খুঁজুন
, ,

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরার মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরার মৃত্যু

ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরা দীর্ঘ চিকিৎসার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ঢাকা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরা আর নেই। সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘ চিকিৎসার লড়াই শেষ করে তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেছেন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও সহপাঠীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বেশ কিছুদিন আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন চেসি ত্রিপুরা। একটি দ্রুতগামী ট্রাক তাকে ধাক্কা দিলে তিনি মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। দুর্ঘটনার পরপরই তাকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে তাকে জরুরি ভিত্তিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা নিয়ে আসা হয়। এরপর থেকেই তিনি ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। চিকিৎসকরা তাকে বাঁচিয়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত শারীরিক জটিলতায় তার অবস্থার উন্নতি হয়নি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর থেকেই চেসি ত্রিপুরার মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা থেকে উত্তরণের জন্য চিকিৎসকরা সব ধরনের চেষ্টা চালিয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় কোমায় থাকা বা অচেতন অবস্থায় থাকার কারণে এবং একাধিক শারীরিক জটিলতা তৈরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তার স্মৃতিচারণ করে অকাল প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে পড়াশোনার পাশাপাশি তার বন্ধু ও সহপাঠীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। তার মৃত্যু সংবাদ পৌঁছানোর পর ক্যাম্পাসের তার বন্ধু এবং পরিচিত মহলে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বা মেধাবী সন্তান হারানোর বেদনা মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। মৃতদেহের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে নিজ বাড়িতে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয়, তবে একজন শিক্ষার্থীর এ ধরনের অকাল মৃত্যু আবারও নিরাপদ সড়কের দাবিকে সামনে নিয়ে এসেছে। দায়িত্বশীল মহল থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে আবারও কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানানো হয়েছে। চেসি ত্রিপুরার আত্মার শান্তি কামনা করে পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে তার পরিচিতজন ও সহপাঠী মহল।

বরিশালের বাকেরগঞ্জে অটোরিকশা ও বাসের সংঘর্ষে ৬ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
   
বরিশালের বাকেরগঞ্জে অটোরিকশা ও বাসের সংঘর্ষে ৬ জনের মৃত্যু

বরিশালের বাকেরগঞ্জে একটি যাত্রীবাহী বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন নিহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে অন্যরা মারা যান। এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের সদস্যসহ নারী ও শিশু রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গতকাল বিকেলে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের বাকেরগঞ্জ উপজেলা এলাকায় দ্রুতগতির একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাকে চাপা দিলে হতাহতের এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অটোরিকশাটি যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী বাসটির সামনে পড়ে যায়। বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটি সজোরে অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। এতে অটোরিকশার ছয়জন যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারাত্মকভাবে জখম হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন এবং ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। দ্রুতগতিতে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতদের মধ্যে একজন নারী এবং তার শিশুসন্তান রয়েছেন। এছাড়া তাদের সাথে থাকা অপর এক নারীও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের এভাবে অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনায় পড়া বাসের চালক ও হেলপার ঘটনার পরপরই বাস রেখে পালিয়ে গেছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পুলিশ বাসটিকে জব্দ করেছে এবং এর চালককে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানা গেছে। ঘটনার তদন্তের স্বার্থে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এই রুটে চলাচলকারী অনেক বাসই বেপরোয়া গতিতে চলে এবং চালকদের অনেকেরই সঠিক লাইসেন্স বা অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে। প্রায়ই মহাসড়কে ছোট যানবাহনগুলোর সঙ্গে বাসের সংঘর্ষ ঘটছে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হচ্ছে না বলে এলাকাবাসী মনে করেন। ঘটনার পর বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘাতক বাসটি শনাক্ত করা হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মৃতদেহগুলো হস্তান্তর করা হবে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত রনিল বিক্রমাসিংহে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
   
শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত রনিল বিক্রমাসিংহে

গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটের মুখে থাকা দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন রনিল বিক্রমাসিংহে। দেশটির পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটের মাধ্যমে তিনি এই রাষ্ট্রীয় পদ লাভ করেন। ছয়বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহের এই জয় এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে এল, যখন শ্রীলঙ্কার সাধারণ মানুষ ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চরম অভাবে বিপর্যস্ত।

তীব্র গণআন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক অনিশ্চিত অবস্থায় পড়েছিল। রাজাপাকসের প্রাসাদে সাধারণ মানুষের নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও অভিযানের পর তিনি বিদেশে আশ্রয় নেন এবং পদত্যাগ করেন। এরপরই দেশটির পার্লামেন্ট নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে। এই নির্বাচনের ফলাফল দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার এই প্রক্রিয়ায় রনিল বিক্রমাসিংহে প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের দলের সমর্থন পেয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজাপাকসে অনুগত দলের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জগুলো পাহাড়সম। একদিকে দেশের দেউলিয়া অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা এবং অন্যদিকে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত রাখা, বিক্রমাসিংহের জন্য বড় পরীক্ষা হবে। শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে তিনি একজন অভিজ্ঞ ও দীর্ঘমেয়াদী নেতা হিসেবে পরিচিত হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা তার জন্য কঠিন এক কাজ।

দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচিত হওয়ার পর নতুন প্রেসিডেন্টের প্রথম কাজ হবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে অর্থনৈতিক সহায়তার আলোচনা এগিয়ে নেওয়া। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান স্বাভাবিক করার জন্য প্রয়োজনীয় কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হতে পারে তাকে। বিক্রমাসিংহের এই জয় শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। তবে জনগণের তীব্র অসন্তোষ এবং চলমান প্রতিবাদ কর্মসূচির মাঝে তিনি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন, তা সময়ই বলে দেবে।

শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টারি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এই নির্বাচনটি এমন এক সময়ে সম্পন্ন হলো যখন দেশটির সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর জনগণের আস্থা বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিক্রমাসিংহের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। তিনি যদি এই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উভয় সংকট সমাধানে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হন, তবে শ্রীলঙ্কার অস্থিরতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। এখন পুরো দেশ তাকিয়ে আছে তার পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর দিকে।

সংবাদপত্রের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নোয়াবের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
   
সংবাদপত্রের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নোয়াবের

দেশের সংবাদপত্র শিল্পে বর্তমানে এক কঠিন সময় অতিবাহিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে মুদ্রণ সামগ্রী, বিশেষ করে নিউজপ্রিন্টের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিবহনসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই শিল্পের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সংবাদপত্রের মানসম্মত প্রকাশনা অব্যাহত রাখতে দাম পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা নোয়াব। সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে, আগামী ২৫ জুলাই থেকে দেশের প্রতিটি সংবাদপত্রের বিক্রয়মূল্য প্রতি সংখ্যায় অন্তত দুই টাকা করে বৃদ্ধি করা হবে।

সংবাদপত্র শিল্পের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে নিউজপ্রিন্টের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হারের অস্থিতিশীলতা। মুদ্রণ শিল্পে ব্যবহৃত কালি, প্লেট, রাসায়নিক দ্রব্য এবং বিদ্যুতের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। এসবের সরাসরি প্রভাব পড়ছে পত্রিকার উৎপাদন খরচে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আগের মূল্যে পত্রিকা প্রকাশ করা মালিকপক্ষের জন্য এক প্রকার দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই টিকে থাকার লড়াইয়ে এই মূল্যবৃদ্ধি ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় ছিল না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নোয়াবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সংবাদপত্রের প্রতিটি কপি তৈরির খরচ ক্রমাগত বাড়লেও বিক্রয়মূল্য দীর্ঘকাল স্থিতিশীল রাখা হয়েছিল। পাঠকদের কথা চিন্তা করেই মালিকপক্ষ এতদিন এই বাড়তি খরচের ভার নিজেরা বহন করেছে। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে যে ব্যয় সংকোচন আর সম্ভব হচ্ছে না, তা অনেকটা স্পষ্ট। তাই সার্বিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে নোয়াবের সদস্যভুক্ত সংবাদপত্রগুলোর দাম বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মূল্যবৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ পাঠক এবং হকারদের মাঝে কিছুটা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সংবাদপত্র মালিকদের ভাষ্যমতে, মানসম্মত সাংবাদিকতা এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন নিশ্চিত করতে হলে এই বাড়তি খরচ মেটানোর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। পত্রিকা যদি ঠিকমতো প্রকাশিত না হয়, তবে পাঠকই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই গুণগত মান বজায় রেখে সংবাদপত্র শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতেই মূলত এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

এর আগেও বিভিন্ন সময়ে নানা সংকটের মুখে সংবাদপত্র শিল্পকে টিকে থাকার জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। সংবাদপত্রের দাম সাধারণত উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম থাকে, কারণ এই শিল্পের একটি বড় অংশ বিজ্ঞাপনের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। তবে বিজ্ঞাপনের বাজারেও এখন মন্দাভাব চলছে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিজ্ঞাপন বাজেট কমিয়ে দেওয়ায় আয়ের বড় একটি উৎস সংকুচিত হয়ে এসেছে। এই দ্বিমুখী সংকটে পড়ে পত্রিকাগুলোর আর্থিক ভিত্তি অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

আগামী ২৫ জুলাই থেকে যখন পাঠককে প্রতিটি পত্রিকার জন্য বাড়তি দুই টাকা গুনতে হবে, তখন প্রত্যাশা থাকবে যে এর বিনিময়ে তারা আরও মানসম্মত এবং নির্ভরযোগ্য সংবাদ পরিবেশনা পাবে। সংবাদপত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে পত্রিকাটি অন্তত তাদের উৎপাদন খরচ কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে সক্ষম হবে, যা এই শিল্পের স্থায়িত্বের জন্য জরুরি। বর্তমান অস্থিতিশীল অর্থনীতিতে সবকিছুর দাম বাড়লেও সংবাদপত্রের মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি বেশ সতর্কতার সাথেই নেওয়া হয়েছে।

দেশের সংবাদপত্র শিল্প এবং এর সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও হকারদের জীবনযাত্রা ও জীবিকা এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং এই শিল্পের অস্তিত্ব টিকে থাকা কেবল মালিকপক্ষের জন্য নয়, বরং দেশের গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সব পত্রিকা তাদের নতুন মূল্য পাঠকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেবে বলে আশা করা যাচ্ছে। পাঠক মহল বিষয়টি সহমর্মিতার সঙ্গে গ্রহণ করবেন বলে মনে করছেন গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা।

সর্বশেষ
বরিশালের বাকেরগঞ্জে অটোরিকশা ও বাসের সংঘর্ষে ৬ জনের মৃত্যু শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত রনিল বিক্রমাসিংহে সংবাদপত্রের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নোয়াবের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় যেসব মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি, তা স্থগিতের পরামর্শ অর্থনীতিবিদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরার মৃত্যু মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা ও নবজাতক উদ্ধার: চাঞ্চল্যকর দুই ঘটনা তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রে ৫৯২ কোটি টাকায় খনন করা হবে দুটি কূপ ইয়েমেনে সংঘাতের তীব্রতায় বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা পূর্বাচলে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই বন্ধুর প্রাণহানি, চিকিৎসাধীন এক জার্মানির ডুসেলডর্ফে প্রবাসী বাঙালিদের বর্ণিল শারদীয় উৎসব
Advertisement