মার্চ ২০১৩-এ রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মধ্যে শেষবারের মতো মুখোমুখি হওয়া এল‑ক্লাসিকো, জোসে মরিনিওর কোচিং ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে স্মরণীয়। সেই ম্যাচে রিয়াল ২-১ হারে, বার্সেলোনার একমাত্র গোলটি লিওনেল মেসি করেন। তবে সেই দিনের পর থেকে মরিনিওর রিয়াল দল আর বার্সেলোনার মুখোমুখি হয়নি; আজ ২০২৬ সালে তিনি আবার লা লিগার শীর্ষে বার্সেলোনার বিপক্ষে দাঁড়াতে যাচ্ছেন।
মরিনিওর শেষ এল‑ক্লাসিকোর দলটি ১১টি মুখ্য খেলোয়াড় নিয়ে গঠিত ছিল, যাদের প্রত্যেকেরই আজকের দিন পর্যন্ত আলাদা আলাদা পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে দুইজন—একজন গোলকিপার এবং একজন ডিফেন্ডার, যাদের নাম লোপেজ এবং সের্হিও রামোস।
মরিনিও যখন ২০১৩ সালে ইকার ক্যাসিয়াসকে দল থেকে বাদ দিয়ে লোপেজকে গোলকিপার হিসেবে বেছে নেন, তখন তা তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়। লোপেজ তখনও ৪০ বছর অতিক্রম করলেও, তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের গুণে মরিনিও তাকে বিশ্বাস করেন। লোপেজের ক্যারিয়ার তখন থেকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয়। রিয়াল মাদ্রিদে শেষ মৌসুমের পর তিনি স্পেনের রায়ো ভায়েকানোয় এক সিজন কাটিয়ে গ্লাভস জিতেন। অবসরের পরেও তিনি রিয়াল মাদ্রিদে ফিরে আসেন, তবে এবার কাস্তিয়া দলের গোলকিপিং কোচ হিসেবে। মূল দলের গোলকিপিং কোচ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হলে মরিনিও তাকে অস্থায়ীভাবে মূল দলের কোচিং স্টাফে যুক্ত করেন, ফলে লোপেজ আবারও মরিনিওর কাছাকাছি কাজ করার সুযোগ পান। আজ লোপেজ মরিনিওর সহকারী হিসেবে কাজ করছেন, যা তার দীর্ঘ ফুটবলের যাত্রার একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
অন্যদিকে, সের্হিও রামোসের গল্পটি তেমনই আকর্ষণীয়। ৪০ বছর বয়সের কাছাকাছি পৌঁছেছে রামোস, তবে তার ফুটবলের প্রতি উত্সাহ এখনও কমেনি। ডিসেম্বর মাসে মেক্সিকোর ক্লাব মন্টেরেতে ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে তিনি কোনো ক্লাবে যুক্ত নন। যদিও তার বুট জোড়া এখনও ত্যাগ করা হয়নি, তবে বর্তমানে তিনি ক্লাবহীন অবস্থায় আছেন। রামোসের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন অনুমান রয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেননি।
লাপস এবং রামোস ছাড়াও, মরিনিওর শেষ এল‑ক্লাসিকোর অন্যান্য খেলোয়াড়দের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ফুটবলের জগতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন স্বাভাবিক, এবং অনেকেই হয়তো এখন কোচিং, বিশ্লেষণ বা মিডিয়ার কাজ করছেন।
মরিনিওর ফিরে আসা এল‑ক্লাসিকোর প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান দলটি লা লিগায় ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে, এবং বার্সেলোনা আবারও শীর্ষে ফিরে আসার লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে ২০১৩ সালের সেই ম্যাচের স্মৃতি এবং সেই সময়ের খেলোয়াড়দের বর্তমান অবস্থা, বিশেষ করে লোপেজের সহকারী পদ এবং রামোসের ক্লাবহীন অবস্থা, এই ম্যাচকে অতিরিক্ত রঙিন করে তুলছে।
মরিনিও যখন আবারই বার্সেলোনার মুখোমুখি হবেন, তখন তিনি কেবল তার কৌশলগত দক্ষতা নয়, তার অতীতের সঙ্গে যুক্ত স্মৃতিগুলিকেও পুনরায় পরীক্ষা করবেন। লোপেজের সহায়তায় তিনি কীভাবে দলকে পরিচালনা করবেন, আর রামোসের অনুপস্থিতি কীভাবে রিয়ালের ডিফেন্সকে প্রভাবিত করবে—এগুলোই হবে এই ম্যাচের অন্যতম প্রধান প্রশ্ন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ । ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ