রাজধানীর একটি এলাকা থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি এখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে খুঁজে পাওয়ার জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। সবশেষ পাওয়া তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজের খণ্ডাংশ বিশ্লেষণ করে ঘটনার একটি সম্ভাব্য চিত্র উঠে আসছে, যা রহস্যের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যেদিন তাহসিফ তার বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। পরিবারের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন তিনি অত্যন্ত স্বাভাবিক ছিলেন। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তিনি তার মাকে স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে, দ্বীপ নামের একজনের সঙ্গে তার দেখা করার কথা রয়েছে। ওই ব্যক্তিটি বাসার নিচে অপেক্ষা করছিলেন, তাই তিনি দ্রুত তার সঙ্গে কথা বলে ফিরে আসবেন। মায়ের কাছে করা এই শেষ কথাটিই এখন পরিবারের সদস্যদের কাছে সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতির একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাহসিফের সেই বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি তার সঙ্গে।
নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি ও অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করে তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার নির্ধারিত সময়ে তাহসিফ বাসার নিচতলায় নেমে আসেন। সেখানে দ্বীপ নামের একজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। যদিও ফুটেজের মান এবং দূরত্বের কারণে দ্বীপের চেহারার সব বৈশিষ্ট্য পরিষ্কার নয়, তবুও তার উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ বাসা থেকে বের হওয়ার পর ওই ব্যক্তির সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলছেন। তাদের অঙ্গভঙ্গি খুব একটা উত্তপ্ত বা বিবাদমান মনে হয়নি। বরং স্বাভাবিক আলাপচারিতার মতোই তাদের কথাবার্তা চলছিল। কিছু সময় কথোপকথনের পর তারা দুজনে একসঙ্গে হেঁটে একটি নির্দিষ্ট দিকে চলে যান। এরপর থেকে তাদের আর কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। এই দৃশ্যটি এখন গোয়েন্দা ও তদন্তকারীদের জন্য প্রধান ক্লু হিসেবে কাজ করছে। তদন্তকারী সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দ্বীপ নামের ওই ব্যক্তি কে বা তার সঙ্গে তাহসিফের পূর্বপরিচয় কেমন ছিল, তা উদঘাটন করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।
তাহসিফের স্বজনরা জানান, ব্যক্তিগত বা কর্মজীবনের কোনো সংকট বা অস্থিরতা নিয়ে তিনি কখনোই কিছু বলেননি। একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে তিনি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করতেন। হঠাৎ তার এভাবে নিরুদ্দেশ হওয়াটা পরিবারের কাছে কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে তারা প্রতিটি সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখছে। দ্বীপ নামের ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করার জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়েও খোঁজ চালানো হচ্ছে। মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং সর্বশেষ লোকেশন ট্র্যাক করার প্রক্রিয়া চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, বরং এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বাসার নিচে অপরিচিত মানুষের উপস্থিতি এবং এরপর এভাবে কারো নিখোঁজ হয়ে যাওয়া নিরাপত্তাহীনতার নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত যেন দ্বীপ নামের ওই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা হয় এবং তাহসিফের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।
তদন্তকারী দল এখন সিসিটিভি ফুটেজ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দ্বীপ নামের ওই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে। যদি তাহসিফ স্বেচ্ছায় গিয়ে থাকেন, তবে তিনি কোথায় আছেন কিংবা কোনো ঘটনার শিকার হয়েছেন কি না, তা বের করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। ঘটনাটি যেহেতু স্পর্শকাতর, তাই পুলিশ এ বিষয়ে খুব ভেবেচিন্তে এগোচ্ছে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা হওয়ার কারণে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা এখন কেবল একটাই প্রার্থনা করছেন, তাহসিফ যেন সুস্থভাবে দ্রুত তাদের কাছে ফিরে আসেন। এই রহস্যময় নিখোঁজের ঘটনাটির সুরাহা কবে নাগাদ হবে, তা এখন দেখার বিষয়।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ । ৪:১৪ অপরাহ্ণ