খুঁজুন
, ,

শেরেবাংলা ও কবি জসীমউদ্‌দীন: এক ঐতিহাসিক সম্পর্কের আখ্যান

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
শেরেবাংলা ও কবি জসীমউদ্‌দীন: এক ঐতিহাসিক সম্পর্কের আখ্যান

পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীনের সাহিত্য ও কর্মজীবন নানা ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী। তাঁর জীবনদর্শনের আলোচনায় শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দুই দিকপালের পরিচয়পর্বটি কেবল একটি সাধারণ সাক্ষাৎ ছিল না, বরং তা তৎকালীন বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের এক বিশেষ সন্ধিক্ষণকে নির্দেশ করে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, এই পরিচয়পর্বটি ঘটেছিল ১৯২৯ অথবা ১৯৩০ সালের দিকে। সেই সময় কবি জসীমউদ্‌দীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলছিলেন। অন্যদিকে, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক তখন রাজনৈতিকভাবে কিছুটা প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন। তিনি কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের রাজনীতির বাইরে এসে বাংলার কৃষক ও সাধারণ প্রজা সমাজকে একত্রিত করার এক নতুন ও কঠিন ব্রত গ্রহণ করেছিলেন।

এই দুই কালজয়ী ব্যক্তিত্বের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির নেপথ্যে ছিলেন সৈয়দ আবদুর রব নামের একজন নিভৃতচারী কিন্তু অসাধারণ উদ্যমী মানুষ। শেরেবাংলার স্মৃতিচারণামূলক লেখায় জসীমউদ্‌দীন অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে আবদুর রবের কথা উল্লেখ করেছেন। ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে যেতে বসা এই মানুষটির অবদান ছিল বহুমুখী। কাকতালীয়ভাবে, কবি জসীমউদ্‌দীন এবং সৈয়দ আবদুর রবের জন্ম সাল একই, অর্থাৎ ১৯০৩ সাল। ভৌগোলিকভাবেও তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা ছিল, কারণ উভয়েরই জন্মভূমি ছিল ফরিদপুর জেলায়। জসীমউদ্‌দীনের পৈতৃক নিবাস ছিল তাম্বূলখানা গ্রামে এবং সৈয়দ আবদুর রবের বাড়ি ছিল গেরদা এলাকায়।

সৈয়দ আবদুর রব প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন দীর্ঘস্থায়ী করতে না পারলেও সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতেন প্রবলভাবে। সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটাতে তিনি ১৯২৮ সালে ফরিদপুর শহরে গড়ে তোলেন খাদেমুল এনছান সমিতি। এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন তৎকালীন স্থানীয় জমিদার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী এবং সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন স্বয়ং সৈয়দ আবদুর রব। এই সমিতিটি ছিল সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে এক ব্যতিক্রমী সামাজিক উদ্যোগ। সমাজসেবা, শিক্ষার বিস্তার, ধর্মীয় কুসংস্কার দূরীকরণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যকার শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করত এই সংস্থাটি। তৎকালীন সমাজকাঠামোর যে জটিল সমস্যাগুলো ছিল, তার সমাধানে সমিতির ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।

ফরিদপুরকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও সৈয়দ আবদুর রবের কর্মযজ্ঞ দ্রুত বিস্তৃত হতে থাকে। ১৯৩২ সালে তিনি এই সমিতির প্রধান কার্যালয় কলকাতায় স্থানান্তরিত করেন এবং এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় কেন্দ্রীয় খাদেমুল এনছান সমিতি। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি সমাজ ও মানুষের সেবায় দুটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন, যাদের নাম ছিল মুয়াজ্জিন এবং সার্ভেন্ট অব হিউম্যানিটি। লক্ষণীয় বিষয় হলো, ফরিদপুরে থাকাকালীনই তিনি এই পত্রিকাগুলো প্রকাশনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। অত্যন্ত সৃজনশীল ও মননশীল ধারার এই পত্রিকাগুলোতে কবি জসীমউদ্‌দীন তো লিখতেনই, পাশাপাশি সেকালের প্রখ্যাত লেখক ও মণীষীদের লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হতো। কাজী নজরুল ইসলাম এবং বেগম রোকেয়ার মতো ব্যক্তিত্বদের লেখা এই পত্রিকায় স্থান পাওয়া তৎকালীন সময়ে এক অনন্য ঘটনা ছিল। একটি আঞ্চলিক সমিতির উদ্যোগে এমন মানসম্পন্ন প্রকাশনা কেবল সাহসের পরিচয়ই ছিল না, বরং এটি সমাজের আলোকবর্তিকা হিসেবেও কাজ করেছিল। মূলত সৈয়দ আবদুর রবের মতো মানুষেরাই পর্দার আড়ালে থেকে বাংলার বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক বিকাশে যে নিরলস অবদান রেখে গেছেন, তা আজ নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অস্থিরতার ছাপ: ব্রাজিল ও সার্বিয়ার নির্বাচনে বড় পরিবর্তন, ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
   
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অস্থিরতার ছাপ: ব্রাজিল ও সার্বিয়ার নির্বাচনে বড় পরিবর্তন, ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য

বিশ্বরাজনীতির আঙিনায় গত কয়েক দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল ছিল। একদিকে ল্যাটিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলের নির্বাচন, অন্যদিকে বলকান অঞ্চলের দেশ সার্বিয়ার রাজনৈতিক দৃশ্যপট—সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে যেন পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। এই পরিবর্তনের ঢেউয়ের মাঝেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কিছু মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নাটকীয় বিজয় পেয়েছেন লুলা দা সিলভা। দেশটিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী জাইর বলসোনারোকে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত করেছেন তিনি। এই জয়কে কেবল ব্যক্তিগত বিজয় হিসেবে দেখছেন না লুলা, বরং তিনি একে ব্রাজিলের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের সুরক্ষা হিসেবে অভিহিত করেছেন। নিজের বিজয় ভাষণে লুলা দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লুলার এই প্রত্যাবর্তন ব্রাজিলের পররাষ্ট্রনীতি এবং পরিবেশগত সুরক্ষা ইস্যুতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে ইউরোপের বলকান অঞ্চলের রাষ্ট্র সার্বিয়াতেও নির্বাচনের ফলাফলের আগেই বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন দেশটির দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী শাসক ভুচিস। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশের আগেই তিনি পরাজয় মেনে নিয়েছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষের মুখে এটি একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। সার্বিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনা সাধারণ মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলনের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই পরিবর্তনের আমেজ চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সৃষ্টি হয়েছে নতুন বিতর্ক। নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। জানা গেছে, নোবেল কমিটি তাকে শান্তি পুরস্কারের জন্য বিবেচনা না করায় ট্রাম্প রীতিমতো ক্ষুব্ধ। এই ক্ষোভ থেকে তিনি নরওয়েকে নিয়ে আপত্তিকর ও অশালীন শব্দ ব্যবহার করেছেন। তিনি নরওয়েকে নির্দিষ্ট একটি অশালীন শব্দবন্ধের মাধ্যমে উল্লেখ করে দেশটির অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানো হবে না বলেও হুশিয়ারি দিয়েছেন। ট্রাম্পের এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। নরওয়ের রাজধানী ওসলোতে অবস্থিত নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্টের এমন আচরণকে শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মিশিগানে এক জনসভায় তিনি এই মন্তব্যগুলো করেন, যা তার রাজনৈতিক অবস্থানের আরও কঠোর রূপকে প্রকাশ করে।

সার্বিয়া ও ব্রাজিলের এই রাজনৈতিক পট পরিবর্তন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সাম্প্রতিক আচরণ বিশ্বরাজনীতিতে যে নতুন মেরুকরণের দিকে নির্দেশ করছে, তা নিয়ে এখন চলছে ব্যাপক আলোচনা। একদিকে যেখানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার হাতবদল হচ্ছে, অন্যদিকে সেখানে কূটনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্বনেতারা। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আগামী দিনগুলো বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে সেখানকার রাজনীতিতে যেসব ইস্যু সামনে আসছে, তা বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পৌর এলাকার পানির সংকট নিরসনে শোধনাগার চালুর দাবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
   
পৌর এলাকার পানির সংকট নিরসনে শোধনাগার চালুর দাবি

পৌর এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষের জন্য সুপেয় পানির প্রাপ্যতা বর্তমানে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে নির্মিত পানি শোধনাগারগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পৌর কর্তৃপক্ষের সরবরাহকৃত পানির ওপর নির্ভরশীল নাগরিকরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে গ্রীষ্ম মৌসুমে পানির সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, পৌর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব হিসাব থেকেই পানি সরবরাহের নাজুক চিত্রটি ফুটে উঠেছে। শহর এলাকায় বর্তমানে প্রতিদিন পানির চাহিদা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ লিটারের কাছাকাছি। অথচ কর্তৃপক্ষের বিদ্যমান সক্ষমতায় সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৫০ লাখ লিটার পানি। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ঘাটতি প্রায় ৭০ লাখ লিটার। পানির এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে সাধারণ মানুষকে বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা অনেকের জন্যই ব্যয়বহুল এবং অস্বাস্থ্যকর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পৌর এলাকায় অবকাঠামো থাকলেও দক্ষ জনবলের অভাবে পানি শোধনাগারগুলো অকার্যকর পড়ে থাকাটা চরম দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক। জনবল সংকটের কারণে প্রকল্পগুলো সময়মতো আলোর মুখ দেখছে না। যদি যথাযথ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনবল নিশ্চিত করা যায়, তবে শোধনাগারগুলো পুরোদমে চালু করা সম্ভব হবে। এটি করা গেলে একদিকে যেমন দৈনিক পানির সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের নাগরিক দুর্ভোগ লাঘব হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে, সরবরাহকৃত পানির পরিমাণ কম হওয়ার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে পানির মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পাইপলাইনে ত্রুটি এবং শোধনাগারের সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার বিষয়টিও সামনে আসছে। পৌর কর্তৃপক্ষের উচিত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শোধনাগার চালুর জন্য জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। এটি কেবল একটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন নয়, বরং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নগর পরিকল্পনায় পানি ব্যবস্থাপনাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটছে না। নতুন কোনো উৎস তৈরির চেয়ে বিদ্যমান অবকাঠামোকে সচল করাই এখন সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। পানি শোধনাগারগুলো আধুনিকায়ন এবং দক্ষ কারিগরি জনবল নিয়োগের মাধ্যমে এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পথ প্রশস্ত করা সম্ভব। পৌর কর্তৃপক্ষ যদি এখনই এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ না করে, তবে আগামী দিনগুলোতে পানির সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও এ বিষয়ে জোরালো ভূমিকা রাখা প্রয়োজন যাতে দাপ্তরিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং নাগরিকরা নিরবচ্ছিন্ন পানি সেবা পেতে পারেন।

সার্বিয়ার রাজনীতিতে বড় অঘটন: ভুচিসের দীর্ঘ শাসনে ইতি, তরুণ শক্তির উত্থান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
   
সার্বিয়ার রাজনীতিতে বড় অঘটন: ভুচিসের দীর্ঘ শাসনে ইতি, তরুণ শক্তির উত্থান

পূর্ব ইউরোপের দেশ সার্বিয়ার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় ধরনের পালাবদল ঘটেছে। দীর্ঘদিনের ক্ষমতার দাপট বজায় রাখা প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিসের দলের ভরাডুবি হয়েছে সাম্প্রতিক নির্বাচনে। এই ঘটনাকে দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, প্রথাগত রাজনৈতিক ধারার পরিবর্তে তরুণ প্রজন্মের মনোনীত প্রার্থীরা ব্যাপক জনসমর্থন পেয়ে বিজয় অর্জন করেছেন। এই জয় কেবল একটি নির্বাচনের ফলাফল নয়, বরং গত প্রায় দুই বছর ধরে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত সফলতা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

সার্বিয়ার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবং পরিবর্তন কামনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই ভোটের ফলাফলে। গত কয়েক বছর ধরে দেশটির তরুণ সমাজ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে সোচ্চার ছিল। অর্থনৈতিক সংকট, দুর্নীতি এবং গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হওয়ার অভিযোগে একাট্টা হয়েছিল তারা। সেই আন্দোলনের দাবিগুলোই এখন ব্যালট বাক্সে প্রতিফলিত হলো। নির্বাচনের আগের দিনগুলোতে রাজনৈতিক মাঠ উত্তপ্ত থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভোটাররা তাদের পছন্দ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, আলেকসান্দার ভুচিসের শাসনের ভিত্তি এতদিন যতটা সুদৃঢ় বলে মনে করা হতো, তা আসলে ভেতর থেকে বেশ নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল। তরুণদের নেতৃত্বে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, তাকে উপেক্ষা করার সুযোগ ছিল না। নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই নতুন প্রজন্মের প্রার্থীরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাদের প্রচারণায় ছিল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি এবং স্বচ্ছ প্রশাসনের বার্তা, যা প্রথাগত রাজনীতির বিপরীতে মানুষের মনে আশার আলো জাগিয়েছে।

ভোটারদের মধ্যে এবার অংশগ্রহণ ছিল বেশ লক্ষণীয়। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেশটির রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। এতদিন যে জনমত সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে ধারণা করা হতো, তা যে আসলে পরিবর্তনের অপেক্ষায় ছিল, বর্তমান ফলাফল তার স্পষ্ট প্রমাণ। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সরকারবিরোধী আন্দোলন যে শুধু রাজপথের স্লোগান ছিল না, বরং জনমতের গভীর একটি প্রতিফলন ছিল, তা এখন প্রমাণিত।

এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে পরবর্তী সরকার গঠন এবং দেশ পরিচালনা নিয়ে। তরুণদের জয়ের পর সার্বিয়ার রাজনৈতিক দলগুলো এখন নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। প্রেসিডেন্ট ভুচিসের সমর্থকরা এই পরাজয়কে কীভাবে দেখছেন এবং নতুন নেতৃত্ব দেশটিকে কোন পথে নিয়ে যাবেন, সেদিকেই এখন সবার নজর। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও সার্বিয়ার এই রাজনৈতিক পরিবর্তনকে গুরুত্বের সাথে দেখছে। ইউরোপের ভূ-রাজনীতিতে সার্বিয়ার অবস্থান কৌশলগত কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতি এবং অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণে কী কী পরিবর্তন আসে, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন বিশেষজ্ঞরা।

নির্বাচনের এই রায় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সার্বিয়ার মানুষ এখন আর পুরোনো রাজনৈতিক ধারায় ফিরে যেতে চায় না। তারা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চায় যেখানে তরুণদের কণ্ঠস্বর শোনা হবে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। সার্বিয়ার ভবিষ্যৎ এখন নতুন এই নেতৃত্ব এবং তাদের গৃহীত পদক্ষেপের ওপর অনেকাংশেই নির্ভর করছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা কোনো শাসকের বিরুদ্ধে তরুণ শক্তির এই জয় শুধু সার্বিয়া নয়, বরং পুরো অঞ্চলের গণতান্ত্রিক চর্চায় একটি নতুন বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।

সর্বশেষ
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অস্থিরতার ছাপ: ব্রাজিল ও সার্বিয়ার নির্বাচনে বড় পরিবর্তন, ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য পৌর এলাকার পানির সংকট নিরসনে শোধনাগার চালুর দাবি সার্বিয়ার রাজনীতিতে বড় অঘটন: ভুচিসের দীর্ঘ শাসনে ইতি, তরুণ শক্তির উত্থান পরিবেশ রক্ষা ও জাহাজভাঙা শিল্প: সরকারি নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন শেরেবাংলা ও কবি জসীমউদ্‌দীন: এক ঐতিহাসিক সম্পর্কের আখ্যান শাকিব খানের সঙ্গে কাজের প্রশ্নে মুখ খুললেন নায়িকা ব্রাজিলের রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন: লুলা দা সিলভার জয়কে গণতন্ত্রের সুরক্ষা হিসেবে দেখছেন সমর্থকরা ব্রাজিলের ক্ষমতায় ফিরলেন লুলা, নাটকীয় জয়ের মধ্য দিয়ে চতুর্থ মেয়াদের সূচনা উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল ২৯ অক্টোবর প্রকাশ
Advertisement