স্ত্রীসহ নওগাঁর সাবেক এমপি ছলিমের ২৭টি ব্যাংক হিসাব জব্দ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ । ৪:১৪ অপরাহ্ণ

নওগাঁ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. ছলিম উদ্দিন তরফদার এবং তার স্ত্রী শামীমা আক্তার শিরিনের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আদালত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাবেক এই সংসদ সদস্য ও তার স্ত্রীর মোট ২৭টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার জন্য আবেদন করেছিলেন দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দুদকের সহকারী পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এই আবেদনের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন। শুনানি শেষে বিচারক মো. শাহজাহান কবির তাদের নামে থাকা সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দেন।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, অভিযুক্ত দম্পতির ব্যাংক হিসাবে মোট ৫৫ লাখ ৯২ হাজার ২২০ টাকা জমা রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এবং তা অবৈধভাবে অর্জিত হতে পারে—এমন সন্দেহে দুদকের পক্ষ থেকে এসব হিসাব জব্দ করার আবেদন করা হয়েছিল। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করায় এখন থেকে এসব ব্যাংক হিসাবে লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাবেক এমপি ছলিম উদ্দিন তরফদার ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংস্থাটি তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার এই পদক্ষেপ মূলত তদন্তের অংশ। যাতে অভিযুক্তরা এই অর্থ সরিয়ে নিতে না পারেন বা কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর ও বদলগাছী এলাকা নিয়ে গঠিত নির্বাচনী আসন থেকে সংসদ সদস্য থাকাকালীন ছলিম উদ্দিন তরফদার বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন। কমিশনের অনুসন্ধানী দল এখন পর্যন্ত তার ও তার স্ত্রীর নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পেয়েছে, যার সঠিক উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা।

আদালতের এই আদেশের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেওয়া হবে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের হিসাবের লেনদেন স্থগিত করবে এবং দুদকের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সেখান থেকে কোনো অর্থ উত্তোলন বা স্থানান্তর করা সম্ভব হবে না। দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে আরও সম্পদ বা ব্যাংক হিসাবের তথ্যের ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে। দুর্নীতিবিরোধী এই অভিযানের ধারাবাহিকতায় সাবেক এই জনপ্রতিনিধির সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করার বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দুদকের আইনি শাখা থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে খুব দ্রুতই এ বিষয়ে আইনানুগ পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কোনো প্রভাবশালীর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে কেউ যাতে পার না পায়, সেজন্য সংস্থাটি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর আগেও বেশ কয়েকজন সাবেক জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ব্যক্তির দুর্নীতির অনুসন্ধানে ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নজির রয়েছে, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ার একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন