বরিশালের বাকেরগঞ্জে একটি যাত্রীবাহী বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন নিহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে অন্যরা মারা যান। এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের সদস্যসহ নারী ও শিশু রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গতকাল বিকেলে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের বাকেরগঞ্জ উপজেলা এলাকায় দ্রুতগতির একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাকে চাপা দিলে হতাহতের এই ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অটোরিকশাটি যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী বাসটির সামনে পড়ে যায়। বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটি সজোরে অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। এতে অটোরিকশার ছয়জন যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারাত্মকভাবে জখম হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন এবং ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। দ্রুতগতিতে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতদের মধ্যে একজন নারী এবং তার শিশুসন্তান রয়েছেন। এছাড়া তাদের সাথে থাকা অপর এক নারীও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের এভাবে অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনায় পড়া বাসের চালক ও হেলপার ঘটনার পরপরই বাস রেখে পালিয়ে গেছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পুলিশ বাসটিকে জব্দ করেছে এবং এর চালককে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানা গেছে। ঘটনার তদন্তের স্বার্থে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এই রুটে চলাচলকারী অনেক বাসই বেপরোয়া গতিতে চলে এবং চালকদের অনেকেরই সঠিক লাইসেন্স বা অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে। প্রায়ই মহাসড়কে ছোট যানবাহনগুলোর সঙ্গে বাসের সংঘর্ষ ঘটছে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হচ্ছে না বলে এলাকাবাসী মনে করেন। ঘটনার পর বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘাতক বাসটি শনাক্ত করা হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মৃতদেহগুলো হস্তান্তর করা হবে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ । ৫:১৪ অপরাহ্ণ