পশ্চিমবঙ্গে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় পুলিশের গুলিতে নিহত অভিযুক্ত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ । ৭:১৪ অপরাহ্ণ

পশ্চিমবঙ্গে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থায় নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে নিয়ে যখন পুলিশ বিশেষ একটি এলাকায় যাচ্ছিল, তখনই এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়।

প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, ঘটনার পুনর্নির্মাণ বা রিক্রিয়েশন প্রক্রিয়ার সময় অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস অত্যন্ত ধূর্ততার পরিচয় দেন। পুলিশের হেফাজত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য তিনি পুলিশের এক সদস্যের কাছ থেকে তার ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে যে, অস্ত্রটি হাতবদলের পর্যায়ে তিনি সেটি দিয়ে পুলিশের ওপর গুলি চালানোর দুঃসাহস দেখান। এই আকস্মিক হামলায় পুলিশের এক সদস্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। পুলিশের এই পাল্টা গুলিতেই অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরপরই এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার মতো বর্বরোচিত ঘটনার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছিল। স্থানীয়দের অনেকেই এই ঘটনায় অভিযুক্তের বিচার দাবি করে আসছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থেই অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া চলাকালীন অভিযুক্ত যেভাবে পুলিশের ওপর চড়াও হয়েছেন, তা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর এক বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছিল। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এখন এই পুরো ঘটনার একটি বিশদ তদন্ত শুরু করেছে, যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হয়।

নিহত অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল, যা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। একজন স্কুলছাত্রীর জীবনের বিনিময়ে যে জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল, তার বিচার প্রক্রিয়া আইনি পথেই এগোচ্ছিল। তবে পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন আসামির মৃত্যুর ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। অভিযুক্ত কীভাবে পুলিশের অস্ত্র পর্যন্ত হাত দিতে পারলেন, তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরা তদন্তের দাবি তুলেছেন। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, আত্মরক্ষার্থে তাদের এই গুলি চালাতে হয়েছে এবং ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত সদস্যদের জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে পুরো এলাকাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। অভিযুক্তের মৃত্যুর ফলে ধর্ষণ ও হত্যার মূল মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে নানা মত রয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসামি মৃত হওয়ায় এই মামলার ফৌজদারি দায়বদ্ধতা অবসানের পথে, তবে পুরো ঘটনার পেছনের সত্য উন্মোচনে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা পুলিশ সম্পন্ন করবে। মৃতদেহের ময়নাতদন্তসহ যাবতীয় ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে ওই স্কুলছাত্রীর পরিবারের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে। পুলিশের গুলিতে আসামির মৃত্যুতে এলাকা জুড়ে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বিশদ আলোচনার কথা জানিয়েছেন। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি নিয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকছে পুলিশ প্রশাসন।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন