মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার অভিযোগ, জাবিতে সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ
বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধা প্রদানের অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ করে নিজেদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে যে ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। এ ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সোমবার রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের বটতলায় সমবেত হন। তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এলাকা প্রদক্ষিণ করেন এবং পরবর্তীতে সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা কুশপুত্তলিকায় নানা আপত্তিকর স্লোগান লেখা ছিল। বিশেষ করে কুশপুত্তলিকায় ‘পাকিস্তানের দালাল’ এবং ‘যুদ্ধাপরাধী দেইল্যা রাজাকার’ জাতীয় সম্বোধন লিখে প্রতিবাদ প্রদর্শন করা হয়। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করা একজন মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা দাবি করেন, যারা এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। সমাবেশ থেকে বক্তারা জানান, মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের অপতৎপরতা রুখে দিতে তারা বদ্ধপরিকর। এছাড়া যারা দাফন প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা।
এদিকে ক্যাম্পাসে হঠাৎ করে এমন বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং কুশপুত্তলিকা দাহ করার ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই মুক্তিযোদ্ধাকে অসম্মান করার এই প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষায় তরুণ প্রজন্মের এই জাগরণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট এলাকায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানহানি বা তাদের শেষকৃত্যে নানা ধরনের বাধার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মূলত সেই সকল ঘটনারই একটি সামগ্রিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া না গেলেও পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এবং আগামীতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের মতে, স্বাধীন বাংলাদেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শেষ শয্যায় যাওয়ার আগে যদি এমন বাধার সম্মুখীন হতে হয়, তবে তা সমগ্র জাতির জন্যই লজ্জাজনক।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]