লাইন-১ বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। এই রুটের দৈর্ঘ্য হবে ৩১ কিলোমিটার এবং এতে মোট ২১টি স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত সংযুক্ত হবে। এই পথের দৈর্ঘ্য হবে ২০ কিলোমিটার এবং যাত্রীসেবার জন্য মোট ১৪টি স্টেশন থাকবে। নতুন চুক্তির আওতায় চারটি প্যাকেজে প্রায় ১১ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ ও ৮টি উড়াল স্টেশন নির্মাণের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া হেমায়েতপুর ও পূর্বাচলে মেট্রোরেল ডিপোর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজও এই চুক্তির অংশ।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য কবির আহমদ এবং ডিএমটিসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জাপান দূতাবাস ও জাইকার প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এমআরটি লাইন-১ এর ডিপো নির্মাণের জন্য স্ট্যাবলিং শেড, ওয়ার্কশপ এবং অপারেশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টারসহ মোট ৪৯টি স্থাপনা গড়ে তোলা হবে, যা মেট্রোরেল পরিচালনার জন্য অপরিহার্য।

কর্তৃপক্ষ আশা করছে, ২০৩৩ সালের মধ্যে এই দুই প্রকল্পের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার যানজট নিরসনে এবং যাতায়াত ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসবে। নিয়মিত বিরতিতে জাইকার আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় বাংলাদেশের মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক যেভাবে বিস্তৃত হচ্ছে, তা দেশের অর্থনীতি ও নাগরিক জীবনের মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঠিকাদার নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পগুলোর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বাস্তবায়নের পথে বড় একটি বাধা অপসারিত হলো।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করতে সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই দুই মেট্রোরেল চালু হলে বিমানবন্দর এলাকা থেকে শুরু করে কমলাপুর ও রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের সাথে যাতায়াত কয়েকগুণ সহজ ও আরামদায়ক হবে। বিশেষ করে হেমায়েতপুর ও পূর্বাচল এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘমেয়াদে আধুনিক গণপরিবহনের সুফল ভোগ করতে পারবেন।

স্ত্রীসহ নওগাঁর সাবেক এমপি ছলিমের ২৭টি ব্যাংক হিসাব জব্দ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
স্ত্রীসহ নওগাঁর সাবেক এমপি ছলিমের ২৭টি ব্যাংক হিসাব জব্দ

নওগাঁ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. ছলিম উদ্দিন তরফদার এবং তার স্ত্রী শামীমা আক্তার শিরিনের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আদালত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাবেক এই সংসদ সদস্য ও তার স্ত্রীর মোট ২৭টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার জন্য আবেদন করেছিলেন দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দুদকের সহকারী পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এই আবেদনের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন। শুনানি শেষে বিচারক মো. শাহজাহান কবির তাদের নামে থাকা সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দেন।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, অভিযুক্ত দম্পতির ব্যাংক হিসাবে মোট ৫৫ লাখ ৯২ হাজার ২২০ টাকা জমা রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এবং তা অবৈধভাবে অর্জিত হতে পারে—এমন সন্দেহে দুদকের পক্ষ থেকে এসব হিসাব জব্দ করার আবেদন করা হয়েছিল। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করায় এখন থেকে এসব ব্যাংক হিসাবে লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাবেক এমপি ছলিম উদ্দিন তরফদার ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংস্থাটি তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার এই পদক্ষেপ মূলত তদন্তের অংশ। যাতে অভিযুক্তরা এই অর্থ সরিয়ে নিতে না পারেন বা কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর ও বদলগাছী এলাকা নিয়ে গঠিত নির্বাচনী আসন থেকে সংসদ সদস্য থাকাকালীন ছলিম উদ্দিন তরফদার বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন। কমিশনের অনুসন্ধানী দল এখন পর্যন্ত তার ও তার স্ত্রীর নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পেয়েছে, যার সঠিক উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা।

আদালতের এই আদেশের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেওয়া হবে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের হিসাবের লেনদেন স্থগিত করবে এবং দুদকের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সেখান থেকে কোনো অর্থ উত্তোলন বা স্থানান্তর করা সম্ভব হবে না। দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে আরও সম্পদ বা ব্যাংক হিসাবের তথ্যের ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে। দুর্নীতিবিরোধী এই অভিযানের ধারাবাহিকতায় সাবেক এই জনপ্রতিনিধির সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করার বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দুদকের আইনি শাখা থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে খুব দ্রুতই এ বিষয়ে আইনানুগ পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কোনো প্রভাবশালীর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে কেউ যাতে পার না পায়, সেজন্য সংস্থাটি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর আগেও বেশ কয়েকজন সাবেক জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ব্যক্তির দুর্নীতির অনুসন্ধানে ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নজির রয়েছে, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ার একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে, মন্তব্য থেকে বিরত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে, মন্তব্য থেকে বিরত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশে সতর্কতা অবলম্বন করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো দেশে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। তার মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানামুখী প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং গুরুত্ব বিবেচনায় বিষয়টি নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। বুধবার সকালের দিকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এই স্পর্শকাতর ঘটনায় এখনই কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া সমীচীন হবে না।

ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনাটি দেশের নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলার নিরিখে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের ঘটনায় তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আগ বাড়িয়ে কোনো মন্তব্য করা তদন্ত প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত বিষয়টি নিয়ে সরকারের বাড়তি সতর্কতার বার্তাই ফুটে উঠেছে। তবে তদন্তের কাজ কতটা এগিয়েছে বা কি ধরনের সূত্র পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো ইঙ্গিত দেননি।

প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, কে এম তাহসিফ সাউরি বিমানবাহিনীর একজন সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন। তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে এই মৃত্যু ঘিরে নানা ধরনের গুঞ্জন ও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই সুনির্দিষ্ট কারণ বা ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে যে, ময়না তদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেনসিক প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, সরকার বিষয়টিকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় এবং অত্যন্ত সাবধানতার সাথে পরিচালনা করতে চায়। তিনি জানিয়েছেন, তদন্তকারী দল বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং সব ধরনের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য যা যা প্রয়োজন, তার সবই করা হচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। তদন্তের স্বার্থে এখনই সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনো ধরনের অনুমাননির্ভর তথ্য প্রদান করা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয় বলে মনে করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিকে, তাহসিফের পরিবারের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা বিবৃতি গণমাধ্যমের সামনে আসেনি। তারাও ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট এই ঘটনার সাথে কোনো অশুভ শক্তির সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। তদন্তের গতিপ্রকৃতি এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাক্তন কর্মকর্তাদের সাথে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা জনমনে উদ্বেগ তৈরি করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন কোনো প্রকার গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান দেওয়া না হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত তদন্তের চুড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সরকারি নির্ভরযোগ্য তথ্যের অপেক্ষায় থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। তবে এই ঘটনার রহস্য উন্মোচন যে প্রশাসনের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে বোঝা যায়, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের এই অকাল মৃত্যু কেবল একটি একক ঘটনা হিসেবে নয়, বরং নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই নীরবতা মূলত তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টাকে রুখতে এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত শেষে কী তথ্য বেরিয়ে আসে এবং রহস্যের জট কত দ্রুত খোলে।

দ্বীপের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিখোঁজ সাবেক কর্মকর্তা: সিসিটিভি ফুটেজে রহস্যের জট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
দ্বীপের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিখোঁজ সাবেক কর্মকর্তা: সিসিটিভি ফুটেজে রহস্যের জট

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মায়ের কাছে শেষ কথা বলে বেরিয়ে যাওয়ার পর আর ফেরেননি তিনি। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে দ্বীপ নামের একজনের সঙ্গে বাসার নিচে দেখা গেছে, যা এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে।

রাজধানীর একটি এলাকা থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি এখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে খুঁজে পাওয়ার জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। সবশেষ পাওয়া তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজের খণ্ডাংশ বিশ্লেষণ করে ঘটনার একটি সম্ভাব্য চিত্র উঠে আসছে, যা রহস্যের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যেদিন তাহসিফ তার বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। পরিবারের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন তিনি অত্যন্ত স্বাভাবিক ছিলেন। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তিনি তার মাকে স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে, দ্বীপ নামের একজনের সঙ্গে তার দেখা করার কথা রয়েছে। ওই ব্যক্তিটি বাসার নিচে অপেক্ষা করছিলেন, তাই তিনি দ্রুত তার সঙ্গে কথা বলে ফিরে আসবেন। মায়ের কাছে করা এই শেষ কথাটিই এখন পরিবারের সদস্যদের কাছে সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতির একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাহসিফের সেই বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি তার সঙ্গে।

নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি ও অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করে তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার নির্ধারিত সময়ে তাহসিফ বাসার নিচতলায় নেমে আসেন। সেখানে দ্বীপ নামের একজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। যদিও ফুটেজের মান এবং দূরত্বের কারণে দ্বীপের চেহারার সব বৈশিষ্ট্য পরিষ্কার নয়, তবুও তার উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ বাসা থেকে বের হওয়ার পর ওই ব্যক্তির সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলছেন। তাদের অঙ্গভঙ্গি খুব একটা উত্তপ্ত বা বিবাদমান মনে হয়নি। বরং স্বাভাবিক আলাপচারিতার মতোই তাদের কথাবার্তা চলছিল। কিছু সময় কথোপকথনের পর তারা দুজনে একসঙ্গে হেঁটে একটি নির্দিষ্ট দিকে চলে যান। এরপর থেকে তাদের আর কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। এই দৃশ্যটি এখন গোয়েন্দা ও তদন্তকারীদের জন্য প্রধান ক্লু হিসেবে কাজ করছে। তদন্তকারী সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দ্বীপ নামের ওই ব্যক্তি কে বা তার সঙ্গে তাহসিফের পূর্বপরিচয় কেমন ছিল, তা উদঘাটন করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।

তাহসিফের স্বজনরা জানান, ব্যক্তিগত বা কর্মজীবনের কোনো সংকট বা অস্থিরতা নিয়ে তিনি কখনোই কিছু বলেননি। একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে তিনি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করতেন। হঠাৎ তার এভাবে নিরুদ্দেশ হওয়াটা পরিবারের কাছে কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে তারা প্রতিটি সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখছে। দ্বীপ নামের ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করার জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়েও খোঁজ চালানো হচ্ছে। মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং সর্বশেষ লোকেশন ট্র্যাক করার প্রক্রিয়া চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, বরং এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বাসার নিচে অপরিচিত মানুষের উপস্থিতি এবং এরপর এভাবে কারো নিখোঁজ হয়ে যাওয়া নিরাপত্তাহীনতার নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত যেন দ্বীপ নামের ওই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা হয় এবং তাহসিফের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।

তদন্তকারী দল এখন সিসিটিভি ফুটেজ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দ্বীপ নামের ওই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে। যদি তাহসিফ স্বেচ্ছায় গিয়ে থাকেন, তবে তিনি কোথায় আছেন কিংবা কোনো ঘটনার শিকার হয়েছেন কি না, তা বের করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। ঘটনাটি যেহেতু স্পর্শকাতর, তাই পুলিশ এ বিষয়ে খুব ভেবেচিন্তে এগোচ্ছে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা হওয়ার কারণে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা এখন কেবল একটাই প্রার্থনা করছেন, তাহসিফ যেন সুস্থভাবে দ্রুত তাদের কাছে ফিরে আসেন। এই রহস্যময় নিখোঁজের ঘটনাটির সুরাহা কবে নাগাদ হবে, তা এখন দেখার বিষয়।

সর্বশেষ
স্ত্রীসহ নওগাঁর সাবেক এমপি ছলিমের ২৭টি ব্যাংক হিসাব জব্দ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে, মন্তব্য থেকে বিরত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বীপের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিখোঁজ সাবেক কর্মকর্তা: সিসিটিভি ফুটেজে রহস্যের জট কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যায় হানিফের মৃত্যুদণ্ড, হতাশ রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশিত হলো নির্যাতনের দলিলে সমৃদ্ধ বই নির্যাতনের দাগ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যু: সুরতহাল প্রতিবেদনে যা উঠে এল মালাইকার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর নতুন প্রেমের গুঞ্জনে অর্জুন কাপুর অস্ট্রেলিয়ার ভিসা প্রক্রিয়ায় নতুন বায়োমেট্রিক বাধ্যবাধকতা লক্ষ্মীপুর ও বানিয়াচংয়ে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য এল পারমাণবিক জ্বালানি
Advertisement