কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্রদল নেতার মৃত্যু, আহত স্ত্রীসহ চারজন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ । ১:১৫ পূর্বাহ্ণ

কুষ্টিয়ার মিরপুর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আবু সাঈদ জাকারিয়া নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি স্থানীয় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রবিবার দুপুরের দিকে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর আঞ্চলিক সড়কে চার মাইল নামক স্থানে একটি কাভার্ড ভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত আবু সাঈদ জাকারিয়া কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় জাকারিয়ার স্ত্রী রুকাইয়া খাতুনসহ মোট চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তারা হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা তাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, অটোরিকশাটি সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুর ১টার দিকে অটোরিকশাটি যাত্রী নিয়ে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। এসময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী কাভার্ড ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটিকে সরাসরি ধাক্কা দেয়। ধাক্কা লাগার পরপরই অটোরিকশাটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। সংঘর্ষের পর কাভার্ড ভ্যানের চালক ও তার সহকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তবে গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে কিনা বা চালক আটকের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিহত আবু সাঈদ জাকারিয়ার মৃত্যুর খবরে তার পরিবার ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার স্ত্রী ও অন্যদের সুস্থতা কামনা করেছেন স্থানীয়রা। এদিকে, সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ব্যস্ততম এই সড়কে প্রায়শই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসীর। নিয়ম না মেনে ভারী যান চলাচল ও চালকদের বেপরোয়া গতিই এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে ধারণা করছেন সচেতন মহল।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ শুরু করে। নিহত ছাত্রদল নেতার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো মামলা দায়েরের তথ্য জানা যায়নি, তবে পুলিশ জানিয়েছে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুষ্টিয়া-মেহেরপুর আঞ্চলিক সড়কে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকাবাসী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে চালকের গাফিলতি ও রাস্তার সংকীর্ণতাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন