খুঁজুন
, ,

মরিনিওর শেষ এল‑ক্লাসিকোর নায়কদের বর্তমান অবস্থা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
মরিনিওর শেষ এল‑ক্লাসিকোর নায়কদের বর্তমান অবস্থা

মার্চ ২০১৩-এ রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মধ্যে শেষবারের মতো মুখোমুখি হওয়া এল‑ক্লাসিকো, জোসে মরিনিওর কোচিং ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে স্মরণীয়। সেই ম্যাচে রিয়াল ২-১ হারে, বার্সেলোনার একমাত্র গোলটি লিওনেল মেসি করেন। তবে সেই দিনের পর থেকে মরিনিওর রিয়াল দল আর বার্সেলোনার মুখোমুখি হয়নি; আজ ২০২৬ সালে তিনি আবার লা লিগার শীর্ষে বার্সেলোনার বিপক্ষে দাঁড়াতে যাচ্ছেন।

মরিনিওর শেষ এল‑ক্লাসিকোর দলটি ১১টি মুখ্য খেলোয়াড় নিয়ে গঠিত ছিল, যাদের প্রত্যেকেরই আজকের দিন পর্যন্ত আলাদা আলাদা পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে দুইজন—একজন গোলকিপার এবং একজন ডিফেন্ডার, যাদের নাম লোপেজ এবং সের্হিও রামোস।

মরিনিও যখন ২০১৩ সালে ইকার ক্যাসিয়াসকে দল থেকে বাদ দিয়ে লোপেজকে গোলকিপার হিসেবে বেছে নেন, তখন তা তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়। লোপেজ তখনও ৪০ বছর অতিক্রম করলেও, তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের গুণে মরিনিও তাকে বিশ্বাস করেন। লোপেজের ক্যারিয়ার তখন থেকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয়। রিয়াল মাদ্রিদে শেষ মৌসুমের পর তিনি স্পেনের রায়ো ভায়েকানোয় এক সিজন কাটিয়ে গ্লাভস জিতেন। অবসরের পরেও তিনি রিয়াল মাদ্রিদে ফিরে আসেন, তবে এবার কাস্তিয়া দলের গোলকিপিং কোচ হিসেবে। মূল দলের গোলকিপিং কোচ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হলে মরিনিও তাকে অস্থায়ীভাবে মূল দলের কোচিং স্টাফে যুক্ত করেন, ফলে লোপেজ আবারও মরিনিওর কাছাকাছি কাজ করার সুযোগ পান। আজ লোপেজ মরিনিওর সহকারী হিসেবে কাজ করছেন, যা তার দীর্ঘ ফুটবলের যাত্রার একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

অন্যদিকে, সের্হিও রামোসের গল্পটি তেমনই আকর্ষণীয়। ৪০ বছর বয়সের কাছাকাছি পৌঁছেছে রামোস, তবে তার ফুটবলের প্রতি উত্সাহ এখনও কমেনি। ডিসেম্বর মাসে মেক্সিকোর ক্লাব মন্টেরেতে ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে তিনি কোনো ক্লাবে যুক্ত নন। যদিও তার বুট জোড়া এখনও ত্যাগ করা হয়নি, তবে বর্তমানে তিনি ক্লাবহীন অবস্থায় আছেন। রামোসের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন অনুমান রয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেননি।

লাপস এবং রামোস ছাড়াও, মরিনিওর শেষ এল‑ক্লাসিকোর অন্যান্য খেলোয়াড়দের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ফুটবলের জগতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন স্বাভাবিক, এবং অনেকেই হয়তো এখন কোচিং, বিশ্লেষণ বা মিডিয়ার কাজ করছেন।

মরিনিওর ফিরে আসা এল‑ক্লাসিকোর প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান দলটি লা লিগায় ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে, এবং বার্সেলোনা আবারও শীর্ষে ফিরে আসার লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে ২০১৩ সালের সেই ম্যাচের স্মৃতি এবং সেই সময়ের খেলোয়াড়দের বর্তমান অবস্থা, বিশেষ করে লোপেজের সহকারী পদ এবং রামোসের ক্লাবহীন অবস্থা, এই ম্যাচকে অতিরিক্ত রঙিন করে তুলছে।

মরিনিও যখন আবারই বার্সেলোনার মুখোমুখি হবেন, তখন তিনি কেবল তার কৌশলগত দক্ষতা নয়, তার অতীতের সঙ্গে যুক্ত স্মৃতিগুলিকেও পুনরায় পরীক্ষা করবেন। লোপেজের সহায়তায় তিনি কীভাবে দলকে পরিচালনা করবেন, আর রামোসের অনুপস্থিতি কীভাবে রিয়ালের ডিফেন্সকে প্রভাবিত করবে—এগুলোই হবে এই ম্যাচের অন্যতম প্রধান প্রশ্ন।

কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্রদল নেতার মৃত্যু, আহত স্ত্রীসহ চারজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্রদল নেতার মৃত্যু, আহত স্ত্রীসহ চারজন

কুষ্টিয়ার মিরপুর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আবু সাঈদ জাকারিয়া নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি স্থানীয় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রবিবার দুপুরের দিকে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর আঞ্চলিক সড়কে চার মাইল নামক স্থানে একটি কাভার্ড ভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত আবু সাঈদ জাকারিয়া কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় জাকারিয়ার স্ত্রী রুকাইয়া খাতুনসহ মোট চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তারা হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা তাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, অটোরিকশাটি সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুর ১টার দিকে অটোরিকশাটি যাত্রী নিয়ে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। এসময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী কাভার্ড ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটিকে সরাসরি ধাক্কা দেয়। ধাক্কা লাগার পরপরই অটোরিকশাটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। সংঘর্ষের পর কাভার্ড ভ্যানের চালক ও তার সহকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তবে গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে কিনা বা চালক আটকের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিহত আবু সাঈদ জাকারিয়ার মৃত্যুর খবরে তার পরিবার ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার স্ত্রী ও অন্যদের সুস্থতা কামনা করেছেন স্থানীয়রা। এদিকে, সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ব্যস্ততম এই সড়কে প্রায়শই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসীর। নিয়ম না মেনে ভারী যান চলাচল ও চালকদের বেপরোয়া গতিই এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে ধারণা করছেন সচেতন মহল।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ শুরু করে। নিহত ছাত্রদল নেতার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো মামলা দায়েরের তথ্য জানা যায়নি, তবে পুলিশ জানিয়েছে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুষ্টিয়া-মেহেরপুর আঞ্চলিক সড়কে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকাবাসী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে চালকের গাফিলতি ও রাস্তার সংকীর্ণতাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

জনতা ব্যাংকের সার্ভারে সাইবার হামলার গুঞ্জন উড়িয়ে দিলো ব্যাংক কর্তৃপক্ষ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
জনতা ব্যাংকের সার্ভারে সাইবার হামলার গুঞ্জন উড়িয়ে দিলো ব্যাংক কর্তৃপক্ষ

জনতা ব্যাংক পিএলসির মূল সার্ভার সাইবার হামলার শিকার হয়নি বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি ব্যাংকটির ওয়েবসাইট নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি নিরসনে এমন দাবি করেছেন ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা। রোববার জনতা ব্যাংক পিএলসির জনসংযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে পাঠানো এক স্পষ্টীকরণ ও প্রতিবাদলিপির মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাংকটির সার্ভার হ্যাক হওয়ার যে খবর প্রচারিত হয়েছে তা সঠিক নয় এবং এর কোনো ভিত্তি নেই।

প্রতিবাদলিপিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি ছুটির দিনগুলোতে ব্যাংকের ওয়েবসাইটের রক্ষণাবেক্ষণ এবং গ্রাহকদের তথ্যের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ওয়েবসাইটটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, যা সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই পালন করা হয়। রক্ষণাবেক্ষণ শেষে পুনরায় ওয়েবসাইটটি চালু করা হয়েছে এবং বর্তমানে তা স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছে। ব্যাংকটির সার্ভার হ্যাক বা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার কবলে পড়ার বিষয়টি পুরোপুরি গুজব বলে দাবি করা হয়েছে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে জনতা ব্যাংক সবসময় গ্রাহকদের তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। যে কোনো ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতি বা সাইবার আক্রমণ থেকে সুরক্ষায় ব্যাংকটি আধুনিক প্রযুক্তির ফায়ারওয়াল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করে থাকে। সরকারি ছুটির দিনে সাধারণত সার্ভারের ছোটখাটো আপডেট বা প্যাচিংয়ের কাজ করা হয়, যাতে কর্মদিবসে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান করা সম্ভব হয়। সাধারণ মানুষকে এসব গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ব্যাংক প্রশাসন।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সাইবার আক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে কিছুটা উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করা যায়। এরই ধারাবাহিকতায় জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট নিয়ে এমন বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, তাদের ডিজিটাল অবকাঠামো সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে এবং লেনদেন বা তথ্য সংক্রান্ত কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি। গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে ব্যাংকটি তাদের নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রযুক্তির ঝুঁকি মোকাবিলায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সতর্ক থাকতে হচ্ছে। জনতা ব্যাংকের মতো বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের গুজবের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই যেকোনো প্রযুক্তিগত আপডেট বা রক্ষণাবেক্ষণের সময় গ্রাহকদের আগেভাগে জানিয়ে দেওয়া জরুরি বলে মত দিয়েছেন আইটি বিশেষজ্ঞরা। ব্যাংকটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কোনো বিশেষ প্রয়োজনে ওয়েবসাইট বা অনলাইন সেবা সীমিত রাখা হলে তারা গ্রাহকদের আগাম বার্তা প্রদানের বিষয়টি আরও গুরুত্ব সহকারে দেখবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত গুজব বা তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে ব্যাংকটির অফিসিয়াল ঘোষণার ওপর আস্থা রাখতে গ্রাহকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

লাক্কাতুরা চা-বাগানে তিন মুচির পাশে মুরারিচাঁদ কলেজ বন্ধুসভা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
লাক্কাতুরা চা-বাগানে তিন মুচির পাশে মুরারিচাঁদ কলেজ বন্ধুসভা

সিলেটের লাক্কাতুরা চা-বাগান এলাকায় জীবিকা নির্বাহের সংগ্রামে থাকা তিন মুচির পাশে দাঁড়িয়েছে মুরারিচাঁদ কলেজ বন্ধুসভা। উদ্যোগটির মাধ্যমে তাঁদের কাজ ও জীবনযাপনের বাস্তবতা কাছ থেকে জানার পাশাপাশি জীবিকা চালিয়ে যেতে সহযোগিতার চেষ্টা করা হয়েছে। উপকারভোগী তিনজন সিলেটের মাহমুদাবাদ এলাকার মুচি সম্প্রদায়ের বাসিন্দা।

বন্ধুসভার এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা এবং তাঁদের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা। মুচির কাজ দৈনন্দিন জীবনে অনেকের কাছেই পরিচিত হলেও এ পেশায় যুক্ত মানুষের জীবনসংগ্রাম, কাজের অনিশ্চয়তা ও জীবিকা টিকিয়ে রাখার চ্যালেঞ্জ সব সময় সামনে আসে না। তাঁদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা জানার মাধ্যমে সেই দূরত্ব কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে সংগঠনটি।

এ ধরনের উদ্যোগে সহায়তার পাশাপাশি মানুষের কথা শোনা ও তাঁদের পেশার প্রতি সম্মান দেখানোও গুরুত্বপূর্ণ। বন্ধুসভার কর্মসূচির উদ্দেশ্য হিসেবে জীবিকা নির্বাহে সহযোগিতা এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রামকে কাছ থেকে বোঝার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সমাজের প্রতিটি সৎ পেশার প্রতি সম্মান ও মানবিক মর্যাদার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াও উদ্যোগটির অংশ।

মুচির কাজ মানুষের ব্যবহার্য জিনিস মেরামত ও পরিচর্যার সঙ্গে জড়িত। এ পেশার দক্ষতা ও শ্রমের প্রয়োজন থাকলেও পেশাজীবীরা সামাজিকভাবে যথেষ্ট স্বীকৃতি পান কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বন্ধুসভার উদ্যোগ সেই বিবেচনায় কেবল কয়েকজন ব্যক্তিকে সহায়তা করার ঘটনা নয়; বরং তাঁদের শ্রমকে মর্যাদার চোখে দেখার আহ্বানও। তবে এই কর্মসূচিতে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তার পরিমাণ কত, কিংবা তা কীভাবে তাঁদের কাজে যুক্ত হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

লাক্কাতুরা চা-বাগান এলাকায় তিনজন মুচির পাশে দাঁড়ানোর ঘটনাটি স্থানীয় পরিসরে মানবিক উদ্যোগের গুরুত্ব সামনে এনেছে। প্রান্তিক পেশায় নিয়োজিত মানুষের প্রয়োজন একরকম নয়; তাঁদের জীবিকা, কাজের পরিবেশ ও পারিবারিক বাস্তবতা বুঝে সহায়তা করা জরুরি। তাই কেবল সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই নয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা জানা এবং তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও এমন উদ্যোগে তাৎপর্যপূর্ণ।

মুরারিচাঁদ কলেজ বন্ধুসভার উদ্যোগে এই দিকটির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—মানুষের জীবনসংগ্রামকে কাছ থেকে জানা। এতে পেশাজীবীদের প্রয়োজন সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয় এবং সহায়তার কাজকে তাঁদের বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার পথ খুলে যায়। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক সংগঠনের সদস্যদের জন্যও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হওয়ার অভিজ্ঞতা তৈরি হয়।

সমাজে পেশার মর্যাদা নিয়ে প্রচলিত ধারণা অনেক সময় মানুষের শ্রমকে আড়াল করে। অথচ সৎভাবে কাজ করে জীবিকা অর্জন করা প্রতিটি মানুষেরই সম্মান পাওয়ার অধিকার রয়েছে। মুচি সম্প্রদায়ের সদস্যদের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে বন্ধুসভা সেই নীতির কথাই সামনে এনেছে। পেশাকে ছোট-বড় করে দেখার বদলে শ্রম, দক্ষতা ও মানুষের মর্যাদাকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা এই উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য দিক।

তিন উপকারভোগী মাহমুদাবাদ এলাকার বাসিন্দা—এই তথ্য তাঁদের স্থানীয় পরিচয় স্পষ্ট করে। তবে তাঁদের ব্যক্তিগত নাম, বয়স, পারিবারিক অবস্থা বা প্রত্যেকের কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। তাই তাঁদের জীবন নিয়ে অনুমান না করে উদ্যোগটির ঘোষিত লক্ষ্যেই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন: প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম বোঝা এবং জীবিকা নির্বাহে পাশে থাকা। নির্দিষ্ট সহায়তার বিবরণ না থাকায় কর্মসূচির বাস্তব প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

স্থানীয় মানুষের সঙ্গে এমন যোগাযোগ নিয়মিত হলে সহায়তার প্রয়োজন কোথায়, তা আরও স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়। পাশাপাশি পেশাজীবীদের কাজ সম্পর্কে সমাজে প্রচলিত অবহেলা কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে একটি কর্মসূচি দিয়ে দীর্ঘদিনের জীবিকা-সংক্রান্ত সব চ্যালেঞ্জ দূর হয় না। উদ্যোগটির সামাজিক তাৎপর্য তাই সহায়তার পাশাপাশি সম্মান, মনোযোগ এবং মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলার মধ্যেও নিহিত।

মুরারিচাঁদ কলেজ বন্ধুসভার এই কার্যক্রমে তিনজন মুচির পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সৎ পেশার মর্যাদা নিয়ে ভাবনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রান্তিক মানুষের জীবনকে দূর থেকে বিচার না করে তাঁদের অভিজ্ঞতা জানা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করার যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা মানবিক সমাজ গঠনের আলোচনাকে এগিয়ে নেয়। লাক্কাতুরা চা-বাগান এলাকায় এই উদ্যোগ সেই বার্তাই দিয়েছে—পেশা যা-ই হোক, শ্রমজীবী মানুষের সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা সবার দায়িত্ব।

সর্বশেষ
কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্রদল নেতার মৃত্যু, আহত স্ত্রীসহ চারজন জনতা ব্যাংকের সার্ভারে সাইবার হামলার গুঞ্জন উড়িয়ে দিলো ব্যাংক কর্তৃপক্ষ লাক্কাতুরা চা-বাগানে তিন মুচির পাশে মুরারিচাঁদ কলেজ বন্ধুসভা শেয়ারবাজারে তদন্তের নামে ভীতি না ছড়ানোর জন্য তথ্যভিত্তিক সার্ভেল্যান্সের নির্দেশ অবিশ্বাস্য লড়াইয়ে জয়: শেষ আটে কলসিন্দুর ফুটবল একাডেমি মরিনিওর শেষ এল‑ক্লাসিকোর নায়কদের বর্তমান অবস্থা কসবায় শিশুকে দোকানে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, সালিসে চাপা দেওয়ার চেষ্টা অক্টোবর বিপ্লবের ১০৯ বছর: বিশ্বরাজনীতি ও ইতিহাসের মোড় ঘোরানো সেই অধ্যায় রাশেদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না আসিফ ৯৯৯ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করলেন অভিনেতা সুজাত শিমুল
Advertisement