মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে সব জল্পনার ইতি টানলেন ইরানি কূটনীতিক
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা এবং তাঁর জনসমক্ষে অনুপস্থিতি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা ও জল্পনা চলছিল। বিশেষ করে যখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তাঁর দেখা মিলছিল না, তখন থেকেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তবে অবশেষে এই বিষয়ে সরাসরি মুখ খুলেছেন একজন ইরানি কূটনীতিক। তিনি জানিয়েছেন, মোজতবা খামেনি কেবল সুস্থই নন, বরং তিনি নিয়মিত তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে পালন করে চলেছেন।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে ইরানের এই কূটনীতিক আবদুল মজিদ মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন। তিনি মোজতবার শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে করা প্রশ্নের সরাসরি জবাব দিতে গিয়ে বলেন, মোজতবা অত্যন্ত সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং তিনি শারীরিকভাবে খুব ভালো আছেন। কূটনীতিকের ভাষায়, তিনি খুব, খুব, খুব সুস্থ রয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্য মোজতবার গুরুতর অসুস্থতা কিংবা জনসমক্ষে আসতে না পারার মতো শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকার যাবতীয় গুজবকে নাকচ করে দিয়েছে।
মোজতবা খামেনির জনসমক্ষে উপস্থিতি কম হওয়া কিংবা পর্দার আড়ালে থাকা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকের তথ্য অনুযায়ী, মোজতবা তাঁর বাবার জানাজায় অংশ নিয়েছেন, যা তাঁর শারীরিক সক্ষমতার বড় প্রমাণ। যদিও জানাজায় তাঁর উপস্থিতি নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি বা অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু এখন তা পরিষ্কার হয়ে গেল। কূটনীতিকের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো গুরুতর অসুস্থতা বা অন্য কোনো শারীরিক জটিলতার কারণে তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে রয়েছেন—এমন তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
অনেকে মনে করেছিলেন, মোজতবা খামেনি হয়তো কোনো বিশেষ রাজনৈতিক বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন। তবে কূটনীতিক তাঁর বক্তব্যে জানিয়েছেন, তিনি অত্যন্ত সক্রিয় এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ঘাটতি নেই। এর আগে বিভিন্ন পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে মোজতবার স্বাস্থ্য নিয়ে নানা উদ্বেগজনক খবর প্রকাশিত হয়েছিল, যা মূলত ছিল অনুমাননির্ভর। ইরানি এই কূটনীতিকের দেওয়া এই নতুন তথ্য সেই সব প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ নেতার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ ধরনের গোপনীয়তা বা গুঞ্জন নতুন কিছু নয়। তবে সরকারি পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যাওয়ার ফলে এই মুহূর্তের জন্য মোজতবা সংক্রান্ত যাবতীয় ধোঁয়াশা দূর হলো বলেই মনে করা হচ্ছে। ইরান সরকার বা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া না হলেও, কূটনীতিকের এই সাক্ষাৎকারটি মূলত সেই অভাবটি পূরণ করেছে।
আবদুল মজিদ তাঁর বক্তব্যে আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মোজতবা খামেনি ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তাকে গুরুত্ব দেন এবং তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় নিজের কাজের পরিধিতে মগ্ন থাকেন। তাই জনসমক্ষে না আসাকে অসুস্থতার প্রমাণ হিসেবে দেখাটা ভুল। সার্বিক পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে, মোজতবা খামেনির সুস্থতা নিয়ে যে বিতর্ক বা শঙ্কা তৈরির চেষ্টা হয়েছিল, তা কূটনীতিকের এই স্পষ্ট বক্তব্যে কিছুটা হলেও স্তিমিত হবে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে যারা পর্যবেক্ষণ করেন, তাদের কাছে মোজতবার শারীরিক অবস্থা সবসময়ই একটি কৌতূহলের বিষয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনীতিকের এই আশ্বস্তকর মন্তব্য বুঝিয়ে দিয়েছে যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পরিবারে মোজতবা খামেনির অবস্থান এবং শারীরিক সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। আপাতত এই বিষয়টি নিয়ে চলমান যাবতীয় বিতর্কের ইতি টানার চেষ্টা করা হয়েছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]