বিশ্বরাজনীতির আঙিনায় গত কয়েক দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল ছিল। একদিকে ল্যাটিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলের নির্বাচন, অন্যদিকে বলকান অঞ্চলের দেশ সার্বিয়ার রাজনৈতিক দৃশ্যপট—সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে যেন পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। এই পরিবর্তনের ঢেউয়ের মাঝেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কিছু মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নাটকীয় বিজয় পেয়েছেন লুলা দা সিলভা। দেশটিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী জাইর বলসোনারোকে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত করেছেন তিনি। এই জয়কে কেবল ব্যক্তিগত বিজয় হিসেবে দেখছেন না লুলা, বরং তিনি একে ব্রাজিলের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের সুরক্ষা হিসেবে অভিহিত করেছেন। নিজের বিজয় ভাষণে লুলা দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লুলার এই প্রত্যাবর্তন ব্রাজিলের পররাষ্ট্রনীতি এবং পরিবেশগত সুরক্ষা ইস্যুতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে ইউরোপের বলকান অঞ্চলের রাষ্ট্র সার্বিয়াতেও নির্বাচনের ফলাফলের আগেই বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন দেশটির দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী শাসক ভুচিস। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশের আগেই তিনি পরাজয় মেনে নিয়েছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষের মুখে এটি একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। সার্বিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনা সাধারণ মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলনের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই পরিবর্তনের আমেজ চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সৃষ্টি হয়েছে নতুন বিতর্ক। নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। জানা গেছে, নোবেল কমিটি তাকে শান্তি পুরস্কারের জন্য বিবেচনা না করায় ট্রাম্প রীতিমতো ক্ষুব্ধ। এই ক্ষোভ থেকে তিনি নরওয়েকে নিয়ে আপত্তিকর ও অশালীন শব্দ ব্যবহার করেছেন। তিনি নরওয়েকে নির্দিষ্ট একটি অশালীন শব্দবন্ধের মাধ্যমে উল্লেখ করে দেশটির অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানো হবে না বলেও হুশিয়ারি দিয়েছেন। ট্রাম্পের এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। নরওয়ের রাজধানী ওসলোতে অবস্থিত নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্টের এমন আচরণকে শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মিশিগানে এক জনসভায় তিনি এই মন্তব্যগুলো করেন, যা তার রাজনৈতিক অবস্থানের আরও কঠোর রূপকে প্রকাশ করে।
সার্বিয়া ও ব্রাজিলের এই রাজনৈতিক পট পরিবর্তন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সাম্প্রতিক আচরণ বিশ্বরাজনীতিতে যে নতুন মেরুকরণের দিকে নির্দেশ করছে, তা নিয়ে এখন চলছে ব্যাপক আলোচনা। একদিকে যেখানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার হাতবদল হচ্ছে, অন্যদিকে সেখানে কূটনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্বনেতারা। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আগামী দিনগুলো বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে সেখানকার রাজনীতিতে যেসব ইস্যু সামনে আসছে, তা বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ । ১২:১৪ অপরাহ্ণ