নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার: লক্ষ্মীপুরে ১১ জেলের কারাদণ্ড
ইলিশ মাছের প্রজনন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার বর্তমানে নদীতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই বিধিনিষেধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনা নদীতে মাছ শিকারের অপরাধে ১১ জন জেলেকে আটক করেছে প্রশাসন। আটককৃতদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে তাদের হাতে নাতে ধরা হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একদল জেলে মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় জাল ফেলে ইলিশ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আরাফাত হুসাইনের নেতৃত্বে একটি অভিযানিক দল সেখানে উপস্থিত হয়। অভিযানে অবৈধভাবে মাছ শিকারের দায়ে জড়িত ১১ জন জেলেকে আটক করা হয়। পরবর্তী সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অভিযুক্ত প্রত্যেককে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। দণ্ডপ্রাপ্ত জেলেদের আইন অনুযায়ী কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অভিযান পরিচালনার সময় আটক জেলেদের কাছ থেকে ৬০ কেজি ইলিশ মাছ এবং দুই লাখ ৭৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ জাল জনসম্মুখে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এগুলো আর ব্যবহার করা সম্ভব না হয়। এছাড়া উদ্ধার করা ইলিশ মাছগুলো স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আইন অমান্য করে যারা নদী থেকে সম্পদ আহরণের চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর আইনি ব্যবস্থা চলমান থাকবে।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর মা ইলিশ রক্ষায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এই সময়ে জেলেরা নদীতে জাল নামাতে পারেন না। তবুও এক শ্রেণির অসাধু জেলে সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ইলিশ শিকারে লিপ্ত থাকে। স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের দাবি, জনসচেতনতার পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রজনন নিরাপদ করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। আটক জেলেদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
জেলেদের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা বলছেন, নিজেদের এবং মৎস্য সম্পদের দীর্ঘমেয়াদি উন্নতির স্বার্থে নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে নামা থেকে বিরত থাকা উচিত। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি এবং কঠোর অভিযানের ফলে ইলিশের অভয়াশ্রমগুলোতে শান্তি বজায় থাকবে এবং মাছের বংশবিস্তার নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]